ঘাটে ঘাটে উৎকোচ লাইসেন্স নবায়নের বড় বাঁধা! ময়মনসিংহের গৌরীপুরে নবায়ন ফিস জমা দিয়েও নির্ধারিত সময়ে লাইসেন্স পায়নি ৩টি ডায়াগনেস্টিক সেন্টার। অনুমোদনবিহীন রয়েছে বোকাইনগর ইউনিয়নের নাহড়া বাজারের মা প্যাথলজি। ৭টি ডায়াগনেস্টিক সেন্টারের নেই নবায়ন। বিজ্ঞ হাইকোর্টের নির্দেশনার পরেও স্বাস্থ্য ও প্রশাসন বিভাগের কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মারুফ বলেন, স্বাস্থ্যবিভাগের উদ্যোগ নিলে আমরা প্রশাসনিক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. ইকবাল আহমেদ নাসের বলেন, দপ্তরের কাজে ঢাকায় আছি। ইতোমধ্যে সবগুলোর ডায়াগনেস্টিক সেন্টারের তথ্য সংগ্রহ ও মনিটরিং করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

পৌর শহরের সিনেমা হল সড়কে ‘ময়মনসিংহ প্যাথলজি’র সাইন বোর্ড আর মূল্য তালিকায় রয়েছে ১৮৩টি টেস্টের নাম। তবে সেখানে মাত্র ৭/৮টি পরীক্ষার সুযোগ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্যাথলজির পরিচালক ও টেকনেশিয়ান মো. শামছুজ্জামান সুমন জানান, এখানে মাত্র কয়েকটা টেস্ট হয়। অনেকগুলো টেস্টের রক্ত, প্রশ^াব সংগ্রহ করে আমরা ময়মনসিংহ পপুলার থেকে টেস্ট করে এনে দেই। টেস্টের যে তালিকা আছে, এগুলোর যন্ত্রপাতি কিনলে অর্ধেক গৌরীপুর বিক্রি করলেও হবে না। প্রতিষ্ঠানটি ২০২০-২১অর্থ বৎসরের নবায়ন ফি জমা দেয়া আছে। তবে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের বেতন তালিকা দেখাতে পারেননি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনেই সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার। অনলাইনে আবেদন করেছেন তবে লাইসেন্স দেয়নি স্বাস্থ্য বিভাগ। প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, সনদপত্রের জন্য যাবতীয় কাগজপত্র জমা দেয়া হয়েছে। মা প্যাথলজি’র ২০১৮-১৯অর্থবৎসরে লাইসেন্স নবায়ন রয়েছে। মর্ডাণ ডায়াগনেস্টিক সেন্টারের ভিতরে এক্স-রে রুমে অরক্ষিত এক্স-রে মেশিন দেখতে ‘এক্স-রে’র কঙ্খাল। প্রতিষ্ঠানের টেকনিশিয়ান মহসিন হাবীব এ প্রতিনিধিকে জানান, এক্সরে রুমের দেয়াল ঠিক আছে, তবে এখন এক্স-রে হয়না। শুধু শহরের প্রান্ত ডায়াগনেস্টিক সেন্টার ও সোমা প্যাথলজির লাইসেন্স হালসন পর্যন্ত রয়েছে। নবায়ন নেই সাকীফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের।
এদিকে গৌরীপুর ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ল্যাব টেকনোলজিস্ট শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে রয়েছে রক্তের গ্রুপ পরীক্ষায় ‘ভুল’ হওয়ার অভিযোগ। বোকাইনগর ইউনিয়নের মানিকদি গ্রামের মোবারক হোসেনের স্ত্রী হাফিজা আক্তার (২১) এর রক্তের গ্রুপ ‘বি নেগেটিভ’। এ সেন্টার থেকে তাকে দেয়া রির্পোটে দেখা যায় ‘বি পজেটিভ’। এ প্রসঙ্গে শফিকুল ইসলাম জানান, রিয়েজেন্টর ত্রুটির কারণে এমনটা হতে পারে।
অপরদিকে উপজেলার গাজীপুরের মেডিল্যাব ডায়াগনেস্টিক সেন্টারের লাইন্সেস ২০১৮-১৯পর্যন্ত নবায়ন রয়েছে। শাহগঞ্জ বাজারের শাহগঞ্জ ডিজিটাল ডায়াগনেস্টিক সেন্টার লাইন্সেসের জন্য আবেদন করেন জানুয়ারি মাসে, যা এখন পর্যন্ত ঝুলে আছে। আনিকা ডিজিটাল ডায়াগনেস্টিক সেন্টারসহ সিংহভাগ প্যাথলজিতে সেই জনবল কাঠামো, নিয়োগপত্র ও টেকনেশিয়ানদের সনদপত্র যাছাই।
লাইসেন্স নবায়ন ও প্রাপ্তিতে দুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরেন একাধিক ডায়াগনেস্টিক সেন্টারের মালিক। তারা জানান, ডায়াগনেস্টিক সেন্টারের লাইসেন্সের আগে পরিবেশ, ট্রেড, কলকারখানা, সিভিল সার্জন ও ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদন ও সনদপত্র নিতে হয়। সরকারি ফিসের চেয়ে প্রতিটি দপ্তরে গুনতে হয় ১০ থেকে ২০গুণ টাকা।