গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ঃ
‘গৌরীপুরে মুদি দোকানীকে ৯লাখ ২৪হাজার টাকার বিদ্যুৎ বিল’ আর গ্রাহক হয়রানির কারণে অবশেষে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা আবাসিক প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) নিরঞ্জন কুন্ডুকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ পদে সোমবার (২২মার্চ/২০২১) যোগদান করেন মো. বিল্লাল হোসেন।
এদিকে সোমবার (২২মার্চ/২০২১) এলাকায় বিক্ষোভ করেন ভোগান্তির শিকার বিদ্যুৎ গ্রাহক। কোনাপাড়া গ্রামবাসীর সঙ্গে এবার প্রতিবাদে অংশ নেন গৌরীপুর উপজেলার ২৯টি গ্রামের মানুষ। হাজার হাজার গ্রাহককে ভৌতিক বিল ও হয়রানির প্রতিবাদের মুখে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সাতদিন যাবত এ অঞ্চলে প্রবেশ করতে পারেনি। আন্দোলনকারীদের দাবি, শতশত গ্রাহকের মিটার না দেখেই বিদ্যুৎ বিল করা হয়েছে। সেসব মিটারের বিল প্রত্যাহার করা হলেও হতদরিদ্র মুদি দোকানী হেলাল উদ্দিনের বিল প্রত্যাহার করা হয়নি। এ বিল প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দেন। বিদ্যুৎ বিভাগের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত মিটার রিডার আব্দুল্লাহ মিয়া জানান, হেলাল উদ্দিনের মিটারের ইউনিট জাম্প করেছে। তার মিটারের ধারাবাহিক প্রতিবেদন রয়েছে ও ৪বছর পূর্বে স্লিলিং করা হয়। ৯লাখ ২৪হাজার ৩২৭টাকার এ বিল অবিশ^াস্য ও অযোক্তিক!
সদ্যযোগদানকৃত আবাসিক প্রকৌশলী বিদ্যুৎ মো. বিল্লাল হোসেন, জাতীয় বিদ্যুৎ শ্রমিক লীগ (সিবিএ) ময়মনসিংহের সভাপতি মো. এমদাদুল হক ও ময়মনসিংহ উত্তর জেলা শাখার সভাপতি মো. আতিকুল ইসলামের সঙ্গে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকদের সোমবার (২২মার্চ/২০২১) বৈঠক হয়। সভার সিদ্ধান্তক্রমে পরীক্ষামূলকভাবে মুদি দোকানী মো. হেলাল উদ্দিনের দোকানে নতুন মিটার সংযোগ দেয়া হয়। তারা জানান, এ মিটারের রিডিং অনুযায়ী তার পূর্বের হিসাব-নিকাশ করে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের দায় থেকে হেলাল উদ্দিনকে মুক্তির জন্য এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
অপরদিকে দৈনিক যুগান্তরে ১৩মার্চ প্রিন্ট সংস্করণে ‘গৌরীপুরে ভুতুড়ে বিদ্যুৎ প্রত্যাহারের দাবি’ শিরোনামে ও ১২মার্চ দৈনিক যুগান্তরের অনলাইন সংস্করণে ‘মুদি দোকানির এক মাসের বিদ্যুৎ বিল ৯ লাখ ২৪ হাজার টাকা! ও ময়মনসিংহে ‘ভুতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিল প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ’ শিরোনামে দুটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সংবাদের প্রেক্ষিতে তত্ত্বাধায়ক প্রকৌশলী (পরিচালন ও সংরক্ষণ সার্কেল-১) মো. উবাইদুল ইসলাম, অতিরিক্ত পরিচালক (বাণিজ্যিক পরিচালন) মো. শেখ আব্দুল গফুর, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিবিধ-৩) প্রকৌশলী মো. মোফাজ্জল হোসেন খান, এনার্জি এডিটিং ইউনিট সহকারী প্রকৌশলী কৌশিক ভদ্র ও আবাসিক প্রকৌশলী নিরঞ্জন কুন্ডু’র নেতৃত্বে ৫সদস্যের উচ্চ উপার্যের তদন্ত টিম গত মঙ্গলবার (১৬ মার্চ/২০২১) কোনাপাড়া গ্রাম পরিদর্শন করেন।
এ তদন্তটিমের ঘটনাস্থল পরিদর্শক ও গ্রাহকদের অভিযোগ নিয়ে একই দিনে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উয়ন্নন বোর্ড ময়মনসিংহের বিতরণ কেন্দ্রীয় অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে গ্রাহকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উয়ন্নন বোর্ড ময়মনসিংহের বিতরণ কেন্দ্রীয় অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগ মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। গ্রাহক সন্তুষ্টির মাধ্যমে এ বিভাগে উন্নয়ন কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করবে। কোন গ্রাহক হয়রানির শিকার হবে না।