ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সহনাটী ইউনিয়নের ধোপাজাঙ্গালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক শারমিন সুলতানাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে একই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক শাহনাজ পারভীনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চেয়ে সোমবার (১ নভেম্বর/২০২১) শারমিন সুলতানা উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট অভিযোগ দায়ের করেন।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার মনিকা পারভীন বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর/২০২১) বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনা তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অপর একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার উভয়পক্ষের সাক্ষ্যদের সাক্ষ্য গ্রহণ ও ভিকটিমের সাক্ষ্য নেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার মনিকা পারভীন।
বিদ্যালয়ের জমিদাতা সদস্য মো. শাহজাহান মিয়া জানান, বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক বিভাগের সহকারী শিক্ষক শাহনাজ পারভীন বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই বিলম্বে বিদ্যালয়ে আসা ও আগেভাগে চলে যাওয়া, উগ্র মেজাজ, এক শিক্ষার্থীকে মারধর করায় সজ্ঞাহীন হয়ে পড়া, ক্লাস রেখে অধিকাংশ সময় মোবাইলে ব্যস্ত থাকাসহ বিভিন্ন অনিয়ম করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সাথে খারাপ আচরণ শুরু করেন। এসব ঘটনায় গত বছর ৯ ফেব্রুয়ারিতে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও ৪২জন অভিভাবকের স্বাক্ষর সম্বলিত অভিযোগপত্র দায়ের করেন। তবে এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা শিক্ষা অফিস কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. দুলাল মিয়া জানান, পূর্বের অভিযোগের পরেও ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এ শিক্ষকের আচরণ আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে।
এদিকে অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ধোপাজাঙ্গালিয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক শারমিন আক্তার ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (পিটিআই) প্রশিক্ষণ নিতে ময়মনসিংহ আছেন। গত ২৮ অক্টোবর পিটিআই বন্ধ থাকায় সহকর্মীদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করতে বিদ্যালয়ে যান তিনি। এ সময় অফিস কক্ষে গেলে সহকারি শিক্ষক শাহনাজ তাকে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করেন।
শারমিন আক্তার বলেন, সৌজন্য দেখা করতে গিয়ে আমি শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত হয়েছি। কিন্ত কি কারণে তিনি এমন করলেন আমি বুঝতে পারছিনা। আমি এই ঘটনায় বিচার চাই।
এ বিষয়ে শাহনাজ পারভীন বলেন, পূর্ব থেকে শারমিন আপা আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করে আসছিলো, ঘটনার দিনেও দিনে প্রথমে আমাকে মারধর করে, এরপর আমিও তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করেছি। তবে প্রত্যক্ষদর্শী বিদ্যালয়ের ২জন সহকারী শিক্ষক ও অফিস সহকারী জানান, শাহনাজ পারভীন আপা রুমে এসে হঠাৎ করেই পারভীন আপাকে মারধর করে দৌড়ে বিদ্যালয় থেকে পালিয়ে চলে যান।