আজ বৃহস্পতিবার ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম:
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের শান্তিপূর্ণ বসবাস নিশ্চিত করতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী দেশে টানা দুই দিন কোনো লোডশেডিং হয়নি: বিদ্যুৎ বিভাগ নেত্রকোনায় পানিতে তলিয়ে গেছে কৃষকের স্বপ্ন গৌরীপুরে গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত আপনারা ভাববেন, আপনারা একজন শিক্ষক, কোনো দলের নেতা নন :ডেপুটি স্পিকার ময়মনসিংহ আইনজীবী সমিতির সব পদে বিএনপিপন্থিরা বিজয়ী লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলায়ও মনোযোগ দিতে হবে : তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী গৌরীপুর মহিলা কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষে পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা গৌরীপুরে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষ্যে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা গৌরীপুরে শিশুদের হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জরুটি টিকাদান ক্যাম্পেইন
প্রধান প্রতিবেদক || দৈনিক বাহাদুর
  • প্রকাশিত সময় : ফেব্রুয়ারি, ৩, ২০২৬, ৩:৪৪ অপরাহ্ণ




বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় মোয়াজ্জেম মো. ইব্রাহিম সরকারকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি উল্লাপাড়ার ভট্টকাওয়াক কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মোয়াজ্জেম হিসাবে চাকরিরত ছিলেন। ইব্রাহিম সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে জামায়াতের এমপি প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। এ অভিযোগে ২ ফেব্রুয়ারি রাতে মসজিদ কমিটির কাছে মসজিদের পাওনা অর্থ পরিশোধ করে মসজিদ কমিটির কাছে চাবি হস্তান্তর করে চলে যেতে হয়েছে তাকে। তবে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক বলছেন, তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি। তিনি জামায়াতের প্রচারণা অব্যাহত রাখার কথা বলে নিজেই চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। এ বিষয়ে ইব্রাহিম সরকারের একটি ভিডিও মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। মোয়াজ্জেম ইব্রাহিম সরকার অভিযোগ করেন, তিনি অনেক আগে থেকেই জামায়াতের রাজনীতিকে সমর্থন করেন। এই কারণে গত ৩১ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের পথসভায় প্রকাশ্যে মাইকে বক্তব্য দেন এবং প্রচারণা করেন। এ কারণে মসজিদ কমিটির নেতারা তাকে ডেকে মসজিদে চাকরিরত অবস্থায় কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচারণা করা যাবে না বলে সর্তক করেন। এ সময় তাকে জানিয়ে দেওয়া হয় জামায়াতের রাজনীতি না ছাড়লে মসজিদে আর তাকে রাখা সম্ভব নয়। সেই সঙ্গে তার কাছে মসজিদের পাওনা টাকা ও চাবি দ্রুত হস্তান্তর করার নির্দেশনা দেন। এ অবস্থায় নিরুপায় হয়ে তিনি ২ ফেব্রুয়ারি রাতে মসজিদ কমিটির সম্পাদকের কাছে মসজিদের পাওনা ৫ হাজার ‎‎৭শ হাজার টাকা ও চাবি হস্তান্তর করে মসজিদ ত্যাগ করেন। ইব্রাহিম সরকার আরও অভিযোগ করেন, তিনি ১৪ বছর ধরে এই মসজিদে মোয়াজ্জেমের চাকরি করে পরিবার পরিজন পরিচালনা করে আসছেন। জামায়াতের রাজনীতি সমর্থন করলেও এর আগে মসজিদ কমিটির কোন সদস্য তাকে চাকরি ছাড়ার কথা বলেননি। বর্তামান এই মসজিদ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিএনপির সমর্থক হওয়ায় তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এখন তিনি তার পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছেন। মোয়াজ্জেমের অভিযোগ সত্য নয় উল্লেখ করে ভট্টকাওয়াক কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম অরুন খান বলেন, এই মসজিদটি গ্রামের সব দল ও মতের মানুষের সহযোগিতায় পরিচালিত হয়। মোয়াজ্জেম ইব্রাহিম সরকার জামায়াতের একজন সক্রিয় কর্মী। তিনি প্রকাশ্যে জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে রাস্তায় রাস্তায় মাইকে প্রচারণা করায় গ্রামের বিএনপি সমর্থিত লোকজন ইব্রাহিম সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। বিষয়টি ইব্রাহিম সরকারকে জানালে তিনি তার দল ছাড়বেন না বলে ঘোষণা দেন এবং মসজিদের পাওনা অর্থ পরিশোধ করে চাবি জমা দিয়ে চলে যান। এ ব্যাপারে উল্লাপাড়া উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক শাহজাহান আলীর সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, জামায়াতের সমর্থক হওয়ায় ইব্রাহিম সরকারকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া মসজিদ কমিটির অন্যায় হয়েছে। রাজনীতি করার বা সমর্থন দেওয়ার অধিকার সবারই আছে। ইব্রাহিম সরকারের বিষয়টি তারা দেখবেন।

নারীদের প্রতি অবমাননাকর বক্তব্যকে ঘিরে যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে, তা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই স্বাধীনতার ঘোষক ইস্যু সামনে আনা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।

দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমিরের নারীদের প্রতি অবমাননাকর বক্তব্য সারাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে, তা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই জামায়াতের আমির নতুন করে স্বাধীনতার ঘোষক ইস্যু সামনে এনেছেন।

মঙ্গলবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার চট্টগ্রামে এক সমাবেশে জামায়াত আমির মন্তব্য করেন একাত্তরে এলডিপি চেয়ারম্যান অলি আহমদ উই রিভল্ট ঘোষণা করেন।

এ প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, জামায়াতের আমির নারীদের সম্পর্কে যে অবমাননাকর ও কুৎসিত বক্তব্য দিয়েছেন, তা সারাদেশের মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে। এই ঘটনার দায় এড়াতে এবং জনমতকে বিভ্রান্ত করতে এখন স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে বিতর্ক তোলা হচ্ছে। কিন্তু স্বত:সিদ্ধ ও প্রতিষ্ঠিত কোনো সত্যকে এভাবে আড়াল করা যাবে না।

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, আপনারা মনে করছেন স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে বিতর্ক তৈরি করলে নারীদের প্রতি অবমাননার বিষয়টি ঢাকা পড়ে যাবে—এটা কখনোই হবে না। আপনাদের আসল চরিত্র, স্বরূপ ও বৈশিষ্ট্য এখন প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। আপনারা যদি কখনো ক্ষমতায় আসেন, তাহলে সেই শাসন কতটা ভয়াবহ, অন্ধকারাচ্ছন্ন ও যন্ত্রণাদায়ক হবে—তা গোটা জাতি কল্পনাও করতে চায় না। এতে গণতন্ত্র মুখ থুবড়ে পড়বে এবং আরেকটি ফ্যাসিবাদের নতুন রূপ দেখা দেবে।

স্বাধীনতার ঘোষক প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, জামায়াতের আমির রাজনৈতিক উদ্দেশে ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করছেন। প্রকৃত স্বাধীনতার ঘোষক ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান। তিনি সেই সময় মেজর হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে গোটা জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার দিশা দিয়েছিলেন। তার সঙ্গে যারা সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন, তারাও নিজেদের লেখা বইয়ে বারবার সম্মানের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, এখন রাজনৈতিক স্বার্থে জামায়াতের আমির আমাদের বড় ভাই অলি আহমেদকে স্বাধীনতার প্রথম ঘোষক হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছেন। অথচ তিনি নিজেও কখনো এমন দাবি করেননি। তিনি সবসময় বলেছেন, তিনি জিয়াউর রহমানের সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

জামায়াতের উদ্দেশে রিজভী বলেন, স্বাধীনতার সঙ্গে আপনাদের সম্পর্ক কী? যখন হানাদার বাহিনী আমাদের মা-বোনদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে, তখন আপনারা সেই নির্যাতনের বিরুদ্ধে দাঁড়াননি; বরং তাদের সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। আজ কোন মুখে, কোন উদ্দেশে আপনারা স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে কথা বলেন?

জামায়াত নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কয়েকদিন পর হয়তো আপনারা বলবেন গোলাম আজমই ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক। কারণ মিথ্যা বলতে আপনারা কখনো পিছপা হন না। ইসলামের নামে ব্যবসা করা এবং মুনাফেকিই আপনাদের চরিত্র। ইসলাম সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করে এই মুনাফেকিকে।

 

 

রাজনৈতিক ইতিহাস টেনে রিজভী বলেন, ১৯৮৬ সালে এরশাদের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে শেখ হাসিনা ও জামায়াত—দু’পক্ষই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছিল। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া সেই নির্বাচনে যাননি। নয় বছর ধরে তিনি নির্যাতন, নিপীড়ন, গ্রেপ্তার ও গৃহবন্দিত্ব সহ্য করেছেন, তবু নিজের কথা ভাঙেননি। এজন্যই জনগণ বারবার তাকে সমর্থন দিয়েছে, রায় দিয়েছে। কিন্তু আপনারা তা পাননি।

মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহিন, নির্বাহী কমিটির সদস্য তারিকুল আলম তেনজিং, মাইনুল ইসলামসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




Comments are closed.

     এই বিভাগের আরও খবর




অনলাইন জরিপ

জাতিসংঘের বিশেষ দূত এলিস ক্রুজ বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সব মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

View Results

Loading ... Loading ...

পুরনো সংখ্যার নিউজ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১