হয়রানিমূলক ভৌতিক বিল ও মামলা, গৌরীপুরে বিদ্যুৎ বিভাগের ভুলে কৃষক জেলে!’ শিরোনামে দৈনিক যুগান্তরের প্রিন্ট সংস্করণে রোববার ও অনলাইন সংস্করণে ‘বিদ্যুৎ বিভাগের ভুলে কৃষক জেলে!’, দৈনিক বাহাদুর ডট কম, দৈনিক স্বজনেও ভিন্ন ভিন্ন শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। নিউজ দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সারাদেশকে শতভাগ ঘোষণার পূর্ব মুর্হুতে এমন সংবাদে বিদ্যুৎ বিভাগকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠে। রোববার (২০মার্চ/২০২২) ময়মনসিংহের যুগ্ম জেলা জজ রাজিবুল হাসান এর আদালত কৃষক এবিএম ঈশারুল্লাহকে জামিনে মুক্তি দিয়েছেন। ফলে ২৪দিন পর পরিবারে ফিরেছে উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের শ্রীধরপুর গ্রামের মরহুম মাওলানা আবুল বাশারের পুত্র কৃষক এবিএম ঈশারুল্লাহ!
ঈশারুল্লাহ’র ছোট ভাই ওমর ফারুক জানান, প্রকাশিত সংবাদ দেখে তার ভাইকে মুক্ত করার জন্য আইনগত সহযোগিতা দেন ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট নুরুল হক। তিনি রোববার বিজ্ঞ আদালতে জামিন আবেদন করেন। সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট নুরুল হক জানান,
বলেন, পত্রিকায় যখন দেখলাম, এই কৃষক ২০দিন ধরে জেলে আছেন। আর্থিকজ সামর্থ্যও নেই। তখন দৈনিক যুগান্তরের খবর দেখে আইনগত সহযোগিতা দিয়েছি। মানবিক আবেদনধর্মী এ ধরণের মানুষের উপকার করতে পারলে ভালো লাগে।
অপরদিকে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের শনিবার কৃষক এবিএম ঈশারুল্লাহ’র মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে এলাকাবাসী। মানববন্ধনে ঈশারুল্লাহ’র মুক্তি ও বিদ্যুৎ বিলের গ্রাহক হয়রানি বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। বক্তরা জানান, হয়রানিমূলক ভৌতিক বিদ্যুৎ বিল ও মামলা দিয়ে কৃষক এবিএম ঈশারুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। তিনি অসুস্থ্য ও দরিদ্র মানুষ, মামলা চালানো ও জামিন আবেদনের সামর্থ্যও নেই।
জানা যায়, উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের শ্রীধরপুর গ্রামের মরহুম মাওলানা আবুল বাশারের পুত্র এবিএম ঈশারুল্লাহ। ২০১২সনে সেচ কার্যক্রমের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ নেন। প্রথম বছরে তার বিদ্যুৎ বিল আসে ৯হাজার ১৭৩টাকা। এরপরে বিদ্যুৎ ব্যবহারও করেননি, বিলও দেননি। ২০১৪সালে ডিজিটাল মিটার স্থাপন ও বিল পরিশোধ করে বিদ্যুৎ সংযোগ নেয়ার জন্য পত্র দেয় বিদ্যুৎ বিভাগ। যেহেতু সেচ কার্যক্রম বন্ধ তাই তিনি আর বিদ্যুৎ বিভাগে যোগাযোগ করেনি। বিক্ষুব্দ হয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ মিটার খুলে নিয়ে যায় ও লাইন বিচ্ছিন্ন করে। বিদ্যুৎ লাইন, মিটার ও তার সবকিছু খুলে নিয়ে গেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। তারপরেও মার্চ/২১ বিল দেয়া হয়েছে ১লাখ ৮১হাজার ৯৯টাকা।