নান্দনিক মহেড়া জমিদার বাড়ি বারংবার কাছে টানে দর্শনার্থীদের। স্থাপত্য দর্শনে গৌরীপুর মহিলা কলেজের এবারের শিক্ষা সফর ২৬ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের চিত্তাকর্ষক মহেড়া জমিদার বাড়ি। ভোর বেলায় প্রিয় কলেজ প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে উঠে শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের পদচারণায়। একে একে নির্ধারিত আসনে বসে উল্লাসে মাতে শিক্ষার্থীরা। প্রাণ খোলে গাইতে থাকে নানান গান। সাড়ে সাতটা গাড়ী হর্ণ বাজিয়ে ছুটে গন্তব্যের লক্ষ্যে। ময়মনসিংহ ব্রিজ থেকে অধ্যক্ষ মো: মাহবুবুল আলম খান উঠেন ১নং বাসে। ময়মনসিংহ সার্কিট হাউস মোড় থেকে ২নং বাসে উঠেন উপাধ্যক্ষ ড. হারুনুর রশিদ। দুজনের অংশগ্রহণ সবার মাঝে বাড়তি আনন্দের সঞ্চার করে।

ClQKS1NuYXBjaGF0LzEzLjI1LjAuMzEgKFRFQ05PIEJHNjsgQW5kcm9pZCAxMyMyNDA2MjNWMjE4MyMzMzsgZ3ppcCkgVi9NVVNIUk9PTRDVnJS77AE=
বেলা বাড়ার সাথে সাথে উদ্দীপনার ডানা পেখম মেলে। হৃদয়ে জাগে দুরন্তপনা। গাড়ী ছুটে পিছঢালা পথ। মুক্তাগাছায় সকালের নাস্তা সেরে আবারও বাস এগুতে থাকে মধুপুর বনের ভেতর। সবুজ গাছগাছালি আর বানরের ছুটাছুটির দৃশ্য অপূর্ব। রাস্তার দু’ধারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে দেখতে এলেঙ্গা হয়ে দুপুর একটায় পৌঁছে যায় মহেড়া জমিদার বাড়ি।
নজরকাঁড়া সৌন্দর্য উপভোগে ছুটে এসেছে কতো মানুষ। আমরা টিকেট কেটে একে একে প্রবেশ করি ভেতরে। বিশাখা সাগর হয়ে সিংহ দরজার নান্দনিক কারুকার্য দেখে এগুই সু-উচ্চ ভবনের দিকে। ১৮৯০ এর দশকে নির্মিত মহেড়া জমিদার বাড়ির প্রাসাদগুলো এখনও সমহিমায় সমুজ্জ্বল। সাদার মধ্যে সোনালী রঙের আবরণ দৃষ্টিকাড়ে ভ্রমণপিয়াসীদের। ১৩৫ বছরের পুরোনো এই জমিদার বাড়ির সাতটি ভবন কালের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পুরো জমিদার বাড়ি জুড়ে রয়েছে সাজানো গুছানো ফুলের বাগান আর সামনে ও পিছনে দুটি পুকুর। সত্যি এক চমৎকার জায়গা। আমাদের দেশের উল্লেখযোগ্য চুয়ান্নটি জমিদার বাড়ির মধ্যে মহেড়া জমিদার বাড়ি একটু ব্যতিক্রমধর্মী। মনে হয় সদ্য নির্মিত একটা চিত্তাকর্ষক প্রাসাদ।

Oplus_131072
মনোহর দৃশ্যাবলি অবলোকন শেষে আমরা সেরে নেই দুপুরের খাবার। ক্ষানিক বিশ্রামের পর সাংস্কৃতিক ও খেলাধুলা পর্বের ডাক পড়ে। প্রভাষক মো: সেলিম এর মনোমুগ্ধ পরিবেশনায় রাঙিয়ে যায় বিকেল বেলা। গান পরিবেশন করেন সহকারী অধ্যাপক ফারুখ হায়দার হোসেন, প্রভাষক আব্দুল আলিম খান, শরীরচর্চা শিক্ষক নাদিরা জামান পান্না, শিক্ষার্থী আফরিন তৃত, সায়িবা সামিন, সুরাইয়া হক অন্তর, ফাহমিদা ফাইজা। কবিতা আবৃত্তি করেন কবি শামীম খানম মিনা, প্রভাষক আব্দুল্লাহ আল মামুন, প্রভাষক নজরুল ইসলাম, প্রভাষক সানোয়ার জাহান ও আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ আরাফ মল্লিক আজান। ক্রীড়া অনুষ্ঠান পরিচালন করেন প্রভাষক মো: রাকিবুল হাসান, প্রভাষক মো: মোস্তাকিম, লাইব্রেরিয়ান মো: কামাল হোসেন ও আশিকুর রহমান খান পাঠান টিটু।
সহকারী অধ্যাপক মো: তামজিদুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি অধ্যক্ষ মো: মাহবুবুল আলম খান ও বিশেষ অতিথি উপাধ্যক্ষ ড. মো: হারুনুর রশিদের বক্তব্য শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। ক্রীড়া অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন সহকারী অধ্যাপক রেজওয়ান হোসেন, প্রভাষক আনোয়ার হোসেন, প্রভাষক সৌমিত্র চন্দ্র দাস, প্রভাষক মো: মাহবুবুর রহমান, প্রভাষক মাহবুব আলম, প্রভাষক মো: মাহবুব হাসান। সাংস্কৃতিক পর্বে অংশগ্রহণ করেন প্রভাষক তাহমিনা আক্তার, প্রভাষক শামীমা আক্তার, প্রভাষক মো: ফয়জুর রহমান, প্রভাষক দিলরুবা ইয়াসমিন।

oplus_0
ঝুড়িতে বল নিক্ষেপ ইভেন্টে অংশ নেয় নূরজাহান সুলতানা রিপা, শ্রাবনী আক্তার, হ্যাপী আক্তার, ফারজানা আক্তার নাসরিন, জনি দেবী, কলি আক্তার, ফাবিহা তাবাসসুম, রায়সা ইসলাম, নুসরাত ফারিন চৈতী, মাহদিয়া মাহবুব মাইশা, জান্নাতুল ফেরদৌস নিশাত, ফাইজা আক্তার, সুরাইয়া হক আদ্রিতা, নাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি, তানজিনা আক্তার, নাফিজা বৃষ্টি, পুষ্পা আক্তার, রিম্পা, নূরে তাবাসসুম মায়সী, ফাহমিদা ফাইজা, ইরফান নূর সাদাত হোসেন ও আয়মান আউসাফ জারিফ প্রমুখ।
দেখতে দেখতে সময় পুড়িয়ে আসে। বিদায়ের ঘণ্টা বাজিয়ে অজস্র সুন্দর সুন্দর স্মৃতি নিয়ে প্রত্যেকেই ফিরে আপন ঠিকানায়।