আজ বৃহস্পতিবার ৬ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২১শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম:
বাংলাদেশ ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে.. ড. এ টি এম বদরুজ্জামান এসিল্যান্ড সুনন্দাকে বিদায় সংবর্ধনা দিল গৌরীপুর প্রেসক্লাব শতভাগ ফেল লক্ষিপুর দাখিল মাদরাসা ॥ পাশের চেয়ে ফেল বারগুণ! গৌরীপুরে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮১ জন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী’র সহধর্মিনীর রোগমুক্তি কামনা অনুষ্ঠানে ॥ নববধূর হাতের রঙ মোছার সময়ও বর্তমান সরকারের হয়নি গৌরীপুরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়ান দিবসে আলোচনা ও সংগীতানুষ্ঠান নেত্রকোণায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে নদী ও খালপাড় রক্ষায় বিন্না ঘাসের ব্যবহার নিয়ে সভা গৌরীপুরে ফুটবল আনতে গিয়ে খালের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু! দেশে আসেন, দেখা হবে রাজপথে: হাসিনাকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি জুলাই পুণ:জার্গরণে গ্র্যাফিতিতে গৌরীপুর দর্শনার্থীদের ভিড়
নিজস্ব প্রতিবেদক || দৈনিক বাহাদুর
  • প্রকাশিত সময় : আগস্ট, ৫, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
oplus_0




জুলাই পুণ:জার্গরণে গ্র্যাফিতিতে গৌরীপুর দর্শনার্থীদের ভিড়

নূতন উদ্যোমে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে অংকিত হলো জুলাই পুণ:জার্গরণ গ্র্যাফিতি। গৌরীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পুরো দেয়ালের দৃশ্যপট বদলে গেছে। থমকে দাঁড়ান এ সড়কের পথচারীরাও। আবু সাঈদ, মুগ্ধ আর ওয়াসিমের সাথে ঠাঁই পেয়েছে গৌরীপুরে জুলাই গণঅভ্যূত্থানে শহীদ জুবায়ের আহমেদ, বিপ্লব হাসান ও নুরে আলম সিদ্দিকী রাকিবও। দেখতে দর্শনার্থীরাও ভিড় করছেন। আজ জুলাই গণঅভ্যূত্থান দিবস উপলক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান উপজেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক নুর মোহাম্মদ সিদ্দিকী।
তিনি জানান, জুলাই গণঅভ্যূত্থানে তিন শহীদের ছবি এবং ২০ শে জুলাই কলতাপাড়ার দৃশ্যপটও স্থান পেয়েছে। শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ঢাকাসহ সারাদেশের জুলাইযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি এখানে স্থান পেয়েছে। তিনি আরও জানান, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হাবিবুল ইসলাম খান শহীদের তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হাবিবুল ইসলাম খান শহীদ জানান, আমরা জুলাইযুদ্ধে মাঠে ছিলাম। প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে ওদের সাথে ছিলাম। ২০জুলাই কলতাপাড়ায় ৩জন শহীদ হন এবং আহত হন অর্ধশতাধিক। আহতদের চিকিৎসা ও নিহতদের পরিবারের সাথে আমরা আগেও ছিলাম, এখনও আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো।
কলতাপড়া জুলাই গণঅভ্যূত্থানে ৩জন শহীদ হন। তারা হলেন উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের চুড়ালী গ্রামের মো. বাবুল মিয়ার পুত্র বিপ্লব হাসান, মইলাকান্দা ইউনিয়নের পূর্বকাউরাট গ্রামের মো. আনোয়ার উদ্দিনের পুত্র জোবায়ের আহম্মেদ ও রামগোপালপুর ইউনিয়নের দামগাঁও গ্রামের আব্দুল হালিমের পুত্র নুরে আলম সিদ্দিকী রাকিব। ২০২৪’র ২০জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের কলতাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পৃথক ৬টি মামলায় প্রায় ১হাজার ৭শ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়। তবে দুই বছর গেলেও কোনো মামলা রায় হয়নি।
উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহিম আকন্দ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। ২০২৪ সনের ২৫ আগস্টে ময়মনসিংহ বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গৌরীপুর আমলী আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (৭৬), তার বোন শেখ রেহেনা (৭০), সাবেক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের (৭২), সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল (৭৫) সহ ৬৪জনের নাম ও অজ্ঞাত ২৫০জনকে আসামী করা হয়। এ দিকে উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের চুড়ালী গ্রামের সেকান্দর আলীর পুত্র কৃষক দলনেতা আবুল কাশেম কৃষক বাদী হয়ে একই আদালতে ২০২৪ সনের ২৭ আগস্ট আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলায় ৯৭জনের নাম উল্লেখ ও ৩০০জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়। এছাড়াও ঘটনার পরেই গৌরীপুর থানার সাবইন্সপেক্টর অনিক ইসলাম বাদী হয়ে বিএনপি নেতা আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণকে প্রধান আসামী করে ৬৪জনের নামে ও অজ্ঞাত ৬০০জনকে আসামী করে এবং গৌরীপুর থানার সাবইন্সপেক্টর শফিকুল আলম বাদী হয়ে আরও একটি মামলা দায়ের করেন। একই ঘটনায় শহিদ নুরে আলম সিদ্দিকী রাকিবের বাবা মো. আব্দুল হালিম ও শহিদ জোবায়ের আহমেদের পিতা মোহাম্মদ আনোয়ার উদ্দিন বাদী হয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগপত্র দায়ের করেন। তাদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী ২০২৪ সনের ১৫ সেপ্টেম্বর এ অভিযোগ দায়ের করেন। এ মামলায় প্রধান আসামী করা হয়েছে গৌরীপুর থানার তৎকালীন সাবইন্সপেক্টর শফিকুল আলম। এছাড়াও ৬৫জন নামে মামলা দায়ের করা হয়। একই ঘটনায় ২০২৫ সনের ৮ এপ্রিল দায়ের শহিদ বিপ্লব হাসানের বাবা মো. বাবুল মিয়া বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অন্যান্য ১৩ জনের নাম উল্লেখ ছাড়াও অজ্ঞত ১৫০জনকে আসামী করা হয়।
ওইদিনে পুলিশের ছোঁড়া বুলেটে ক্ষত-বিক্ষত হন আন্দোলনকারীরা এখনো শরীরে রাবার বুলেট নিয়ে জীবনযুদ্ধ করছেন তাদের মধ্যে অনেকেই। এদের মধ্যে একজন হলেন ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল খালেক মুনশীর পুত্র বাহালুল মুনশী। উপজেলা যুবদলের এ নেতার একেবারে ডান চোখের ব্রুতে বুলেটের আঘাত আর বামগাল বেদ করে শরীরে ঢুকে যায় তিনটি গুলি, বুকে আর হাতে ২৫টি রাবার বুলেটে ক্ষত হয়। শরীরে ১০-১২ স্প্রিন্টার নিয়ে চলছে। এ আন্দোলনে অংশ নেয়ায় চিরতরে বাম চোখের দৃষ্টি হারিয়েছে গৌরীপুর সরকারি কলেজের অনার্স দ্বিতীয়বর্ষের শিক্ষার্থী ফারুক আহম্মেদ নিলয়। সে ডৌহাখলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক। তার বাড়ি উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের নন্দীগ্রামে। বুলেটের ক্ষত-বিক্ষত হয় বিজয় বাড়ই এর ডান হাত। একটি বুলেট ডান হাত বেদ করে চলে গেসে। ক্ষতচিহ্নটা নিয়ে এখনো বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। তার বাড়ি গৌরীপুর পৌরসভার পুরাতন রাইস মিল এলাকায়। মুখ-বুক আর মাথায় ২৪টি রাবার বুলেটের আঘাতের ক্ষত নিয়ে চিকিৎসাধীন আছেন সোহেল রানা। তিনি উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের দামগাঁও গ্রামের বাসিন্দা।
এ দিকে ‘রাখে আল্লাহ মারে কে’ এমন মৃত্যু’র সংকটময় মুুর্হূত অতিক্রম করেছেন মো. জুনায়েদ আহমেদ। একটি বুলেট বুকের সামনে দিয়ে প্রবেশ করে পিঠের ওপার দিয়ে চলে যায়। তিনি উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের গুজিখাঁ গ্রামের আব্দুল মালেকের পুত্র। জুনায়েদ জীবনযুদ্ধে বিজয়ী হলেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা নিয়ে রয়েছে সংশয়। ৭টি রাবার বুলেটের ক্ষত নিয়ে বেঁচে আছেন উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এডভোকেট রাইসুল আহমেদ সজীব। ৪-৫টি বুলেটের আঘাতের ক্ষতচিহ্ন নিয়ে হাঁটছেন গৌরীপুর সরকারি কলেজ অনার্সের শিক্ষার্থী মাজহারুল ইসলামের। তার বাড়ি ডৌহাখলা ইউনিয়নের নন্দীগ্রামে। হাতে ও মাথায় ৭টি রাবার বুলেটবিদ্ধ হয় উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মনিরুজ্জামান মানিকের। তিনি উপজেলার সিধলা ইউনিয়নের বেলতলী গ্রামের আবু মিয়ার পুত্র। রামগোপালপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মঞ্জুরুল ইসলাম মনজু, পুম্বাইল গ্রামের ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা ইমরান হোসাইন লাদেন ও তাঁতকুড়া গ্রামের মো. সুমন মিয়াও গুলিবিদ্ধ হন। উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মনিরুজ্জামান মানিক বলেন, শেখ হাসিনা পালিয়েছে। আমরা আমাদের ভাইকে হারিয়েছি। বুলেটের ক্ষত-বিক্ষত জীবন নিয়ে আমরা বেঁচে আছি।
বৈষম্যবিরোধী এ আন্দোলন বন্ধ করতে সেইদিন গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সুমন চন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে গৌরীপুর থানার পুলিশ কস্টটেবল (কং ১২৬৫) মো. ছামিউল হক কার্তুজ ৩১টি, (কং ২১২৯) আবুল বাশার খান ১৯টি কার্তুজগুলি, (কং ১০৬৬) মো. মনিরুজ্জামান ১২টি, (কং ১৩৭৯) মো. আনোয়ার হোসেন ১১টি, (কং ১৭৯১) আব্দুল মালেক ১২টি, (কং ৮৩৫) মো. মবিনুর রহমান খান ৫টি কার্তুজগুলি, (কং ১৫৭১) ওয়াজকুরনী ৫টি, (কং ১৩৫৬) মো. শামীম আহাম্মেদ ১০টি কার্তুজগুলি, সাবইন্সপেক্টর শফিকুল আলম ৭.৬২ চায়না রাইফেল থেকে ৫ রাউন্ড, (কং ১১৩২) মো. মোকলেছুর রহমান চায়না ৭.৬২ রাইফেল থেকে ৫রাউন্ড ও (কং ২১৫৮) শফিকুল ইসলাম ৭.৬২ চায়না রাইফেল থেকে এক রাউন্ড গুলি বর্ষণ করেন।
এ আন্দোলনে গৌরীপুরে আহতরা হলেন অর্পিতা কবির এনি, আফরোজা আক্তার, ফারুক আহমেদ নিলয়, শিপন আহমেদ শ্রাবণ, জুনায়েদ, বিজয় বারই, মো. মোশাররফ হোসেন, মাজহারুল ইসলাম, সোহেল রানা, বাহালুল মুন্সি, মো. আপন মিয়া, ছোটন মিয়া, মো. ফয়সাল মিয়া, বিল্লাল হাসান, বুলবুল মিয়া, আমিনুল হক, রোপন মিয়া, ইমন, মেহেদী হাসান, বিজয় চন্দ্র সরকার, হৃদয় মিয়া, মো. শাহীন খান, নুর আলম, আশাদুল ইসলাম, মো. ইব্রাহিম মিয়া, আমির হামজা, খাদেমুল মন্ডল, রিয়াজ ফকির, নুরুল আমিন ইসলাম স্বপন, আশরাফুল ইসলাম, মিজানুর রহমান মাসুম, রবিকুল ইসলাম, রহিম আকন্দ, রাকিব আকন্দ, এডভোকেট রাইসুল ইসলাম, ইমরান হাসান, বিল্লাল আহাম্মেদ, রফিকুল ইসলাম রাকি, মো. মানিক মিয়া, মো. আকিব হোসেন, এবিএম মাহমুদুল হাসান মিম, জাহাঙ্গীর আলম, মঞ্জুরুল হক, লাদেন মিয়া, মো. সুমন মিয়া, মো. গোলাম রাব্বি, মো. নিজাম উদ্দিন, মো. শামিম মিয়া, মোজাম্মেল হোসেন, মো. জিল্লুর রহমান, মো. আরিফুজ্জামান, নুরুজ্জামান, মো. হৃদয় মিয়া, মো. কারিমুল হাসান শিমুল, মো. মোশারফ আলী, মো. খায়রুল ইসলাম, মো. তরিকুল ইসলাম আকন্দ, মো. জাহাঙ্গীর, সোহেল, মো. লিটন মিয়া, মো. আব্দুল খালেক মিয়া, রাকিবুল ইসলাম রাজু।




Comments are closed.

     এই বিভাগের আরও খবর




অনলাইন জরিপ

জাতিসংঘের বিশেষ দূত এলিস ক্রুজ বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সব মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

View Results

Loading ... Loading ...

পুরনো সংখ্যার নিউজ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১