করোনাকালীন দুর্যোগের কারণে দ্বিতীয় দফায় বুধবার (২মার্চ/২০২২) খুলছে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ১৭৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ৩১হাজার ৭০৮জন শিক্ষার্থীকে বরণে বিদ্যালয় আঙ্গিনা, শ্রেণিকক্ষ এবং অভিভাবক ছাউনীকে সুসজ্জিত করা হয়েছে। এর মধ্যে বালিকা ১৬হাজার ৫৯জন ও বালক ১৫৬৪৯জন। উপজেলা শিক্ষা অফিসের উদ্যোগে প্রতিটি বিদ্যালয়ে বিতরণ করা হয়েছে কোভিড-১৯ স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার মনিকা পারভীন জানান, ১ম শ্রেণিতে ৬১৬৪জন, ২য় শ্রেণিতে ৬৫৯০জন, ৩য় শ্রেণিতে ৬৬৪১জন, ৪র্থ শ্রেণিতে ৬৪৯১জন ও ৫ম শ্রেণিতে ৫৮২২ ছাত্রছাত্রীকে বরণের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হয়েছে।
নওয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান জানান, শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ, চেয়ার, বেঞ্চ ও টেবিল, বিদ্যালয়ের ফ্লোরগুলো ব্লিচিং পাউডারযুক্ত পানি দিয়ে ধৌত করা হয়েছে। প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে মাস্ক, হাত ধোয়ার ব্যবস্থা।
অপরদিকে পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মুরাদ হোসেন, বালুয়াপাড়া পৌর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুমনা সফিনাজ লাবণী জানায়, বিভাগীয় দপ্তরের নির্দেশনা মোতালেব পাঠদানের উপযোগী করা হয়েছে প্রত্যেকটি ক্লাসরুম। আব্দুল ওয়াহেদ মেমোরিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ফারুকুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন পর শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরছে, কোমলমতি শিশুদের প্রাণের বাগানের এ যেন উল্লাস এবং উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। বড়ইবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাহিমা আক্তার রুমা জানান, স্বাধীনতার মাসে ক্লাসে ফিরছে শিক্ষার্থীরা, বঙ্গবন্ধু কর্ণার, শেখ রাসেল কর্ণারও সুসজ্জিত করা হয়েছে। শাহগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মমতাজ বেগম জানান, আমরা অভিভাবকদের সঙ্গে সমাবেশ করেছি। মা সমাবেশ করেছি এবং ব্যক্তিগতভাবে অভিভাবকদের অবহিত করা হয়েছে।
এ দিকে উপজেলা পরিষদ পাবলিক হলে উপজেলার ১৭৭টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের হাতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা উপকরণ তুলে দেন প্রধান অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার মনিকা পারভীন। সঞ্চালনা করেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু রায়হান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোফাজ্জল হোসেন খান, ভাইস চেয়ারম্যান সালমা আক্তার রুবী, উপজেলা ইউআরসি ইন্সট্রাক্টর মঞ্জুরা রহমান। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. হাদিউল ইসলাম, মো. মোজাহিদুল ইসলাম, আবু রায়হান, মো. আব্দুর রাশিদ, ফেরদৌসী জান্নাত খান, ফারজানা জান্নাত খান, আমিনুল্লাহ মমতাজি, সরযুবালা পৌর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আমজাত হোসেন খান, নওয়াগাঁয়ের মো. আব্দুল মান্নান, রামগোপালপুরের মাহমুদা জেসমিন, এমএ জলিলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জিনাত মাশরুরা ফাতেমা প্রমুখ। উপজেলা শিক্ষা অফিসার মনিকা পারভীন জানান, ১৭৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রত্যেক বিদ্যালয়ে ১৮০টি মাস্ক, ১০ কেজি ব্লিচিং পাউডার, ৬০টি সাবান ও ৫লিটার হ্যান্ডস্যানিটাইজার বিতরণ করা হয়েছে।