আজ শুক্রবার ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম:
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের শান্তিপূর্ণ বসবাস নিশ্চিত করতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী দেশে টানা দুই দিন কোনো লোডশেডিং হয়নি: বিদ্যুৎ বিভাগ নেত্রকোনায় পানিতে তলিয়ে গেছে কৃষকের স্বপ্ন গৌরীপুরে গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত আপনারা ভাববেন, আপনারা একজন শিক্ষক, কোনো দলের নেতা নন :ডেপুটি স্পিকার ময়মনসিংহ আইনজীবী সমিতির সব পদে বিএনপিপন্থিরা বিজয়ী লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলায়ও মনোযোগ দিতে হবে : তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী গৌরীপুর মহিলা কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষে পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা গৌরীপুরে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষ্যে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা গৌরীপুরে শিশুদের হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জরুটি টিকাদান ক্যাম্পেইন
নিজস্ব প্রতিবেদক || দৈনিক বাহাদুর
  • প্রকাশিত সময় : অক্টোবর, ২২, ২০২৫, ৯:১৩ পূর্বাহ্ণ




‘মানসম্মত হেলমেট ও নিরাপদ গতি, কমবে জীবন ও সম্পদের ক্ষতি : আজ নিরাপদ সড়ক দিবস

বাংলাদেশে এখনো টেকসই ও নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। দীর্ঘ ৫৪ বছরেও কার্যকর কোনো টেকসই পরিবহন কৌশল বাস্তবায়ন করা হয়নি। সড়কে প্রতিষ্ঠিত হয়নি শৃঙ্খলা। এতে দিন দিন সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে। হতাহত হচ্ছে বহু মানুষ।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সড়ক পরিবহন খাতের দুরবস্থা এসেছে রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সমন্বয়হীনতা ও জবাবদিহির অভাব থেকে। ব্যবস্থাপনায় সরকারি বিভিন্ন সংস্থা থাকলেও তাদের মধ্যে সমন্বয় নেই। ফলে সড়ক ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়ছে।

নাগরিক সমাজের মতে, অভ্যুত্থানের পর দীর্ঘদিনের এই সংকট নিরসনে উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ ছিল, কিন্তু এই সরকার পুরনো ব্যবস্থার কাছে ব্যর্থ হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে আজ বুধবার নবমবারের মতো সারা দেশে পালিত হচ্ছে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘মানসম্মত হেলমেট ও নিরাপদ গতি, কমবে জীবন ও সম্পদের ক্ষতি’।

সড়কে মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহনের ভয়াবহতা : বিভিন্ন সংস্থার জরিপ অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে পাঁচ লাখের বেশি মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন রয়েছে, যার ৭০ শতাংশ এখনো সড়কে চলছে। এর মধ্যে বাস, ট্রাক ও পণ্যবাহী যানবাহন প্রায় ৭৫ হাজার। রাজধানীতেই চলাচল করছে ১০ হাজারের বেশি মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব পরিবহন যেমন বেশির ভাগ দুর্ঘটনার মূল কারণ, তেমনি প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি বাড়াচ্ছে।

গতিসীমা নির্দেশিকা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেই : সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুহার অর্ধেকে নামিয়ে আনতে বিআরটিএ ‘মোটরযানের গতিসীমা নির্দেশিকা ২০২৪’ প্রণয়ন করেছে। এতে এক্সপ্রেসওয়ে ও জাতীয় সড়কে বাস, মিনিবাস ও হালকা যানবাহনের সর্বোচ্চ গতি নির্ধারণ করা হয়েছে ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার, বাইকের জন্য ৬০ কিলোমিটার এবং ট্রাক ও লরির জন্য ৫০ কিলোমিটার। জেলা ও শহরের অভ্যন্তরীণ সড়কে গতি আরো কম নির্ধারণ করা হয়েছে—গাড়ি, বাস ও মিনিবাসের জন্য ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার এবং বাইক ও ট্রাকের জন্য ৩০ কিলোমিটার। বাস্তবে এই নির্দেশিকা প্রায় অকার্যকর। চালকরা তা মানছেন না, আর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিচ্ছে না। অদক্ষ চালকদের হাতে গাড়ির চাবি : দেশে যানচালকদের লাইসেন্স দিয়ে থাকে বিআরটিএ। অথচ দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে নতুন লাইসেন্স প্রদান ও পুরনো লাইসেন্স নবায়নে চালকের তথ্যভাণ্ডার সংরক্ষণ ও কার্ড প্রিন্ট নিয়ে জটিলতায় ভুগছে সংস্থাটি। এই অজুহাতে অনেক চালক নানা অসাধু উপায়ে বিআরটিএর ড্রাইভিং পরীক্ষা না দিয়েই পেশাদারভাবে গাড়ি চালাচ্ছেন। অনেক চালক তাঁদের পুরনো লাইসেন্স নবায়ন করতে আসেন না। ফলে পুনরায় ড্রাইভিং পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যে বিধি, তা এড়িয়ে চলেন। এ ছাড়া যাঁরা লাইসেন্স নবায়ন করেন, তাঁদের অনেকেই পরীক্ষাহীনভাবে অর্থের বিনিময়ে নবায়ন করেন। এতে অদক্ষ হাতেই গণপরিবহন চালানো হচ্ছে। রাজধানীর বাসচালকদের মধ্যে এই অনিয়ম বেশি। তাঁদের কেউ কেউ কোনো রকম প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষা ছাড়াই সহকারী থেকে সরাসরি চালক হচ্ছেন। এতে সড়কের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়েছে।

বেপরোয়া ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল : দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চার চাকার যানবাহনের তুলনায় মোটরসাইকেল ৩০ গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। পাশাপাশি গ্রাম ও শহরে অনিরাপদ অটোরিকশা, নছিমন, ভটভটি চলাচল করছে কোনো নিবন্ধন বা নিরাপত্তা মান ছাড়াই। তা ছাড়া এসব যানবাহন নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নীতিমালা নেই। বরং গত এক বছরে রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে। একই সঙ্গে এই যানের কারণে বেড়েছে দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর হার।

নারী ও প্রতিবন্ধীবান্ধব পরিবহনের অভাব : দেশের নগর পরিবহন এখনো নারী ও প্রতিবন্ধীবান্ধব নয়। বাংলাদেশ রোড সেফটি নেটওয়ার্কের তথ্য অনুযায়ী, নগর গণপরিবহনে যাতায়াতকারী ৮৩ শতাংশ নারী শারীরিক ও মানসিক হয়রানির শিকার হন। বেশির ভাগ শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য গণপরিবহনে চলাচল প্রায় অসম্ভব বিষয়।

রাজনৈতিক প্রভাব ও চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্য : গণপরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলার অন্যতম কারণ রাজনৈতিক প্রভাব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। পরিবহন খাতের মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো নিয়ন্ত্রণ করছেন রাজনৈতিক নেতারা। তাঁদের ছত্রচ্ছায়ায় পরিবহন খাতে চলছে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি। গণপরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবহন ব্যবস্থা গঠনের দাবি উঠেছে, কিন্তু সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থাগুলো এতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে।

নেই সাইকেল লেন, হাঁটার জন্য নিরাপদ ফুটপাত : রাজধানীর আগারগাঁও ও মানিক মিয়া এভিনিউয়ে সাইকেলের জন্য বিশেষ লেন তৈরি করা হলেও সরকারি-বেসরকারি গাড়ি এসব লেনে পার্ক করা থাকে। ফলে এসব লেনের কার্যকারিতা নেই বললেই চলে। কথা দিলেও নতুন করে এমন কোনো লেন নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছে না কোনো সিটি করপোরেশন। রাজধানীর বেশির ভাগ ফুটপাতই ভাঙাচোরা, বেদখল হওয়ার কারণে হাঁটার অনুপযোগী। ফলে ঝুঁকি নিয়েই সড়কে হাঁটতে হয় নাগরিকদের।

পরিবহন সংস্থাগুলোর দুর্বলতা ও সমন্বয়হীনতা : দেশের পরিবহন খাতের ব্যবস্থাপনায় সরাসরি যুক্ত রয়েছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ), বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশন (বিআরটিসি) ও ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথরিটি (ডিটিসিএ)। তবে বাস্তবে এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা এখন অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ পদে যোগাযোগ বিষয়ে অভিজ্ঞ ও টেকনিক্যাল জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের বদলে প্রায়ই প্রশাসন ক্যাডার থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিছুদিন কাজ করার পর তাঁরাও প্রমোশন ও বদলি হয়ে অন্যত্র যান। ফলে নতুন করে আবারও অনভিজ্ঞ ব্যক্তিরা দায়িত্ব পান। তা ছাড়া এসব প্রতিষ্ঠানের নিজেদের মধ্যেও সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। একই সঙ্গে তাদের সহায়তায় অন্যান্য সেবা প্রতিষ্ঠানকে (সিটি করপোরেশন, ট্রাফিক বিভাগ) এগিয়ে আসতে দেখা যায় না।

নিষ্ক্রিয় জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল, খসড়ায় আটকে আধুনিক আইন : বাংলাদেশে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে নীতি নির্ধারণ ও সমন্বয়ের সর্বোচ্চ সংস্থা হলো জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী এই কাউন্সিলের প্রধান হন এবং বিভিন্ন সরকারি বিভাগ, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এর সদস্য। নীতি প্রণয়ন, সুপারিশ প্রদানসহ সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে এই সংস্থা প্রায় নিষ্ক্রিয়। হয় না নিয়মিত বৈঠক ও কার্যক্রম।

কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি বিভিন্ন সংগঠনের : দেশে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে নানা দাবি জানিয়ে আসছে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন। রোড সেফটি নেটওয়ার্ক ১৯টি দাবি জানিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে টেকসই পরিবহন কৌশল গ্রহণ ও সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কারের দাবি।

যাত্রী কল্যাণ সমিতি তাদের ১২ দফা দাবিতে নৌ, রেল ও সড়কপথের সমন্বয়ে একটি সমন্বিত যাতায়াত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি বন্ধ, পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের দৌরাত্ম্য রোধ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ডিজিটাইজ করাসহ নানা প্রস্তাব দিয়েছে।

দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের রাষ্ট্রীয় সহায়তা, চালকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভিত্তিতে সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাগুলো। সড়ক পরিবহন ও দুর্ঘটনা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ বুয়েটের অধ্যাপক হাদিউজ্জামান বলেন, যেসব সংকটের কথা বলা হচ্ছে, এগুলো কমন এবং এগুলোই সড়ক অনিরাপদ হওয়ার কারণ। এসব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিলে দুর্ঘটনার পরিমাণ যেমন কমবে, তেমনি প্রাণহানির মাত্রাও অনেক নেমে আসবে। এসব সমস্যা সমাধান করা তেমন কঠিন নয়, প্রয়োজন কার্যকর পরিকল্পনা। কিন্তু এখানে বড় বাধা হচ্ছে রাজনৈতিক প্রভাব এবং সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতা।




Comments are closed.

     এই বিভাগের আরও খবর




অনলাইন জরিপ

জাতিসংঘের বিশেষ দূত এলিস ক্রুজ বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সব মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

View Results

Loading ... Loading ...

পুরনো সংখ্যার নিউজ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১