মোখলেছুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টার :
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের দু’পরিবারের ছয়ঘর ভূস্মিভুত হয়েছে। পুড়ে ছাই হয়ে গেছে আসবাবপত্র, দৈনন্দিনের খাবার, ঘরের টিনও। তবে পুড়েনি শুধু দু’পরিবারের ঘরে থাকা দু’টি পবিত্র আল কুরআন। এ ঘটনা ঘটে শনিবার (২৪ এপ্রিল/২০২১) সন্ধ্যায়।
পরিবার সূত্র জানায়, শনিবার সন্ধ্যার পরে গোয়ালঘরে মশা তাড়ানোর ধোয়ার কুন্ডলী থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে যায় হয়ে গেছে মৃত রইছ উদ্দিন আকন্দের পুত্র মো. এনায়েত হোসেন আকন্দ, মৃত আব্দুল বারীর পুত্র মজিবুর রহমানের ২টি বসতঘর, ২টি গোয়ালঘর ও ২টি রান্নাঘর। মো, এনায়েত হোসেন আকন্দ জানান, এক গ্লাস পানি খাওয়ার গ্লাসও নেই। তার সন্তানদের সার্টিফিকে, জমির দলিল, জাতীয় পরিচয়পত্র, কাপড় চোপড়, ধান-চাল, আসবাবপত্রসহ ট্রাংকে গচ্ছিত টাকাও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। দু’পরিবারের প্রায় ১৫লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে।

এদিকে পুড়ে যাওয়া ধ্বংসস্তুপ থেকে অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে দু’টি পবিত্র আল কুরআন। সবপুড়ে গেলেও পবিত্র ধর্মীয়গ্রন্থ না পুড়ায় এঘটনাটি অলৌকিক হিসাবে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পবিত্র কুরআন শরীফ দেখতে উৎসুক জনতার ভিড় জমে উঠে। মজিবুর রহমানের কন্যা মোছা. হাসি আক্তার জানান, আমাদের ঘরের সমস্ত বইপত্র পুড়ে গেছে তার ভিতরে গিয়ে দেখি পবিত্র কুরআন শরীফটিও রয়েছে। কুরআন শরীফের চারপাশের কিছু অংশ পুড়ে গেলেও পুড়েনি শুধু আরবী হরফ গুলো। অপদিকে এনায়েত হোসেন আকন্দের ঘরের ভিতর থেকে বের করে আনেন অক্ষত অবস্থায় আরেকটি পবিত্র কুরআন শরীফ। এ প্রসঙ্গে আব্দুল সালামের পুত্র আল মামুন ফকির জানান, এ কুরআন শরীফের একটি হরফও পুড়েনি। শুধু উপরের অংশের কাভারের প্লাস্টিক পাতাটা পুড়ে গেছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ইউপি মেম্বার আব্দুর রহমান জানান, সুবাহানআল্লাহ। আল্লাহ নিজে তার পবিত্র গ্রন্থর রক্ষা করেছেন।
অগ্নিকাণ্ডের খরব পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মোফাজ্জল হোসেন খান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মারুফ, বোকাইনগর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ হাবিব উল্লাহ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুল ইসলাম খান শহীদ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আল মুক্তাদির শাহীন।
আল মুক্তাদির শাহীন ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে তাৎক্ষনিক হাঁড়িপাতিল, কাপড় সহায়তা দেন। চেয়ারম্যান মোঃ হাবিব উল্লাহ বলেন, ঘর নির্মাণের জন্য কিছু টিনের ব্যবস্থা করেছি এবং তাৎক্ষনিক প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী-নিত্যপণ্য দেযা হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মোফাজ্জল হোসেন খান বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে সহযোগিতা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।