আজ রবিবার ২৭শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১০ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম:
গৌরীপুর পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সালাম আর নেই গৌরীপুর গণপাঠাগারের উদ্যোগে বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী পালিত গৌরীপুরে সুইচ গেইটে পানিবন্দী ৪ গ্রামের ফসল, কৃষকদের ক্ষোভ চরমে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের শান্তিপূর্ণ বসবাস নিশ্চিত করতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী দেশে টানা দুই দিন কোনো লোডশেডিং হয়নি: বিদ্যুৎ বিভাগ নেত্রকোনায় পানিতে তলিয়ে গেছে কৃষকের স্বপ্ন গৌরীপুরে গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত আপনারা ভাববেন, আপনারা একজন শিক্ষক, কোনো দলের নেতা নন :ডেপুটি স্পিকার ময়মনসিংহ আইনজীবী সমিতির সব পদে বিএনপিপন্থিরা বিজয়ী লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলায়ও মনোযোগ দিতে হবে : তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী
||
  • প্রকাশিত সময় : মে, ২১, ২০২১, ১:৪০ অপরাহ্ণ




মাকে নিয়ে ছোটগল্প : আজম জহিরুল ইসলাম

চার সন্তানের জনক মাজেদ আলী ছিলেন একজন গরিব স্কুল মাস্টার। তার স্ত্রী মাজেদা বেগম একজন গৃহিনী। একের পর এক চারটি সন্তান জন্ম নিয়ে ঘর আলোকিত করে। সন্তানদের মানুষ করতে বাবা-মাকে কঠোর পরিশ্রমে নামতে হয়। বাড়িভিটে ছাড়াও অল্প কিছু ধানের জমি ছিলো মাজেদ আলীর। ছেলেমেয়ের ভবিষ্যত চিন্তা করে সে জমিও বিক্রি করে দেন এক সময়। তবু ছেলেমেয়েদের মানুষ হওয়া চাই। জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।
তিন ছেলে আর এক মেয়ে নিয়ে মাজেদ আলীর সংসার। স্কুল থেকে অবসরে যাওয়ার পর পেনশনের সামান্য টাকায় সংসারের হাল ধরে রাখেন তিনি। ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার খরচ, স্কুলের বেতন, বই-খাতা, জামা-কাপড় ইত্যিাদি কিনে দিতে হিমসীম খেতে হয় মাজেদ আলীকে। তারপরেও তিনি দমে যাননি, উৎসাহ হারাননি। এমনি অবস্থায় শেষ সম্বল ধানের জমিটুকুও চলে যায় তার হাত ফসকে। স্বামীর এই সিদ্ধান্তের ঘোরবিরোধী ছিলেন মাজেদা বেগম। তিনি জমি বিক্রির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করতেন।
: দেখেন, জমি বিক্রি করে পড়ালে শেষে আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে। এমন একদিন আসবে, ভিক্ষার ঝুলি কাঁধে নিয়ে আমাদের রাস্তায় নামতে হতে পারে।
স্ত্রীর কথায় মুছকি হাসেন মাজেদ আলী। বলেন, ‘এমন দিন আসুক, এটা আমি চাই না। মানুষের জমি থাকে কিসের জন্য? ছেলেমেয়েরা হলো সোনার টুকরো, বুকের মানিক। ওদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারলে এ রকম বিঘা বিঘা জমি ক্রয় করা যাবে। তখন আমাদের চাওয়া-পাওয়ার অভাব থাকবে না।’
চার ছেলেমেয়ের উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করতে গিয়ে সবকিছু উজাড় করে দিলেন মাজেদ আলী। তবু তিনি খুশি, সন্তানরা উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে স্ব স্ব কর্মে যোগদান করেছে। বড় ছেলে আমান অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী। একটি নামকরা কলেজের লেকচারার সে। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ওখানেই স্থায়ী বাসিন্দা। দ্বিতীয় ছেলে জামান কানাডায় কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সুখেই দিনযাপন করছে সে। তৃতীয় সন্তানটি মেয়ে, নাম সালমা। উচ্চশিক্ষা লাভের পর এক বিদেশীকে বিয়ে করে এখন সে আমেরিকার স্থায়ী বাসিন্দা। সবার ছোট ছেলে নোমান বিমানবন্দরে কাস্টম্স অফিসার। বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে অনেক টাকা রোজগার তার।
বাবা মাজেদ আলীর কথা অক্ষরে অক্ষরে ফলেছে। স্ত্রীকে খুশি করতে গিয়ে তিনি প্রায়ই বলতেন, মানুষের জমি থাকে কিসের জন্য? ছেলেমেয়েরা হলো সোনার টুকরো, বুকের মানিক। ওদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারলে এ রকম বিঘা বিঘা জমি ক্রয় করা যাবে। তখন আমাদের চাওয়া-পাওয়ার অভাব থাকবে না।’
কিন্তু চরম দুর্ভাগ্য মাজেদ আলীর। ছেলেমেয়ের সাফল্য, সুনাম ও কর্মযজ্ঞ কিছুই দেখে যেতে পারলেন না তিনি। তার আগেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পারপারে পাড়ি জমাতে হয় তাকে। কিন্তু তার অকৃত্রিম চেষ্টা ও নিরলস শ্রম বৃথা যায়নি। তার সারা জীবনের পরিশ্রম, সাধনা ও প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। সার্থক হয়েছে তার সব চাওয়া-পাওয়া। ছেলেমেয়ের এই অভাবনীয় সাফল্যে এলাকার মানুষ খুব খুশি। পিছিয়েপড়া এই গ্রামটি এক সময় সাধারণ মানুষের আলোচনায় মুখর হয়ে উঠে। দূর-দূরান্ত থেকে বাবা-মাকে দেখতে ছুটে আসে উৎসূক জনতা। সন্তানদের সাফল্যে স্থানীয় একটি এনজিও মাজেদা বেগমকে ‘রতœগর্ভা মা’ হিসেবে সংবর্ধিত করে। নগদ অর্থসহ নানা উপঢৌকন তুলে দেয়া হয় মাজেদা বেগমের হাতে।
এমনি করে দিন যেতে থাকে রতœগর্ভা মা মাজেদার। বুড়িগঙ্গা দিয়ে অনেক জল গড়ায়। কিন্তু তার সোনার টুকরো সন্তানরা মায়ের খোঁজখবর নেয় না। অসুস্থ মা স্বামীর ভিটেবাড়ি আঁকড়ে ধরে একা একা দিন কাটায়। মাজেদা বেগমের এক দুঃসম্পর্কের নাতনি মানবতার খাতিরে তার দেখাশোনা করে। হাজেরা না¤িœ ওই মহিলা তাকে নানি বলে ডাকে। সে নিজে খেলে নানিকেও খেতে দেয়, নিজের হাতে গোসল করায়। ভেজা কাপড় রোদে শুকাতে দেয়। কিন্তু মায়ের সেই ভেজা চোখ কখনো শুকায় না। সন্তানদের কথা চিন্তা করে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন তিনি।
মায়ের দুর্দিনে তার সন্তানরা পাশে নেই। সন্তান জীবিত থেকেও ‘মা’ ডাক শোনা থেকে বঞ্চিত তিনি। বার্ধক্য রোগ জেঁকে বসেছে তার সারা শরীরে। উঠতে-বসতেও তার কষ্ট। কোনো কিছু খেতেও তার ইচ্ছে হয় না। একটি স্যাঁতস্যাঁতে ঘরে তার বসবাস। যন্ত্রণাদগ্ধ মাজেদা বেগম আল্লাহকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমাকে তুমি উঠিয়ে নিয়ে যাও মামুদ। আর বাঁচতে ইচ্ছে করে না আমার।’
এদিকে ছোট ছেলে নোমান একদিন তার স্ত্রীকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসে। বাবার পাঁচ কাঠার বাড়িটি তার খুব দরকার। সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করে বাণিজ্যের হাট বসাবে। মা যখন জীবিত, তাকে বশীভূত করে পুরো জমিটাই তার নামে লিখে নেবে। প্রয়োজনে মাকে তার সাথে নিয়ে যাবে কিংবা কোনো বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসবে।
দামি প্রাইভেট কারে চড়ে স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে আসে নোমান। তার গাড়ির শব্দ শুনে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসে। গাড়ি থেকে নেমে বাড়ির দিকে দৃষ্টি রেখে অবাক হয় নোমান। একি! এ যে একটি অন্যচিত্র, ভিন্ন পরিবেশ। বাড়ির সামনে একটি সাইন বোর্ড ঝুলানো। তাতে স্পষ্টাক্ষরে লেখা, ‘রতœগর্ভা মাজেদা এতিমখানা।’ সাইন বোর্ড দেখে নোমান হতাশ হয়ে পড়ে। রাগে-ক্ষোভে সে উত্তেজিত হয়। তার স্বপ্নের পাখিরা উড়ে পালায় বহু দূরে। তার সারা জীবনের স্বপ্ন-সাধ ভেঙে খান খান হয়ে যায়।
এ সময় মধ্যবয়সী একটি লোক তার কাছে এগিয়ে আসে। নাম তার রজব মিয়া। অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তার দিকে।
: যদি আমার ভুল না হয়, তাহলে তুমি মাজেদ মাস্টারের ছোট ছেলে নোমান। আর উনি তোমার স্ত্রী…।
: জি¦ চাচা, আমি তারই ছোট ছেলে নোমান। কিন্তু আমাদের বাড়িতে এই সাইন বোর্ডটি কে লাগিয়েছে? আর আমার মা-ই বা কোথায়?
: সে অনেক কথা বাবা। তোমার মাকে এক ভদ্রলোক দত্তক নিয়ে গেছেন। আর তোমার মা-ই বাড়ির জমিটুকু লিখে দিয়ে গেছেন এতিমখানার জন্য। এই জমি এখন তোমাদের না, নির্মাণাধীন এতিমখানার।
: আমার মাকে ভদ্রলোক দত্তক নেবেন কেনো? আমরা ভাইবোনরা কি মরে গেছি?
: তোমার মায়ের কাছে তোমরা এখন মৃত। যে সন্তান মাকে অবহেলা করে, মাকে ভুলে যেতে পারে, তাকে অকৃতজ্ঞ সন্তান ছাড়া আর কিছু ভাবা যায় না। যদিও আমার কথাগুলো অত্যন্ত রূঢ-কর্কশ, কিন্তু এর মাঝে কঠিন বাস্তবতা লুকিয়ে আছে।
রজব মিয়ার কথাগুলো তীক্ষ্ম ফলার মতো নোমানের বুকে এসে বিদ্ধ হয়। সে মনে মনে ভাবে, অপরাধ তারই। সে পাপী, অপরাধী। এ অপরাধের মাফ নেই, পাপের ক্ষমা নেই!
নোমান কথা না বাড়িয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। গাড়ি চালিয়ে সোজাসুজি পৌঁছে যায় তার মায়ের ঠিকানায়। কৃত অপরাধের জন্য সে মায়ের পা ধরে ক্ষমা চাইবে। তারপর মাকে সাথে করে নিয়ে যাবে ঢাকাস্থ তার নিজের বাসায়।
এ কথা ভাবতে ভাবতে নোমান সস্ত্রীক হাজির হয় ইঞ্জিনিয়ার মালেক সাহেবের বাসায়। পরিচয় পাওয়ার পর মালেক সাহেব তার বেডরুমে বসতে দেন। এরপর মালেক সাহেব ঘটনার আদ্যপান্ত খুলে বলেন নোমানকে।
: কিছুদিন আগে আপনার মায়ের দুর্দশার সচিত্র কাহিনী একটি জাতীয় পত্রিকায় ছাপা হয়। খবরটি পড়ে পাঠকদের মনে প্রচ-ভাবে দাগ কাটে। আমি স্ত্রীকে নিয়ে আপনাদের বাড়িতে চলে আসি। মায়ের বিধ্বস্ত চেহারা দেখে আমার চোখে জল আসে। আমার স্ত্রীও কান্নায় ভেঙে পড়ে। দু’জনেরই মনে হতে থাকে, উনি আমাদেরই মা। তারপর স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকার মুরুব্বিদের জানিয়ে আমাদের বাড়ি নিয়ে আসি আপনার মাকে। মানুষ শিশুপুত্র বা কন্যাসন্তান দত্তক নেয়, আমি নিয়েছি একজন মাকে দত্তক। বলেন, কাজটা ভালো করিনি নোমান?
মালেক সাহেবের কথায় নোমানের দু’চোখ জলে সিক্ত হয়। কি উত্তর দেবে সে ভেবে পায় না। মালেক সাহেব আবার বলতে শুরু করেন। ‘আমরা স্বামী-স্ত্রী তাকে মায়ের মতো সম্মান করি এবং মা বলেই ডাকি। আমার ছোট ছেলেটা তাকে দাদু বলেই সম্বোধন করে। প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে চিকিৎসা ও সেবা দেয়ার পর তিনি এখন ভালোই আছেন। তিন বেলাই খেতে পারেন তিনি। অবাক করার বিষয় হলো, কারো সাহায্য ছাড়াই তিনি এখন চলাফেরা করতে পারেন। বাসার উঠোনে নাতিকে নিয়ে খেলতেও পারেন।’
: বেয়াদপি মাফ করবেন মালেক সাহেব। আপনি আমার মায়ের জন্য অনেক কিছু করেছেন। চিকিৎসা ও সেবা দিয়ে সুস্থ করে তুলেছেন। এ জন্যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং বিন¤্র শ্রদ্ধা জানাই আপনাকে। আসলে জানেন কি মালেক সাহেব, ভুলটা আমারই। যেহেতু আমি দেশের ভেতরে থাকি, মায়ের খোঁজখবর নেয়া উচিত ছিলো আমার। এ জন্যে আমি লজ্জিত। অন্য ভাইবোনরা তো দেশের বাইরে থাকে। তাদের নিয়ে আমি মন্তব্য করতে চাই না।
: বুঝতে পারছি নোমান সাহেব। আমি এখন আপনার জন্য কি করতে পারি?
: আগে আমার প্রাণপ্রিয় মাকে দু’চোখ ভরে দেখবো। তারপর সাথে করে তাকে ঢাকার বাসায় নিয়ে যাবো। জীবনে অনেক ভুল করেছি, আর ভুল করতে চাই না।
নোমানের কথায় মনে মনে হাসলেন ইঞ্জিনিয়ার মালেক। কিন্তু তাকে বুঝতে দিলেন না। এই মা এখন সেই মায়ে নেই। তার মধ্যে অনেক পরিবর্তন এসেছে। তাকে সাথে করে নিয়ে যাওয়া দূরের কথা, নোমানের সামনেই যাবে না মা। কারণ, আমি পেটের সন্তান না হলেও পেটের চেয়ে অনেক কিছু। মাকে আমি ভালো করে চিনি। তিনি মচকাবেন; কিন্তু ভাঙবেন না।
: প্লিজ মালেক সাহেব, মাকে গিয়ে আমার কথা বলুন যে, ঢাকা থেকে আপনার ছোট ছেলে নোমান এসেছে আপনাকে সাথে করে নিয়ে যেতে।
মালেক সাহেব দেরি না করে বাসার ভেতরে গেলেন। গিয়ে সব কথা খুলে বললেন মাকে।
প্রতিক্রিয়ায় মা মাজেদা বললেন, ‘যাও বাছা, তাকে গিয়ে বলো যে, আমি নোমান নামে কাউকে চিনি না। সে আমার সন্তান নয়। আমার সন্তান জন্মের পর একে একে সবাই মারা গেছে। ওকে চলে যেতে বলো মালেক। ও চলে গেলে আমি শান্তি পাই। আমি একবার মরেছি, দ্বিতীয়বার মরতে চাই না।’
মা ও মালেকের মধ্যকার সবগুলো কথাই কান পেতে শুনছিলো নোমান। মা মাজেদার মনে প্রচ- ক্ষোভ, দুঃখ-ব্যথা। কোনো কিছুর আশা না করে যে সন্তানকে বাবা-মা স্কুল, কলেজ বা বিশ^বিদ্যালয়ে পাঠায়; সন্তানের পেছনে বিস্তর টাকা ঢেলে তাদের মানুষ করে। কিন্তু সেই সন্তানই যদি বাবা-মাকে ভুলে যায়, অবজ্ঞা-অবহেলা করে এর চেয়ে কষ্টের কি আর কিছু আছে?
মায়ের শূন্যতা উপলব্ধি করলেও কিছু করার থাকে না অকৃতজ্ঞ সন্তান নোমানের। সে মায়ের দাবি ত্যাগ করে নিরবে প্রস্তান করে। ঘৃণা-লজ্জায় তার মাথার চুল ছিঁড়তে ইচ্ছে হয়। শুধু চুল না, আত্মহননের চিন্তাও আসে তার মাথায়। যে সন্তান মাকে মা বলে ডাকতে পারছে না, কাছে বসে আদর-সোহাগের ভাগ বসাতে পারছে না, সে সন্তানের কি দাম আছে এই পৃথিবীতে?
এমনি সাত-পাঁচ ভাবতে থাকে নোমান। এরপর চরম হতাশা ও একবুক যন্ত্রণা বুকে নিয়ে স্থান ত্যাগ করে ওরা দু’জন। টাকার পাহাড় থাকলেও সে মাকে মা বলে ডাকতে পারছে না। তার নিজের মা এখন আরেকজনের। নিজের মাকেও মা ডাকার অধিকার হারিয়েছে নোমান।
এদিকে ‘রতœগর্ভা মাজেদা এতিমখানা’র কাজ পুর্ণোদ্যমে এগিয়ে যেতে থাকে। এক সময় এই জমিতে পাঁচতলা ভবন তৈরি হয়। এতিম ছেলেমেয়েরা এই এতিমখানায় থেকে পড়াশোনা করে। কোলাহল-মুখর হয়ে উঠে পিছিয়েপড়া পড়া এই গ্রামটি। কিন্তু এখন আর পিছিয়ে নেই। একটি প্রতিষ্ঠানই সারা গ্রামকে আলোকিত করে দিয়েছে। মাঝে-মধ্যে মাজেদা বেগম স্বামীর ভিটায় প্রতিষ্ঠিত এতিমখানায় গিয়ে স্বস্তির নিঃশ^াস ফেলেন। যতোদিন বেঁচে থাকবেন, ততোদিন এই এতিমখানাই তার প্রেরণার উৎস হয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকবে।

 

 

 




Comments are closed.

     এই বিভাগের আরও খবর




অনলাইন জরিপ

জাতিসংঘের বিশেষ দূত এলিস ক্রুজ বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সব মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

View Results

Loading ... Loading ...

পুরনো সংখ্যার নিউজ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১