স্টাফ রিপোর্টার :
সুরিয়া নদীর মাঝি মাখন রবিদাস (৩৫)। গোদারা ঘাটে নৌকা পারাপার করে সংসার চালান। সম্প্রতি নদীতে সেতু নির্মাণ শুরু হলে দুই পাড়ের গ্রামবাসীর মুখে হাসি ফুটে উঠে। কিন্ত সেই হাসির আড়ালে রোজগার বন্ধের শঙ্কায় পড়ে মাখন।
মাখন মাঝি বলেন আমার ভিটেমাটি কিছু নেই। ঘাটে নৌকা পার করে পেট চালাই। সেতু হলে নৌকা চলবে না, রোজগার বন্ধ হবে। তখন পরিবার নিয়ে কোথায় যাবো এটাই দুশ্চিন্তা।
ময়মনসিংহের গৌরীপুরের মাওহা ইউনিয়নের নয়ানগর বাউশালী পাড়া ও নেত্রকোনার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের দুঘিয়া গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে সুরিয়া নদী। দুই পাড়ের ঘাটে নৌকায় মানুষ পারাপার করে সংসার চালান মাখন।
মাখনের বাড়ি নেত্রকোনা সদরের লক্ষীগঞ্জে। স্বাধীনতার পর মাখনের দাদা গণপত্র রবিদাস নয়ানগর বাউশালী পাড়া গোদারা ঘাটে খেয়া পারের কাজ নেয়। এরপর বংশানুক্রমে বাবা নবীন্দ্র রবিদাসের হাত ধরে খেয়া পারের পেশায় আসে মাখন।
সুরিয়া পাড়ে অন্যের জমিতে ঘর তুলে স্ত্রী ও পাঁচ বছর বয়সী স্কুল পড়ুয়া এক মেয়ে নিয়ে বসবাস করেন মাখন। তার মা মারা গেছে। বাবা থাকেন দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামে। তিনিও নদীর অন্য ঘাটে নৌকা পার করেন।
প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ঘাটে নৌকা পার করেন মাখন। বিনিময়ে ধানের মওসুমে গ্রামবাসী তাকে ধান দেয়। তবে গ্রামের বাইরের লোকজন নদী পার হলে ২ থেকে ৫ টাকা দিয়ে থাকেন। এতে যা আয় হয়ে সেটা দিয়েই সংসার।
জানা গেছে স্বাধীনতার পর থেকে সুরিয়া নদীর গোদার ঘাটে সেতু নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছিল দুই পাড়ের মানুষ। দাবি পূরণ না হওয়ায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে গ্রামবাসী নিজেরাই নদীতে স্টিলের সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ইতিমধ্যে নির্মাণ কাজ অধিকাংশ শেষ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকালে খোঁজ নিয়ে দেখা যায় স্বেচ্ছাশ্রমে গ্রামবাসী সেতুর পাঠাতন নির্মাণে কাজ করছে। পাশেই গোদারা ঘাটে নৌকা নিয়ে বসে আছেন মাখন। পারাপারের জন্য কেউ আসলে নৌকা নিয়ে ছুটে চলেন তিনি। তবে রোজগার বন্ধের শঙ্কায় তার চোখেমুখে দুশ্চিন্তার ছাপ।
সন্ধ্যায় সুরিয়া পাড়ে আলোচনায় বসে গ্রামবাসী। সেখানে ছুটে আসে মাখনও। সেতুর অগ্রগতি ও পরবর্তী করণীয় নিয়ে পরামর্শ হয়। কিন্ত সেতু নির্মাণের পর মাখনের জন্য গ্রামবাসীর করণীয় এটা নিয়ে কেউ কথা বলে না।
মাখন মাঝি বলেন অভাবের সংসারে আমার কোন পুজি নেই। নৌকা চালানো ছাড়া অন্য কাজ শিখিনি। সেতু নির্মাণের পর গ্রামবাসী যদি আমার পাশে না থাকে আমি পরিবার নিয়ে কোথায় যাবে, কি খাবে?।
গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন বলেন মাখনের তিন পুরুষ এই গোদারা ঘাটে খেয়া পার করে গ্রামবাসীর সেবা করেছে। তার কর্মসংস্থানের বিষয়টি নিয়ে আমরা ভাবছি। তবে হৃদয়বানরা যদি সহযোগিতার হাত বাড়ায় বিষয়টি অনেক সহজ হয়ে যায়।
টি.কে ওয়েভ-ইন