আজ রবিবার ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম:
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের শান্তিপূর্ণ বসবাস নিশ্চিত করতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী দেশে টানা দুই দিন কোনো লোডশেডিং হয়নি: বিদ্যুৎ বিভাগ নেত্রকোনায় পানিতে তলিয়ে গেছে কৃষকের স্বপ্ন গৌরীপুরে গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত আপনারা ভাববেন, আপনারা একজন শিক্ষক, কোনো দলের নেতা নন :ডেপুটি স্পিকার ময়মনসিংহ আইনজীবী সমিতির সব পদে বিএনপিপন্থিরা বিজয়ী লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলায়ও মনোযোগ দিতে হবে : তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী গৌরীপুর মহিলা কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষে পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা গৌরীপুরে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষ্যে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা গৌরীপুরে শিশুদের হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জরুটি টিকাদান ক্যাম্পেইন
প্রধান প্রতিবেদক || দৈনিক বাহাদুর
  • প্রকাশিত সময় : নভেম্বর, ৫, ২০২৪, ৬:১৬ অপরাহ্ণ




ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে চোখের দৃষ্টি হারানো গৌরীপুরের বাবু’র ঘটনায় ৮৪জনকে মামলা দায়ের!

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজপথ কাঁপানো মো. আব্দুল্লাহ বাবু গুলিবিদ্ধ হয়ে চোখের দৃষ্টি হারানোর ঘটনায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাস্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ৮৪জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বাবু’র বাবা মো. আব্দুল বারিক শেখ বাদী হয়ে ঢাকা চীফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রোববার (৩ নভেম্বর/২৪) এ মামলা দায়ের করেন। তিনি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের কলতাপাড়া গ্রামের মৃত ইজ্জত আলীর পুত্র। মামলার অন্য আসামীরা হলেন সাবেক মহাপুলিশ পরির্দক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাবেক র‌্যাব পরিচালক মো. খোরশেদ হোসেন, সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদ, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার, সাবেক ডিএমপি কমিশনার মো. হাবিবুর রহমান, ঢাকা দক্ষিন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহম্মেদ মান্নাফী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মিহউদ্দিন মহি, ঢাকার দক্ষিন মহানগরের যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাইনুদ্দিন রানা, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা, টুটুল, রফিকুল ইসলাম, মশিউর রহমান সজল, মইন উদ্দিন, রাগিব আহসান (সিটি টোল), সজিব হাসান, নুর আহসান ওরওফে বাবুল সিটি টোল, শাহাদত আহসান ছোট বাবু, মো. মাহিম প্রদীপ, বিপুল আহসান, শরিফ আহসান, জগৎ, মো. মোস্তফা, সালাম, আবু হানিফ সেতু, হাসেম, রোকনুজ্জামান রোকন, মো. আশিকুল ইসলাম খোকন, মেহেদী হাসান, সাদ্দাম হোসেন, লাবলু, আবুল হোসেন, রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজ, হুমায়ুইন কবির, আবুল কালাম আজাদ, গাজী শামীম, গাজী সুমন, মনির (কালা মনির), মো. মাহমুদ, জসিম মিয়া, রফিকুল ইসলাম মঞ্জু, মো. সজল শেখ, আনোয়ার মিয়া, মো. রমজান আলী, বাহার, পারভেজ, জমির আলী, গৌরব, আলামিন, মো. রাজিব, আজিজুল রহমান উজ্জল, আব্দুল বাসেত বাচ্চু, সিরাজ, মো. আজিবর রহমান, দেওয়ান আতিকুর রহমান আখি, দেওয়ান রাকিবুর রহমান রাকি, মো. শামীম হোসেন, আলমগীর হোসেন, কাউসার প্রধান, আলী হোসেন, মো. বাদল মুনসী, বাদশা শেখ কসাই, মো. ইমন, মো. মাসুদ পারভেজ, নুর আলম, আফসার আলি বিশ^াস, মাসুম, সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, মজিবর, হাজী সুলতান মিয়া, রোমন মাতবর, কালাম, সঞ্জয় দাশ, রকি, সেন্টু, মো. আরশেদ আলী, রাজিব খান, আব্দুল কাদির, মো. চান মিয়া, আশলতা বৈদ্য, নাসির উদ্দিন বাদল, আবু বকর সিদ্দিক আবু, মানিক মিয়া। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে নিয়মিত রাজপথ কাঁপানো স্লোগান দিতো মো. আব্দুল্লাহ বাবু। সেদিন ছিলো শুক্রবার, ১৯ জুলাই। জুম্মার নামাজ শেষে যাত্রাবড়ি গোলাপবাগ এলাকায় ছুটেন তিনি। তখন বজ্রকণ্ঠে স্লোগান আর স্লোগান মুখরিত পুরো এলাকা। মিছিলের সম্মুখভাগে এগিয়ে চলছিলো বাবু। হঠাৎ একটি বাসার ভিতর থেকে বেড়িয়ে এসেই পুলিশ সরাসরি রাবার বুলেট ছুটতে থাকে। ওর চোখ, মুখ-নাকেও গুলিবিদ্ধ হয়। তিনি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের কলতাপাড়া গ্রামের আব্দুল বারেকের পুত্র। থাকেন এখন ঢাকার দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানার ইকুরিয়া এলাকায়। ৬৫বছর বয়সী বাবা ৪-৫বছর যাবত ড্রাইভিং ছেড়ে দিয়ে ছিলেন। আর্থিক অনটনের সংসারে এ পেশায় যোগ দেন মো. আব্দুল্লাহ বাবু। তার আয়ে এক সন্তানকে নিয়ে তার সংসার আর পিতা আব্দুল বারেক-মাতা সালমা বেগমকে আগলে রাখতেন। ২০২৩সনে একটি রাজনৈতিক মামলায় তার বাবাকে জেলহাজতেও যেতে হয়েছিলো। তিনি ৩৯নং ওয়ার্ড শ্রমিকদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। বাবা’র পেশায় প্রবেশ করে পুত্র বাবুও বাবার সঙ্গে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে যান। কাজের ফাঁকে ফাঁকে সাংগঠনিক কর্মসূচীতেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে বাবু ছিলো মিছিলের অগ্রভাগে। পুলিশের গুলিতে ইতোমধ্যে বাবুর বাম চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। তাকে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন এ চোখে আর কখনও দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসবে না। সে সময় ডানচোখের গুলির আঘাত লাগে। সেই চোখটিও এখন ঝাপসা হয়ে আসছে। দুরের জিনিস দেখতে পায় না। তাকে চিকিৎসার জন্য জামায়তে ইসলামীর পক্ষ থেকে ১০হাজার টাকা ও আরেকটি সংগঠন ১লাখ টাকার আর্থিক সহযোগিতা করেছেন। তবে চোখের চিকিৎসা আরও চালিয়ে যেতে হবে। সন্তানের সুচিকিৎসা ও তার সংসারের হাল ধরতে আবারও গাড়ির স্ট্রায়ারিং ধরেছেন তার বাবা আব্দুল বারেক। চারপুত্রের মধ্যে বাবু সবার ছোট। বড় ছেলে মো. সুজন মিয়া সায়দাবাদে পুরাতন মবিলের দোকানে কাজ করে। অপরপুত্র মো. রাজন মিয়াও গাড়ি চালায়। আর মো. সজল মিয়া ছিলেন গার্মেন্ট কর্মী। জুলাই বিপ্লবের পরে তার কোম্পানী বন্ধ থাকায় তিনিও এখন বেকার। দেড় বছরের মো. আনার মিয়া নামে একজন শিশু সন্তান নিয়ে বাবু’র সংসার। স্ত্রী নাসরিন প্রীতি পেশায় গৃহিনী। তার সংসার আর বাবু’র সুচিকিৎসার জন্য দ্বিগবেদিক ছুটছেন তার বাবা আব্দুল বারেক। একদিকে বেড়েছে খরচ, অপরদিকে বন্ধ হয়ে গেছে সংসারের আয় উপার্জক্ষম বাবু’র উপার্জন। আব্দুল বারেক বলেন, আমার সন্তানের উপর এভাবে যারা গুলি ছোঁড়েছে, যারা হামলা করেছে। আমি তাদের বিচার চাই। তিনি আরও বলেন, আমার সন্তান তো আর কখনও গাড়ি চালাতে পারবে না। তার তো একটি কর্মসংস্থান প্রয়োজন। তা না হলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কিভাবে বাঁচবে। আব্দুল্লাহ বাবু জানায়, আমরা একটি স্বপ্ন নিয়ে স্লোগান ধরেছিলাম। সেই স্বপ্ন পূরণে একটি-দুটি চোখ কেনো, জীবন চলে গেলেও ফিরে আসতাম না। ঝাপসা চোখেই ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা এর নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন দেখেছি! এ আমার মহানন্দ!




Comments are closed.

     এই বিভাগের আরও খবর




অনলাইন জরিপ

জাতিসংঘের বিশেষ দূত এলিস ক্রুজ বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সব মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

View Results

Loading ... Loading ...

পুরনো সংখ্যার নিউজ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১