স্টাফ রিপোর্টার :
এইচএসসি পাশ করে চাকরির চেষ্টা না করেনি হাতেম খান পাঠান। স্বাবলম্বী হতে মুদি দোকান দেন। সেখান থেকে ভাল আয় হতে থাকে তার। কিন্ত করোনার ধাক্কায় লোকসান পড়ে দোকান ছেড়ে দেন। ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেন ছাগল পালন। কঠোর পরিশ্রমে অল্প সময়ে লাভের মুখ দেখতে শুরু করেন হাতেম। ছাগল বিক্রির টাকায় আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে সংসারে তার ফিরে আসে স্বচ্ছলতা।
হাতেম খান পাঠানের বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরীপুরের সদর ইউনিয়নের ইছুলিয়া গ্রামে। বাবা কৃষক সিদ্দিকুর রহমান। এক ভাই এক বোনের মধ্যে হাতেম সবার বড়।
কথা হয় হাতেম খান পাঠানের সাথে। কথা প্রসঙ্গে মুদি দোকানী থেকে ছাগলের খামারী হওয়ার গল্পটা বের হয়ে আসলো তার মুখ থেকেই।
হাতেম খান বলেন ২০০৩ সালে এইচএসসি পাশ করে চাকরির চেষ্টা করিনি। স্বাবলম্বী হতে পৌর শহরে উত্তর বাজারে মুদি দোকান দেই। ভালই চলছিল দোকানটি। কিন্তু গত বছরের মার্চে করোনাকালে দোকান বন্ধ হয়ে যায়। ঘুরে দাঁড়াতে বন্ধু ও রাজনৈতিক সহকর্মী জেলা পরিষদ সদস্য এইচএম খায়রুল বাসার, জুলফিকার আলী, নাজমুল হাসান ডালাছ ও শহীদুল ইসলাম অনুপ্রেরণাতে গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে ১২ হাজার টাকায় ২ টি ছাগল কিনে বাড়িতে পালন শুরু করি। এরপর ধীরে ধীরে ছাগলের সংখ্যা বাড়তে থাকে।
হাতেম নিজ বাড়িতে টিনশেড ঘর ও মাচা দিয়ে ছাগলের খামার করেছেন। খামারে ব্ল্যাক বেঙ্গল ও রামছাগল পালন করা হয়। ঘাসের চাহিদা নেপিয়ার পাংচং ঘাস চাষাবাদ করছেন। প্রতিদিন হাতেম নিজেই ছাগলগুলো নিয়ে মাঠে যান। নিজ হাতে যত্ন করে ঘাস খাওয়ান। কোনও ছাগল অসুস্থ হয়ে পড়লে পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেন। পরম যত্নে খুব দ্রুত বড় হয়ে উঠে তার ছাগল। বিক্রিতেও ভালো দাম পান।
দাম্পত্য জীবনে হাতেমের স্ত্রী ও এক মেয়ে রয়েছে। স্ত্রী তানিয়া আক্তার একজন গৃহিনী। মেয়ে মাইশা মেহেরজাবিন স্থানীয় কিন্ডার গার্ডেনে কেজি টুতে পড়ে। ছাগল বিক্রির আয়েই চলে হাতেমের সংসার ও সন্তানের পড়াশোনা খরচ।
খামার গড়ার পর হাতেম গত সাত মাসে প্রায় ২৫টি ছাগল লক্ষাধিক টাকায় বিক্রি করেছে। আয় বাড়াতে সেই টাকায় সম্প্রতি গ্রামে দিয়েছে মুদি দোকান। বর্তমানে তার খামারে ব্ল্যাক বেঙ্গল ও রামছাগল মিলিয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক ৮টি ছাগল রয়েছে। কয়েক মাসেই ছাগলগুলো বংশবৃদ্ধি করে দ্বিগুণ হবে।
হাতেম খান পাঠান বলেন আমি তাঁতী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও সেই সুবিধা নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুবকদের শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার যে পরামর্শ দিয়েছেন। আমি সেই পথে হেঁটে খামার দিয়ে নিজের ভাগ্য বদল করেছি।
জেলা পরিষদ সদস্য এইচ এম খায়রুল বাসার বলেন হাতেম খান পাঠান অল্প সময়ে ছাগলের খামার করে ভাগ্যবদল করেছেন। তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা। উদ্যোক্তা হতে আগ্রহী বেকার- ছেলে- মেয়েদের তাকে অনুসরণ করা উচিত।
টি.কে ওয়েভ-ইন