স্টাফ রিপোর্টার ॥
ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অভিযানে আরো এক মানবপাচারকারী গ্রেফতার হয়েছে। তার নাম দুলাল মিয়া। সে গৌরীপুরের ইছুলিয়া গাংপাড় গ্রামের মাহমুদ আলীর ছেলে। রবিবার ডিবি পুলিশ তার নিজবাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা হয়েছে। সোমবার তাকে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
ডিবির ওসি শাহ কামাল আকন্দ জানান, দালাল চক্রের মাধ্যমে ৪ বাংলাদেশী সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়ে চার মাস যাবৎ মানবেতর জীবন-যাপন করছে। উচ্চ এবং আশান্বিত বেতনের চাকুরি দেওয়ার প্রলোভনে ফেলে শহিদুল ইসলাম, হুমায়ুন করিব সুজন, সোহেল মিয়া ও আঃ খালেক নামীয়দেরকে সৌদিতে পাঠানো হয়। এর আগে স্থানীয় এক দালাল তাদেরকে উচ্চ এবং আশান্বিত বেতনে চাকুরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রলোভনে ফেলে তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা আদায় করে নিয়ে তাদেরকে সৌদি পাঠায়। বর্তমানে ঐ চারজন সৌদি আরবে নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছে এবং মানবতর জীবন যাপন করছে। এ ধরনের নির্যাতন ও মানবতর জীবন যাপন করার বিষয়ে পুলিশ সুপার ময়মনসিংহের কাছে একটি বার্তা মারফত অভিযোগ আসে।
ওসি শাহ কামাল আকন্দ আরো জানান, মোবাইল মেসেজেরে মাধ্যমে তাদের মানবেতর জীবন যাপনের কাহিনীর সংবাদ পেয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আহমার উজ্জামান বিষয়টি প্রাথমিক তদন্ত সাপেক্ষ্যে দালাল চক্রকে সনাক্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) নির্দেশনা প্রদান করেন।
পুলিশ আরো জানায়, পুলিশ সুপারের নির্দেশে ডিবির ওসি শাহ কামাল আকন্দের নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম মানবপাচারের সাথে জড়িত দালাল চক্রকে সনাক্তকরণে এবং তাদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান শুরু করে। রবিবার ডিবি পুলিশ মানবপাচারের অন্যতম হোতা দুলাল মিয়াকে গ্রেফতার করে। পুলিশ জানায়, দুলাল গৌরীপুর উপজেলার ইছুলিয়া গাংপাড় গ্রামের মৃত মাহমুদ আলীর ছেলে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুলাল মানবপাচারের সাথে জড়িত থাকার ঘটনা স্বীকার করে বলপ পুলিশ জানায় ।
মানবপাচারের ঘটনায় সৌদিতে অবস্থানরতদের নিকটতম গৌরীপুরের হিম্মতনগরের আব্দুল হামিদ গৌরীপুর থানায় মামলা নং-২৭, তারিখ-২৮/০৬/২০২০, ধারা-মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২ এর ৬(১)/৭/৮(২) দায়ের করে। গ্রেফতারকৃত দুলালকে সোমবার রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে শনিবার ডিবি পুলিশ কাজী সালেহ আহাম্মদ ওসমানি নামে আরো এক মানবপাচারকারীকে ফুলপুর থেকে গ্রেফতার করে। সে ভিয়েতনাম চারজনকে সাড়ে ১৪ লাখ টাকায় পাঠায়। ঐ ঘটনায় মামলা হয়।
টি.কে ওয়েভ-ইন