ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সহনাটী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মো. শামছুজ্জামান জামালের বিজয় কারচুপির মাধ্যমে ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ও পুণঃরায় ভোট গণনার দাবিতে মঙ্গলবার (২৮ ডিসেম্বর/২০২১) দুপুরে গৌরীপুর শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে প্রতিবাদ সমাবেশ করে। উপজেলা সদরের প্রায় ২০কিলোমিটার দূর থেকে এসে নারী-পুরুষ হাজার হাজার জনতা এ প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দেয়।
লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মো. শামছুজ্জামান জামাল বলেন, ২৬ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জনগণের ভোটে আমি নির্বাচিত হয়েছি। ব্যাপক কারচুপি, অনিয়ম ও সহিংসতার মাধ্যমে আমার বিজয় ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। ভালুকাপুর, ধোপাজাঙ্গালিয়া, পল্টিপাড়া ও রাইশিমূল কেন্দ্রে জাল ভোট প্রদান ও কর্মরত কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ভোটের হিসাবও বদলে দেয়া হয়েছে। ভালুকাপুর কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকের সালাহ উদ্দিন কাদের রুবেল পেয়েছিলো ১৭২৯ ভোট। সেখানে কারচুপির মাধ্যমে ১৮৯৯ ভোট দেখানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে নৌকা প্রতীকের বিজয়ী চেয়ারম্যান মো. সালাহ উদ্দিন কাদের রুবেল বলেন, আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। আমাকে জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। বরং তারাই কেন্দ্র দখল করে রেজাল্ট পাল্টানোর জন্য প্রশাসন ও নিরাপত্তায় নিয়োজিত বাহিনীর ওপর হামলা করা হয়েছে।

স্টেডিয়ামে লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থীর লোকজনের আগমনের খবর পেয়ে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে উপজেলা পরিষদের চারপাশের রাস্তায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মারুফ মাইকে ঘোষণা দেন, উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসনে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারী ব্যতিত কেউ ভিতরে প্রবেশ করতে পারবে না। উপজেলা প্রশাসনের প্রধান ফটকে ব্যারিকেড সৃষ্টি করা হয়।

দুপুর ২টা ১৫মিনিটের দিকে স্টেডিয়াম থেকে লোকজন বিক্ষোভ মিছিলসহ উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে ঢুকতে চাইলে তাদেরকে গৌরীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় গেইটে আটকে দেয়া হয়। লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী শামছুজ্জামান জামালকে বিজয়ী ঘোষণা করার দাবিতে সেখানেই রাস্তা অবরোধ করে নারী-পুরুষ রাস্তায় বসে পড়েন। এ কর্মসূচী চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য গৌরীপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে বিশেষ পুলিশ টিম দায়িত্ব পালন করে। সহনাটী ইউনিয়নের লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী শামছুজ্জামান জামাল ইউএনও’র নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন। পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এসে আন্দোলনরত জনতার উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মারুফ, গৌরীপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা পরিষদ সদস্য এইচএম খায়রুল বাশার, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. সোহেল রানা, গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ খান আব্দুল হালিম সিদ্দিকী। আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে ও প্রশাসনকে আল্টিমেটাম দিয়ে শামছুজ্জামান জামাল বলেন, ৩ঘন্টার মধ্যে প্রকৃত ফলাফল ঘোষণা করতে হবে। তা না হলে এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
অপরদিকে সহনাটী ইউনিয়নের পাছার বাজারে এ রির্পোট পাঠানো পর্যন্ত নৌকার সমর্থকদের সঙ্গে পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের কয়েকদফা ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।