আজ শুক্রবার ৬ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২১শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম:
বাংলাদেশ ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে.. ড. এ টি এম বদরুজ্জামান এসিল্যান্ড সুনন্দাকে বিদায় সংবর্ধনা দিল গৌরীপুর প্রেসক্লাব শতভাগ ফেল লক্ষিপুর দাখিল মাদরাসা ॥ পাশের চেয়ে ফেল বারগুণ! গৌরীপুরে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮১ জন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী’র সহধর্মিনীর রোগমুক্তি কামনা অনুষ্ঠানে ॥ নববধূর হাতের রঙ মোছার সময়ও বর্তমান সরকারের হয়নি গৌরীপুরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়ান দিবসে আলোচনা ও সংগীতানুষ্ঠান নেত্রকোণায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে নদী ও খালপাড় রক্ষায় বিন্না ঘাসের ব্যবহার নিয়ে সভা গৌরীপুরে ফুটবল আনতে গিয়ে খালের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু! দেশে আসেন, দেখা হবে রাজপথে: হাসিনাকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি জুলাই পুণ:জার্গরণে গ্র্যাফিতিতে গৌরীপুর দর্শনার্থীদের ভিড়
প্রধান প্রতিবেদক || দৈনিক বাহাদুর
  • প্রকাশিত সময় : জানুয়ারি, ২৫, ২০২৬, ২:২২ অপরাহ্ণ




দয়ালু ও সন্তানসম্ভবা নারীকে কেন বিয়ে করবেন?

যে সংসার দয়ার ছায়ায় গড়ে ওঠে, সেখানে বরকত নিজে থেকেই নেমে আসে। বিবাহ ইসলামি জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি শুধু দুনিয়ার প্রয়োজন পূরণের মাধ্যম নয়, বরং একটি পরিবার, একটি প্রজন্ম ও একটি উম্মাহ গঠনের সূচনা। একজন পুরুষের জীবনে স্ত্রী কেবল সঙ্গিনী নন— তিনি প্রশান্তি, ভালোবাসা ও ভবিষ্যতের ধারক। তাই ইসলাম জীবনসঙ্গী নির্বাচনে সৌন্দর্য বা সম্পদের চেয়েও দয়া, চরিত্র ও মাতৃত্বের যোগ্যতাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। দয়ালু ও সন্তানসম্ভবা স্ত্রী— এমন স্ত্রীই একটি মুসলিম পরিবারের জন্য আল্লাহর বড় নিয়ামত।

রাসুলুল্লাহ (সা.)–এর সুস্পষ্ট নির্দেশনা

আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন—

تَزَوَّجُوا الْوَدُودَ الْوَلُودَ، فَإِنِّي مُكَاثِرٌ بِكُمُ الْأُمَمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ

‘তোমরা দয়ালু ও সন্তান জন্মদানকারী নারীকে বিয়ে করো। কারণ কিয়ামতের দিন আমি তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে অন্যান্য জাতির সামনে গর্ব করব। (আবু দাউদ ২০৫০, নাসাঈ)

দয়ালু (الودود) স্ত্রী কাকে বলে?

দয়ালু বা ওদূদ স্ত্রী হলেন তিনি— যিনি তার স্বামীকে আন্তরিকভাবে ভালোবাসেন, সুখে-দুঃখে স্বামীর পাশে থাকেন, রাগ, অহংকার ও বিদ্রোহে সংসার ভাঙেন না বরং স্বামীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও সহযোগী হন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

خَيْرُ النِّسَاءِ الَّتِي إِذَا نَظَرَ إِلَيْهَا سَرَّتْهُ، وَإِذَا أَمَرَهَا أَطَاعَتْهُ

‘সর্বোত্তম স্ত্রী সে, যাকে দেখলে স্বামী আনন্দিত হয় এবং সে আদেশ পেলে তা পালন করে।’ (নাসাঈ)

 

 

সন্তানসম্ভবা বা উর্বর (الولود) স্ত্রী কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ইসলামে বিবাহের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো সন্তান জন্মদান ও নেক প্রজন্ম তৈরি করা। আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَاللَّهُ جَعَلَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا وَجَعَلَ لَكُم مِّنْ أَزْوَاجِكُم بَنِينَ وَحَفَدَةً

‘আল্লাহ তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই স্ত্রী সৃষ্টি করেছেন এবং স্ত্রীদের মাধ্যমে তোমাদের জন্য সন্তান ও নাতি-নাতনি দান করেছেন।’ (সুরা আন-নাহল: আয়াত ৭২)

যে নারী সন্তান ধারণে সক্ষম, তিনি একটি উম্মাহর ভবিষ্যৎ নির্মাণে অংশ নেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)–এর উম্মতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়াও একটি সম্মান ও গর্বের বিষয়।

ভুল ধারণা সংশোধন

ইসলাম ইচ্ছাকৃতভাবে সন্তান না চাওয়াকে উৎসাহিত করে না। কারণ—

সন্তান হলো আল্লাহর নিয়ামত

তারা সদকায়ে জারিয়ার মাধ্যম

নেক সন্তান মৃত্যুর পরও পিতা-মাতার জন্য দোয়া করে

বিবাহের আগে ও পরে করণীয়

বিবাহের আগে

> দ্বীনদারি ও চরিত্র যাচাই করুন

> দয়ালু স্বভাব ও পরিবারপ্রেম দেখুন

> সন্তান বিষয়ে মানসিকতা বোঝার চেষ্টা করুন

বিবাহের পরে

> স্ত্রীকে ভালোবাসা ও সম্মান দিন

> সন্তান পালনে ধৈর্য ও দায়িত্বশীল হোন

> পরিবারকে দ্বীনের পথে পরিচালিত করুন

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ

‘তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

দয়ালু ও সন্তানসম্ভবা স্ত্রী— এমন স্ত্রী পাওয়া সত্যিই এক অপার সৌভাগ্য। তিনি শুধু সংসারের শান্তি নন, বরং একটি নেক প্রজন্মের সূতিকাগার। যে ব্যক্তি এমন স্ত্রী পায়, সে দুনিয়া ও আখিরাত—উভয় জগতে ধন্য। আল্লাহ আমাদের সবাইকে দয়ালু জীবনসঙ্গী এবং নেক সন্তান দান করুন। আমিন।




Comments are closed.

     এই বিভাগের আরও খবর




অনলাইন জরিপ

জাতিসংঘের বিশেষ দূত এলিস ক্রুজ বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সব মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

View Results

Loading ... Loading ...

পুরনো সংখ্যার নিউজ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১