চারপাশে লোকে-লোকারণ্য; আশি বছরের বৃদ্ধকেও তারুণ্যের যৌবনশক্তি ফিরিয়ে দেয়া সেই আশ্চার্য্য বড়িটা দেখছেন তারা! বড়িটার নাম ‘লতামুল চুর্ন’। লাঠি দিয়ে ভর করে চলা প্যারালাইজড হয়ে যাওয়া মানুষটিও কাল থেকে লাঠি ছেড়ে হাঁটবে-দিচ্ছেন এমন প্রতিশ্রæতি। সে লক্ষ্যে শুধু তাকে নয়, চারপাশে যারা দাঁড়িয়ে আছেন, তাদের প্রত্যেককে প্রথমে একটি করে ফ্রি বড়ি খাওয়ানো হয়। এরপরেই ৩শ টাকা মূল্যের প্যাকেট মাত্র ১০০টাকায় বিক্রি, একটার সঙ্গে দেয়া হয় আরেকটা ফ্রি! মঙ্গলবার (৯ জুলাই/২৪) সাপ্তাহিক হাটের দিন মঙ্গলবার ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার উত্তরবাজারে মজমা করে এ ওষুধ বিক্রি করতে দেখা যায়।
মাইকে ঘোষণা দিয়ে ওষুধ বিক্রি করছেন হাকিম মো. আজিজ মিয়া। তিনি সিলেটের ছাতক পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের মুক্তিরগাঁও বলে জানান। তিনি বলছেন, এই ওষুধ খেলে পুরাতন আমাশয়, গ্যাস্টিক, আলসার, বদহজম, পেটে অসুখ, ঘনঘন প্রশ^াব, ধাতু দুর্বলতা, শারীর অক্ষমতা, বীর্য তরল, মাজা ও কোমরের ব্যাথা, প্রশ^াবের জ¦ালাপোড়া, সিফিলিস, গণোরিয়া, কফ-কাশ ও হাঁপানী, মহিলাদের শে^তপ্রদর, চেহারা ফ্যাকাশে, হাত-পা জ¦ালা পোড়া, শক্তিবর্ধক ও ৮২প্রকার বাতের এই ওষুধ কাজ করে। এছাড়াও মজমায় চমকপ্রদ তথ্য ও উপাত্ত দিয়ে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করায় চারপাশে লোকজনের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়।
কথায় আকৃষ্ট হয়ে ওষুধ কিনেছেন উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের মতিউর রহমান। তিনি জানান, প্রকাশ্যে মাইক মেরে তো আর খারাপ কিছু বেচতে পারবে না। তাই ১০০টাকা দিয়ে ওষুধ কিনেছি, আরেক ফাইল মাগনা দিছে। মইলাকান্দা ইউনিয়নের লামাপাড়া গ্রামের মতিউর রহমান জানান, একটা মাগনা খাইছি, মুখে রিমরিম করে। তাই কিনছি।
এ এগুলো ওষুধ নয়, বিষ। মানুষের শরীরে এসব বিষের মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। এগুলো সেবনের ফলে শরীরের প্রধান অঙ্গগুলোর ওপর চাপ তৈরি হয়। বুকে ব্যাথা, কাঁপুনি, হাত-পা ও শরীরে পানি জমে যাওয়া, কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া, সামান্য আঘাতে হাড় ভেঙে যাওয়ার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় নিশ্চিত করেন মেডিকেল অফিসার ডা. আসাদুজ্জামান চৌধুরী।
তিনি আরও বলেন, ‘ওষুধ নামের এসব বিষ সেবনে আমাদের শরীরের হৃৎপিÐ, ফুসফুস, লিভার, কিডনি এমনকি হাড়ের ওপর মারাত্মক চাপ তৈরি হয়। ধীরে ধীরে এসব অঙ্গ বিকল হয়ে যায়। ফলে হৃদরোগ, ফুসফুসের রোগ ও কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত ক্যানসার হতে পারে।’
এ প্রসঙ্গে হাকিম মো. আজির উদ্দিন তালুকদার বলেন, হাকিম. মো. আজিজ মিয়া প্রকৃতপক্ষে কিউএইচএসসি পাশ না। তিনি আমার সহযোগী। তবে তিনি কি ওষুধ বিক্রি করছেন সেটা আমার জানা নেই। এ ওষুধের অনুমোদন আছে।