গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ঃ
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে রোববার (৩১ মে/২০২০) ৪বছরের চাল লুটপাটকৃত চাল ফেরত, গাগলা মোড়ের বাজারে ডিলারের দোকান চালুকরণ ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে কার্ডধারী ও এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন। খবর পেয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসার বিপ্লব সরকার আন্দোলনকারীদের জানান, গাগলা মোড়ের বাজারে ডিলার সোমবার থেকে চাল বিতরণ শুরু করবেন। কার্ডধারীদের হাতে কার্ড দিতে প্রশাসন গোলাপী রঙের নতুন কার্ড তুলে দিয়েছেন। চাল আত্মাসাতের ঘটনায় রুমন মিয়া নামে একজন ডিলারকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
চাল চুরির প্রতিবাদ সমাবেশ অচিন্তপুর ইউনিয়নের খালিজুড়ী গ্রামের হেলেনা খাতুন নামের একজন জানান, তার স্বামী ফজলুল হক প্রতিবন্ধী এবং তার ৩সন্তান মানসিক প্রতিবন্ধী। স্বামী-স্ত্রী দু’জনই ভিক্ষা করে সংসার চালান। ৪বছর পূর্বে তার নামে কার্ড হয়েছিলো। এরপর সেই কার্ড নিয়ে যায় ডিলার দেলোয়ার হোসেন খোকন। এরপরে চাল দেয়নি। চারবছর যাবত সেই চাল তুলে নিয়ে যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে ডিলার দেলোয়ার হোসেন খোকন জানান, কার্ডের বিষয়টি আমার জানা নেই। এখন কার্ড থাকলে চাল পাবেন।
সমাবেশ অচিন্তপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জয়নাল আবেদিন জানান, ৪বছরে একজন কার্ডধারীর ৬শ কেজি চাল লুট করা হয়েছে। এতে ২৭৯জনের ১৬৭.৪ টন। সেই চাল ডিলারদের ফেরত দিতে হবে। শুধু বরখাস্ত নয়, কার্ডধারীদের ক্ষতিপূরণ ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে। বক্তব্য রাখেন ছাত্রলীগ নেতা মোঃ মজিবুর রহমান খান সুমন, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাবিবুর রহমান ও ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ একলাস উদ্দিন প্রমুখ।
চার বছর যাবত চাল না পাওয়ায় বিক্ষুব্দ হয়ে উঠেন এলাকাবাসী। শুধু চাল নয়, চাল বঞ্চিত হওয়ায় ক্ষতিপূরণের দাবি জানান কয়েড়াদৌলতপুর রেজিয়া খাতুন, চান বানু, ছিলিমপুরের শফিকুল ইসলাম, খালিজুড়ির আব্দুল মান্নান, এমদাদুল হজ, আবুল কালাম, সজিব মিয়া, মজিবুর রহমান, ইসমত আলী প্রমুখ।
এদিকে উপজেলা প্রশাসনের নিকট দু’দফায় অচিন্তপুর ইউনিয়নের প্রায় ৬শ কার্ডের চাল আত্মাসাতের অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রকৃতকার্ডধারীদের হাতে কার্ড পৌঁছে দিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেঁজুতি ধর ও উপজেরা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিপ্লব সরকার নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এ উদ্যোগে সবুজ রঙের পুরাতন কার্ড বাতিল করে দেয়া হয় ‘গোলাপী রঙের’ নতুন কার্ড। গোলাপী রঙের এ কার্ড সরাসরি কার্ডধারীদের হাতে দেয়া হয়। ফলে ৪বছর যাবত চালা পায়নি অভিযোগকারী ছাড়াও বাড়ছে বঞ্চিত মানুষের তালিকা। ক্ষুব্দ হয়ে উঠছেন এলাকাবাসীও।
অপরদিকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার নন্দন কুমার দেবনাথকে প্রধান ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার মোহাম্মদ উল্লাহ পারভেজ, উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল মান্নানকে সদস্য করে ওই দিনেই ৩সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন উপজেলা প্রশাসন। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অচিন্তপুর ইউনিয়নের ডিলার মোঃ রুমন মিয়াকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিপ্লব সরকার। এছাড়াও এ ইউনিয়নের আরেক ডিলার সেলিম রেজা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন।