শ্যামগঞ্জ সড়কের মানিকদীর গ্রামের রাংসা নদীর উপর নির্মাণাধীন সেতুর বিকল্প কাঠ-বাঁশের সাঁকোটি পানির স্রোতে ভেঙে পড়ায় উভয় পাশের ৩০ টি গ্রামের মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। বিকল্প রাস্তাটির নির্মাণ সঠিক না হওয়ায় এটি ভেঙ্গে পড়েছে বলে এলাকাবাসী জানান।
তারাকান্দা উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গালাগাঁও ইউনিয়নের মানিকদীর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া রাংসা নদীর উপর সেতু নির্মাণের জন্য ৪ কোটি ৫৯ লাখ ৮৫ হাজার ৪শত ৯ টাকা টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি পায় মেসার্স এসআরএস কনস্ট্রাকশন। ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার ওই সড়কের রাংসা নদীর উপর এ সেতুর কাজটি শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে। আর কাজটি শেষ হওয়ার কথা ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক দিন টানা বৃষ্টি হয়। এতে রাংসা নদীতে পানি বেড়ে যায়। সঙ্গে উজান থেকে কচুরিপানা আসতে থাকে। গত বুধবার বিকেলে স্রোত ও কচুরিপানার চাপে সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। সড়ক দিয়ে আশপাশের প্রায় ৩০ গ্রামের মানুষ এবং অসংখ্য ট্রাক, মালবাহী গাড়ি, অটো সিএনজি এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করে। প্রথমে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সেতুর পাশ দিয়ে যাতায়াতের জন্য কোনোমতে মাটি দিয়ে একটি কাঁচা সড়ক নির্মাণ করে দিয়েছেন। বর্ষার শুরুতে বৃষ্টিতে সড়কটি ধসে গেসে। পরে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ওই স্থানে একটি কাঠ-বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে দেয়। গত বুধবার বিকেলে সেটিও পুরোপুরি ভেঙে গেছে। চলতি বছর বর্ষার শুরুতে পাইলিং শেষ করে সেতু কাজ বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয়রা আরো জানায়, সেতুর উভয় পাশে রয়েছে ১৫ থেকে ২০টি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা। এসব প্রতিষ্ঠানের শতশত ছাত্র-ছাত্রী এ রাস্তা পাড়ি দিয়ে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যায় । এখন তারা পড়েছে দূর্ভোগে।
মানিকদীর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র সোহেল জানায়, আমি প্রতিদিনের এ বিকল্প রাস্তা পাড়ি দিয়ে স্কুলে যেতাম। এখন সেটি ভেঙ্গে যাওয়ায় চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।
চাড়িয়া বাজারের ব্যবসায়ী খসরু আলম বলেন, এ রাস্তাটি ভেঙ্গে পড়ায় এখন জেলা ও উপজেলা সদর থেকে মালামাল ক্রয় করে পারাপার করা যাচ্ছে না। অন্যদিক দিয়ে প্রায় ১০/১৫ কিলো ঘুরে আসতে হয়। এতে সময় ও পরিবহন খরচ বেশি যাচ্ছে।
মানিকদীর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতান আহমেদ বলেন, আমরা শিক্ষক এবং ছাত্র ছাত্রী সহ প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতাম। এখন সেটি ভেঙ্গে পড়ায় যাতায়াতের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এই সেতুটির ঠিকাদার লিটু মিয়ার মোবাইল নম্বরে বার বার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তারাকান্দা উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ জোবায়ের হোসেন এ ব্যাপারে বলেন, ওই স্থানে বিকল্প সড়ক ও সাঁকো নির্মাণ করলেও স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতকারীরা তা ভেঙে দেয়। সড়ক ও সাঁকো না থাকলে বাধ্য হয়ে পথচারীদের টাকার বিনিময়ে নৌকা দিয়ে পারাপার করতে হয়।