সুন্নতি জীবন বলতে আমরা অনেক সময় নামাজ, রোজা কিংবা বাহ্যিক আমলকেই বুঝি; অথচ রাসুলুল্লাহ (সা.)–এর জীবন ছিল প্রতিটি ক্ষুদ্র বিষয়ের মধ্যে সুন্নতের আলোয় আলোকিত। তিনি কিভাবে কথা বলতেন, কিভাবে উপার্জন করতেন, এমনকি কী খাদ্য গ্রহণ করতেন— সবই ছিল সুন্নতের অংশ। কারণ মানুষের দেহ যে খাদ্যে গঠিত হয়, তার প্রভাব পড়ে অন্তর, আমল ও আখিরাতের ওপর। তাই প্রশ্ন জাগে—হালাল খাদ্য ছাড়া কি সত্যিই সুন্নতি জীবন সম্ভব? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের তাকাতে হবে কুরআন-হাদিসের আলোকে রাসুল (সা.)–এর জীবনচর্চার দিকে।
১️. হালাল খাদ্য গ্রহণের কুরআনি নির্দেশ
হালাল খাদ্য গ্রহণ ইমানের দাবি এবং হারাম খাদ্য শয়তানের পথের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজিদে মানুষকে সরাসরি হালাল ও পবিত্র খাদ্য গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন—
يَا أَيُّهَا النَّاسُ كُلُوا مِمَّا فِي الْأَرْضِ حَلَالًا طَيِّبًا وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ
‘হে মানুষ! পৃথিবীতে যা কিছু হালাল ও পবিত্র, তা থেকে আহার করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৬৮)
আরও পড়ুন
২️. রাসুলুল্লাহ (সা.)–এর সুন্নত: হালালের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা
রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজের জীবনে কখনো হারামের কাছাকাছিও যাননি এবং উম্মতকেও এ বিষয়ে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন। তাই তো বান্দার ইবাদত, দোয়া ও আমল তখনই আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয়, যখন তার উপার্জন ও খাদ্য হালাল হয়। হাদিসের এসেছে—
إِنَّ اللَّهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا
‘নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র; তিনি কেবল পবিত্র জিনিসই গ্রহণ করেন।’ (মুসলিম১০১৫, তিরমিজি ২৯৮৯, আহমাদ ৮৩৪৮, দারিমি ২৭১৭, মিশকাত ২৭৬০)
৩️. হারাম খাদ্যের কুফল ও দোয়া কবুল না হওয়া
হারাম খাদ্য মানুষের অন্তরকে কঠিন করে দেয় এবং ইবাদতের প্রভাব নষ্ট করে দেয়। হাদিসে এসেছে—
ثُمَّ ذَكَرَ الرَّجُلَ يُطِيلُ السَّفَرَ، أَشْعَثَ أَغْبَرَ، يَمُدُّ يَدَيْهِ إِلَى السَّمَاءِ: يَا رَبِّ، يَا رَبِّ، وَمَطْعَمُهُ حَرَامٌ، وَمَشْرَبُهُ حَرَامٌ، وَمَلْبَسُهُ حَرَامٌ، فَأَنَّى يُسْتَجَابُ لَهُ؟
‘এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন, যে দীর্ঘ সফরে ক্লান্ত ও ধূলিধূসর অবস্থায় আকাশের দিকে হাত তুলে ‘হে আমার রব!’ বলে দোয়া করে; অথচ তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, পোশাক হারাম— তাহলে তার দোয়া কিভাবে কবুল হবে?’ (মুসলিম১০১৫, তিরমিজি ২৯৮৯, আহমাদ ৮৩৪৮, দারিমি ২৭১৭, মিশকাত ২৭৬০)
হালাল খাদ্য গ্রহণ কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়; বরং এটি একজন মুসলমানের ইমানি ও সুন্নতি জীবনের অপরিহার্য অংশ। হালাল খাদ্য দেহকে পবিত্র করে, অন্তরকে নরম রাখে এবং ইবাদতকে গ্রহণযোগ্য করে তোলে। অন্যদিকে হারাম খাদ্য ইমানকে দুর্বল করে এবং আমল ধ্বংস করে দেয়। তাই প্রকৃত অর্থে রাসুলুল্লাহ (সা.)–এর সুন্নতি জীবন অনুসরণ করতে চাইলে আমাদের খাদ্য, উপার্জন ও ভোগ্যবস্তুর ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক হতে হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের হালাল রিজিক দান করুন, হারাম থেকে হেফাজত করুন এবং সুন্নতি জীবনে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।