! গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহিদ নুরে আলম সিদ্দিকী রাকিবের কন্যার পাশে দাঁড়ালেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলম। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি/২৫) রাকিবের শ্বশুড় মো. শাহাব উদ্দিনের হাতে আর্থিক অনুদান প্রদান করেন। এছাড়াও রাকিব কন্যাকে নিয়ে এলাকায় চলছে উল্লাস। ছুটে যাচ্ছেন জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্রপ্রতিনিধিগণ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম সাজ্জাদুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুনন্দা সরকার প্রমা, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য হাফেজ আজিজুল হক। স্ত্রীকে ৪মাসের অন্ত:স্বত্ত্বা অবস্থায় ওষুধ নিতে এসে ২০২৪সনের ২০জুলাই শনিবার ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের গৌরীপুরের কলতাপাড়ায় পুলিশের গুলিতে শহিদ হন রাকিব। রাকিব মৃত্যুর ৬মাস পর রোববার (১৯জানুয়ারি/২০২৫) ভোর ২টা ৩০মিনিটে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। রাকিবের স্ত্রী সাদিয়া আক্তার জানায়, তার সন্তান হবে, সেই জন্য বাবা হিসাবে রাকিব খুব আবেগ-আপ্লুত ছিলো। আমাকে রেখে দূরে কোথাও যেতে না। সব সময় কাছে কাছেই থাকতো। আমরা দু’জন সন্তানকে নিয়ে ভাবতাম। ও বলতো ‘আমি বাবা হবো, তুমি মা হবে; আমাদের ঘরকে উজ্জল করে তুলবে, বাবা-মা বলে ডাকবে। সব স্বপ্ন কেড়ে নিলো একটা বুলেট। কন্যা সন্তান নিয়ে সাদিয়া আক্তার এখন ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার তারুন্দিয়া ইউনিয়নের পুনাইল গ্রামে বাবার বাড়িতে আছেন। রাকিবের কন্যা সন্তান হওয়ার সংবাদে ওই বাড়িতে ওইদিন রাতেই ছুটে যান ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য হাফেজ আজিজুল হক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজ্জাতুল হাসান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শামছুজ্জামান দুর্জয়। রাকিবের কন্যার জন্য নানা উপকরণ উপহার দেন তারা। সাদিয়া আক্তারের ভাই শামীম আহমেদ জানায়, আমার ভগ্নিপতি শহিদ হয়েছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে, আমার ভাগ্নিটা যেনো বৈষম্যের শিকার না হয়। সে যেনো তার প্রাপ্য অধিকারটুকু পায়। জাহানারা বেগম বলেন, ওর কান্নাটা কান্না ছিলো না; বাবা-বাবা বলে যেনো ডাকছে। ওর বাবাও হয়তো ওর কান্নার শব্দটা শোনতে পাচ্ছে। আমি যে ওর কান্না সহ্য করতে পারি না। নানুবোনটাকে খোলে নিলে আমি অস্থির হয়ে যাই; এই বোনটা তার বাবাকে আজ দেখতে পেলো না। তার বাবা থাকলে হয়তো কতো কিছুই করতো। রাকিব গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের দামগাঁও মধ্যপাড়ার আব্দুল হালিম শেখের পুত্র। পুত্রের কন্যা সন্তান হওয়ার সংবাদে হাসপাতালে ছুটে যান রাকিবের বাবা। তিনি বলেন, আমি দাদুভাইটাকে খোলে নিয়েছি। ও বাবা হারা, আমি সন্তান হারা; আল্লাহ যেনো ওদের হেফাজত করেন। রাকিব ২০২২সনে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মরিচারচর এমদাদুল উলুম নুরানীয়া হাফিজিয়া মাদরাসা থেকে হাফেজ পাশ করেন। নিজ গ্রামে তার বাবার প্রতিষ্ঠিত তালিমুল কুরআন মহিলা মাদরাসার শিক্ষকতা করতেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি ঈশ্বরগঞ্জের ভাসা গফুলনগরে অবস্থিত ভাসা আতহারিয়া দারুল উলুম মাদরাসায় কিতাব বিভাগে লেখাপড়াও করছিলেন। রাকিব ২০২৪ সনের ১২জানুয়ারি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার পুনাইল গ্রামের সাদিয়া আক্তারের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। সে যখন মারা যায় তখন তার স্ত্রী ছিলো ৪মাসের অন্ত:স্বত্তা। জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যূত্থানে ২০ জুলাই গৌরীপুরের কলতাপাড়ায় ৩জন শহিদ হন। তারা হলেন ডৌহাখলা ইউনিয়নের চুড়ালী গ্রামের বাবুল মিয়ার পুত্র বিপ্লব হাসান (১৯), রামগোপালপুর ইউনিয়নের দামগাঁও মধ্যপাড়ার আব্দুল হালিম শেখের পুত্র নুরে আলম সিদ্দিকী রাকিব (২২) ও মইলাকান্দা ইউনিয়নের কাউরাট গ্রামের মো. আনোয়ার উদ্দিনের পুত্র জোবায়ের আহম্মেদ (২২)।