আজ শুক্রবার ৬ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২১শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম:
বাংলাদেশ ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে.. ড. এ টি এম বদরুজ্জামান এসিল্যান্ড সুনন্দাকে বিদায় সংবর্ধনা দিল গৌরীপুর প্রেসক্লাব শতভাগ ফেল লক্ষিপুর দাখিল মাদরাসা ॥ পাশের চেয়ে ফেল বারগুণ! গৌরীপুরে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮১ জন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী’র সহধর্মিনীর রোগমুক্তি কামনা অনুষ্ঠানে ॥ নববধূর হাতের রঙ মোছার সময়ও বর্তমান সরকারের হয়নি গৌরীপুরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়ান দিবসে আলোচনা ও সংগীতানুষ্ঠান নেত্রকোণায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে নদী ও খালপাড় রক্ষায় বিন্না ঘাসের ব্যবহার নিয়ে সভা গৌরীপুরে ফুটবল আনতে গিয়ে খালের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু! দেশে আসেন, দেখা হবে রাজপথে: হাসিনাকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি জুলাই পুণ:জার্গরণে গ্র্যাফিতিতে গৌরীপুর দর্শনার্থীদের ভিড়
||
  • প্রকাশিত সময় : ডিসেম্বর, ১৫, ২০২০, ২:৪৭ অপরাহ্ণ




বাস্তবধর্মী একটি ছোট্ট গল্প “ভূতের ভয়”

লেখকঃ হাফেজ রাকিবুল ইসলাম ভুঁইয়া

এক রাতের কথা। আমি তখন নরসিংদী জেলার বালুয়াকান্দি মাদরাসায় লেখাপড়া করি। হেফযখানায় খতম শুনাচ্ছি। সেই সময়টা ছিল গরমকাল। লেখাপড়ায়ও ছিলো অনেক চাপ। সেজন্য আমাদেরকে প্রতিদিন প্রায় অনেকরাত পর্যন্ত বারান্দায় বসে পড়তে হতো। আমরা নিয়মিত ৮-১০ জন মিলে ২য় তলার বারান্দায় বসে পড়তাম। কেউ নামাজে কোরআন শরীফ তেলাওয়াত করতো,কেউ মুখস্থ তেলাওয়াত করতো। আবার অনেকেই কোরআন শরীফ দেখে তেলাওয়াত করতো।
কিন্তু আমি বেশিরভাগ সময় নামাজে তেলাওয়াত করতাম।

সে রাতে দ্বিতীয় তলায় সহপাঠীদের পড়ার আওয়াজে একটু অসুবিধা হচ্ছিলো। তাই ভাবলাম তৃতীয় তলায় গিয়ে নামাজে তেলাওয়াত করবো। কিন্তু সেই দিনই আমাকে পড়তে হলো ভূতের খপ্পরে।

ঘটনাটা তোমাদের খুলেই বলি!
তৃতীয় তলায় গিয়ে মাত্র দুই রাকআত নামাজ পড়েছি। হঠাৎ কানে গাছের পাতার মরমর শব্দ ভেসে আসছে। আমি ভাবলাম,বাতাসের কারণে পাতায় মরমর শব্দ হচ্ছে। তাই আমি কোন ভয় পাইনি। কিন্তু আস্তে আস্তে আওয়াজটা বাড়তে শুরু করলো। তখন আমার মনে কিছুটা ভয় জাগলো। নামাজ শেষ করে তাকিয়ে দেখি,পুরো গাছ থরথর করে কাঁপতে শুর করলো। আমি খুব ভয় পেয়ে গেলাম। তাড়াতাড়ি করে নিচে নেমে এলাম। নিচে এসে দু,চারজনকে ডেকে বললাম,একটু উপরে আসো।
‘কি হয়েছে?’ তারা বললো।
‘ভূত’! আমি বললাম।
“কোথায় ভূত?”
গাছে।

তারপর আমরা তৃতীয় তলায় গেলাম। গিয়ে দেখি গাছ এখনও কাঁপছে। এটা দেখে সবাই ভয় পেয়ে গেলাম এবং দৌড়ে নিচে নেমে এলাম। তারপর আমরা একটা টর্চ নিয়ে সেই গাছের কাছে গেলাম। একজন গাছে টর্চ মারলো। সাথে সাথে গাছে একখন্ড আগুন জ্বলে ওঠলো। আমরা আরও বেশি ভয় পেয়ে গেলাম। কি আশ্চর্য! গাছে আগুন কোথ্যেকে আসলো!

তখন আমি বললাম,কাউকে কিছু বলার দরকার নেই। চলো আমরা অযু করে শুয়ে পড়ি। সবাই আমার সাথে একমত হয়ে বললো,ঠিক আছে,চলো তাহলে শুয়ে পড়ি।

তারপর সবাই শুয়ে পড়লাম। কিন্তু ভয়ে আমার শরীর কাঁপছে। শুয়ে শুয়ে ভাবছি,কি দেখলাম? যা হবার হয়েছে,ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়লাম। ভোর ৪টায় সবাই বলাবলি করতে লাগলো,রাতে কি হয়েছিলো?

আমি বললাম,যা শুনেছো ঠিক তাই হয়েছে। তারপর ফজরের নামাজের জন্য মসজিদে গেলাম। নামাজ শেষ করে তাড়াতাড়ি ঐ গাছের কাছে আসলাম। কি অবাক কান্ড! গাছের নিচে একটি খড়ের আঁটি পড়ে আছে। আঁটির মাথা কিছুটা পোড়া ছিলো। গাছের উপর তাকিয়েতো আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম। গাছে একটা অর্ধেক কাটা মৌচাক। তখন আমার আর বুঝতে বাকি রইলোনা যে,ভূতের ভয়ে আমরা রাতে আতংকিত ছিলাম,তা কোনো ভূত ছিলোনা ছিলো একটা মধু চোর। আর যে আগুন খণ্ড আমরা গাছে দেখেছিলাম তা ছিলো গাছের নিচে পড়ে থাকা ঐ খড়ের আঁটির আগুন। আহ্! মধু চোরকে ভূত ভেবে আমার সারাটারাত ভয়ে ভয়ে কাটলো। ভয়ের কারণে আমার ঘুমও ভালোভাবে হয়নি। আগে যদি জানতাম,গাছে মধু চোর ছিলো,তাহলে তাকে ধরে জনমের মাইর দিতাম।




Comments are closed.

     এই বিভাগের আরও খবর




অনলাইন জরিপ

জাতিসংঘের বিশেষ দূত এলিস ক্রুজ বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সব মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

View Results

Loading ... Loading ...

পুরনো সংখ্যার নিউজ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১