গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ঃ
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ছোট বোন রোজিনা খাতুনের (ছদ্মনাম) সঙ্গে বিয়ের প্রস্তুতি চলাকালে বাল্যবিয়ের অভিযোগে বিয়ে ভেঙ্গে দেয় প্রশাসন! বিয়ে না হওয়ায় সেই বরের বিরুদ্ধে কনের বড় বোন আছিয়া (ছদ্মনাম) ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ধারায় ভিকটিমের জবানবন্দিতে রয়েছে আছিয়ার স্বাক্ষর। বিবাহিত আছিয়া নিজেকে ৯ম শ্রেণির ছাত্রী, ডাক্তারী পরীক্ষা ও বিজ্ঞ আদালতে জবানবন্দি দেয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে রোববার (১৮ জুলাই/২০২১) তারিখে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বোকাইনগর ইউনিয়নের ইয়ারপুর গ্রামের আব্দুল বারেকের পুত্র মো. এনামুল হক বাবুকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। এনামুল হক বাবু গৌরীপুর সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
মামলা, ভিকটিমের পরিবার ও পুলিশ সূত্র জানায়, বোকাইনগর ইউনিয়নের দাড়িয়াপুর গ্রামের গাজী মামুদের বড়ইবাগানে এ বছরের ৩ এপ্রিল রাতে বিবাহের প্রলোভন দিয়ে ভিকটিমকে ইয়ারপুর গ্রামের আব্দুল বারেকের পুত্র মো. এনামুল হক বাবু (২০) ধর্ষণ করে। এছাড়াও একই স্থানে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করে বাবু। এ নিয়ে গ্রাম্য সালিশ দরবারে ভিকটিম এর সঙ্গে ৭ এপ্রিল বিয়ের দিন ধার্য্য হয়। ভিকটিমের পরিবারের অভিযোগ সেই দিন ছেলের বাবা পুলিশকে ও প্রশাসনকে মোবাইল ফোনে বাল্যবিয়ের কথা বলে বিয়ে ভেঙ্গে দেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্দ হয়ে ভিকটিমের মা বাদী হয়ে তার মেয়ে আছিয়াকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর মুহাম্মদ জামাল হোসেনও বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী আছিয়াকে ৮ এপ্রিল ২২ধারা জবানবন্দির জন্য বিজ্ঞ আদালতে ও ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফরেনসিক বিভাগে প্রেরণ করেন।
এদিকে মো. এনামুল হক বাবু’র পিতা মো. আব্দুল বারেক সাজানো ঘটনায় মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ এনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি দাবী করেন, তার ছেলের বয়স ১৭বছর এবং মেয়ের বয়স ১৬বছর হওয়ায় বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দেয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)। তার ছেলের বিরুদ্ধে ওই মেয়ের বড় বোনকে দিয়ে সাজানো মিথ্যা বানোয়াট মামলা দায়ের করে ছেলে ও তার পরিবারকে হয়রানি করা হচ্ছে।
সরজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, আছিয়া ৯ম শ্রেণির ছাত্রী ও অবিবাহিত নয়। ২০১৮সালের ৯ সেপ্টেম্বর তারিখে তার বিয়ে হয়েছে নেত্রকোণা জেলার মোহনগঞ্জ এলাকায়। রোজিনা খাতুনের সঙ্গে এনামুল হক বাবু’র ৭ এপ্রিল বিয়েও ঠিক করেন গ্রাম্য মাতাব্বরগণ। সে বিয়ে ভেঙ্গে দেয় প্রশাসন।
মামলার বাদী ভিকটিমের মা জানান, আমাদের অভিযোগ লেখার সময় ভুল হয়েছিলো। তা এখন সংশোধন করা হয়েছে। ভিকটিমের বাবা জানান, ছোট মেয়ের নামের স্থলে বড় মেয়ের নাম হয়েছিলো। তবে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের এখানেও সে ভুল নাম লিখেছে।
মামলার তদন্তকারী অফিসার সাবইন্সপেক্টর মুহাম্মদ জামাল হোসেন জানান, বাদীর লিখিত অভিযোগে ভুলক্রমে ভিকটিমের নামের স্থানে ছোট বোনের স্থলে বড় বোনের নাম লিপিবদ্ধ হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে, তদন্তে প্রকৃত ভিকটিমের নাম ও ঘটনা বেড়িয়ে আসবে। গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ খান আব্দুল হালিম সিদ্দিকী জানান, ভিকটিমের নাম সংশোধনের জন্য বিজ্ঞ আদালতে দরখাস্ত করা হয়েছে।