আজ মঙ্গলবার ২১শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম:
গৌরীপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিস্কার- পরিচ্ছন্নতা অভিযান গৌরীপুরে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত গৌরীপুরে থানার পাশে মাদক নিয়ে ধরা খেলো যুবক, ভ্রাম্যমান আদালতের ১৫দিনের সাজা প্রবীণ নাগরিকদের আর্থিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে-প্রধানমন্ত্রী নিষিদ্ধ ঘোষিত আ’লীগের অপতৎপরতা ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে গৌরীপুরে বিএনপির প্রতিবাদ মিছিল গৌরীপুরে রবীন্দ্র- নজরুল স্মরণ গৌরীপুরে সাকিব হত্যাকাণ্ডের জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে মহাসড়কে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ গৌরীপুরে একাদশ শ্রেণির ছাত্রীদের নবীনবরণ গৌরীপুরে আজিমুশ্বান ইসলামী দাওয়াতী জলসা রাবি বিএনসিসি’র প্রথম নারী সিইউও গৌরীপুরের কন্যা অপর্না
প্রধান প্রতিবেদক || দৈনিক বাহাদুর
  • প্রকাশিত সময় : জানুয়ারি, ১৯, ২০২৬, ১:০২ অপরাহ্ণ




হালাল খাদ্য ছাড়া কি সুন্নতি জীবন সম্ভব?

সুন্নতি জীবন বলতে আমরা অনেক সময় নামাজ, রোজা কিংবা বাহ্যিক আমলকেই বুঝি; অথচ রাসুলুল্লাহ (সা.)–এর জীবন ছিল প্রতিটি ক্ষুদ্র বিষয়ের মধ্যে সুন্নতের আলোয় আলোকিত। তিনি কিভাবে কথা বলতেন, কিভাবে উপার্জন করতেন, এমনকি কী খাদ্য গ্রহণ করতেন— সবই ছিল সুন্নতের অংশ। কারণ মানুষের দেহ যে খাদ্যে গঠিত হয়, তার প্রভাব পড়ে অন্তর, আমল ও আখিরাতের ওপর। তাই প্রশ্ন জাগে—হালাল খাদ্য ছাড়া কি সত্যিই সুন্নতি জীবন সম্ভব? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের তাকাতে হবে কুরআন-হাদিসের আলোকে রাসুল (সা.)–এর জীবনচর্চার দিকে।

১️. হালাল খাদ্য গ্রহণের কুরআনি নির্দেশ

হালাল খাদ্য গ্রহণ ইমানের দাবি এবং হারাম খাদ্য শয়তানের পথের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজিদে মানুষকে সরাসরি হালাল ও পবিত্র খাদ্য গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন—

يَا أَيُّهَا النَّاسُ كُلُوا مِمَّا فِي الْأَرْضِ حَلَالًا طَيِّبًا وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ

‘হে মানুষ! পৃথিবীতে যা কিছু হালাল ও পবিত্র, তা থেকে আহার করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৬৮)

 

 

২️. রাসুলুল্লাহ (সা.)–এর সুন্নত: হালালের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা

রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজের জীবনে কখনো হারামের কাছাকাছিও যাননি এবং উম্মতকেও এ বিষয়ে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন। তাই তো বান্দার ইবাদত, দোয়া ও আমল তখনই আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয়, যখন তার উপার্জন ও খাদ্য হালাল হয়। হাদিসের এসেছে—

إِنَّ اللَّهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا

‘নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র; তিনি কেবল পবিত্র জিনিসই গ্রহণ করেন।’ (মুসলিম১০১৫, তিরমিজি ২৯৮৯, আহমাদ ৮৩৪৮, দারিমি ২৭১৭, মিশকাত ২৭৬০)

৩️. হারাম খাদ্যের কুফল ও দোয়া কবুল না হওয়া

হারাম খাদ্য মানুষের অন্তরকে কঠিন করে দেয় এবং ইবাদতের প্রভাব নষ্ট করে দেয়। হাদিসে এসেছে—

ثُمَّ ذَكَرَ الرَّجُلَ يُطِيلُ السَّفَرَ، أَشْعَثَ أَغْبَرَ، يَمُدُّ يَدَيْهِ إِلَى السَّمَاءِ: يَا رَبِّ، يَا رَبِّ، وَمَطْعَمُهُ حَرَامٌ، وَمَشْرَبُهُ حَرَامٌ، وَمَلْبَسُهُ حَرَامٌ، فَأَنَّى يُسْتَجَابُ لَهُ؟

‘এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন, যে দীর্ঘ সফরে ক্লান্ত ও ধূলিধূসর অবস্থায় আকাশের দিকে হাত তুলে ‘হে আমার রব!’ বলে দোয়া করে; অথচ তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, পোশাক হারাম— তাহলে তার দোয়া কিভাবে কবুল হবে?’ (মুসলিম১০১৫, তিরমিজি ২৯৮৯, আহমাদ ৮৩৪৮, দারিমি ২৭১৭, মিশকাত ২৭৬০)

হালাল খাদ্য গ্রহণ কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়; বরং এটি একজন মুসলমানের ইমানি ও সুন্নতি জীবনের অপরিহার্য অংশ। হালাল খাদ্য দেহকে পবিত্র করে, অন্তরকে নরম রাখে এবং ইবাদতকে গ্রহণযোগ্য করে তোলে। অন্যদিকে হারাম খাদ্য ইমানকে দুর্বল করে এবং আমল ধ্বংস করে দেয়। তাই প্রকৃত অর্থে রাসুলুল্লাহ (সা.)–এর সুন্নতি জীবন অনুসরণ করতে চাইলে আমাদের খাদ্য, উপার্জন ও ভোগ্যবস্তুর ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক হতে হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের হালাল রিজিক দান করুন, হারাম থেকে হেফাজত করুন এবং সুন্নতি জীবনে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।




Comments are closed.

     এই বিভাগের আরও খবর




অনলাইন জরিপ

জাতিসংঘের বিশেষ দূত এলিস ক্রুজ বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সব মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

View Results

Loading ... Loading ...

পুরনো সংখ্যার নিউজ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 ১২৩
৪৫৭৮৯১০
১১১১৩৪১৫১৬১
৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৯৩০৩১