পাশের চেয়ে ১২ গুন ফেল করে ফেলের দিকে রেকর্ড গড়েছে শাহগঞ্জ মনির উদ্দিন দাখিল মাদরাসা। এ মাদরাসার ২৬জনের মধ্যে পাশ করেছে মাত্র ২জন। ফেল করেছে ২৪জন। উচ্চ বিদ্যালয় পর্যায়ে ফেলের রেকর্ড গড়েছে অগ্রদূত নিকেতন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। পাশ করেছে ৪জন, ফেলছে ১৫জন। পাশের হার ২১.০৫শতাংশ। পাশের চেয়ে দ্বিগুন ফেল করেছে শাহগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজে। এ বিদ্যালয়ের ১৯৩জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তারমধ্যে পাশ করেছে মাত্র ৬৭জন। ফেল করেছে ১২৬জন। পাশের হার ৩৪.৭২শতাংশ। উপজেলা শতভাগ ফেল করেছে লক্ষিপুর নাছির উদ্দিন দাখিল মাদরাসা। এ মাদরাসার ৩জনের মধ্যে ৩জনেই ফেল করেছে। পাছার ছামাদিয়া দাখিলা মাদরাসায় ফেল করেছে ১১জন, পাশ করেছে মাত্র ১জন। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এবার পাশের চেয়ে এবার ফেলের রেকর্ড গড়েছে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গৌরীপুরে ৫৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জিপিএ-৫ ১৮১জন। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয় ৪ হাজার ৪১৭ জন পরীক্ষার্থী। এরমধ্যে পাশ করেছে ২ হাজার ৫৩৩ জন। পাশের শতকরা হার ৫৭.৩৫ শতাংশ।
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার কমল রায় জানান, ৩৫টি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩হাজার ৩৭২ জন মধ্যে পাস করেছে ১হাজার ৯৬৫ জন। পাসের হার ৫৮.২৭শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫৪ জন। সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ পেয়েছে গৌরীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ৩৫জন, জিপিএ দ্বিতীয় স্থানে নুরুল আমিন খান উচ্চ বিদ্যালয় জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৪জন ও তৃতীয়স্থানে গৌরীপুর আরকে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮জন।
এ উপজেলার ১৬টি মাদরাসার ৪২৫জনের মধ্যে ১৬৪ জন পাশ করেছে। পাসের হার ৩৮.৫৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৫জন। এরমধ্যে কিল্লা বোকাইনগর কামিল মাদ্রাসা ২জন, শ্যামগঞ্জ ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা, পুম্বাইল ফজলুল উলুম ফাজিল মাদরাসা, নামাপাড়া কেরামতিয়া দাখিল মাদরাসায় রাইশিমুল দারুছ সুন্নাহ দাখিল মাদরাসায় ১জন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে।
৬ টি কারিগরী বিদ্যালয়ের ৬২০জন অংশ নেয়। পাশ করেছে ৪০৪জন। পাসের হার ৬৫.১৬শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২২জন। এরমধ্যে ডক্টর মো. রেজাউল করিম উচ্চ বিদ্যালয়ে ১২ জন, গৌরীপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে ৯জন ও মুক্তিযোদ্ধা মিজাজ খান কারিগরী স্কুল এন্ড বিএম কলেজে ১জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
উচ্চ বিদ্যালয় পর্যায়ের পাশের চেয়ে ফেল বেশি ৮ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে রয়েছে সহরবানু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬৯জনের মধ্যে পাশ করেছে ৩৪জন, লালখান উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩১জনের মধ্যে ১৫জন পাশ করেছে, মাইজহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৩জনের মধ্যে ১৬জন, গিধাউষা হাসন আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ১২০জনের মধ্যে পাশ করেছে ৪৯জন, মোজাফফর আলী ফকির উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজে ৭৫জনের মধ্যে ২৭জন, শ্যামগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৫০জনের মধ্যে ৫৭জন পাশ করেছে।
মাদরাসায় সর্বোচ্চ অকৃতকার্য হয়েছে কিল্লা বোকাইনগর কামিল মাদরাসায় ৩২জন। ফেলে দ্বিতীয় শাহগঞ্জ মনির উদ্দিন দাখিল মাদরাসা ও তৃতীয় ইসলামাবাদ ফাজিল মাদরাসা। পাশের চেয়ে ফেল বেশি ১৬টি মাদরাসার মধ্যে ১৩টি। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো শ্যামগঞ্জ ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় ৩৭জনের মধ্যে পাশ ১৫জন, নামাপাড়া কেরামতিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ২৫জনের মধ্যে পাশ ১২জন, চুড়ালী ইছহাক উদ্দিন দাখিল মাদ্রাসায় ২০জনের মধ্যে ৬জন পাশ, বেলতলী দাখিল মাদ্রাসায় ২৯জনের মধ্যে ১১জন পাশ, রাইশিমুল দারুছ সুন্নাহ দাখিল মাদরাসায় ২২জনের মধ্যে ৮জন পাশ, শালীহর এ মোতালেব বেগ দাখিল মাদরাসায় ২৪জনের মধ্যে ৪জন পাশ করেছে। সমানে সমান শিবপুর লিয়াকত উলুম সিনিয়র মাদ্রাসায় ১২পাশ আর ১২জন ফেল।
কারিগরী পর্যায়ে পাশে-ফেলে সমান গিদাউষা কারিগরী স্কুল এন্ড বিএম কলেজ। এ কলেজে পাশ করেছে ২১জন ফেল করেছে ২২জন, সর্বোচ্চ ফেল করেছে গৌরীপুর টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে ৯১জন। পাশ করেছে ১৯১জন।