ময়মনসিংহের গৌরীপুরে শনিবার (১৪ আগস্ট/২০২১) কমিউনিটি এ্যাকটিভিটিস ফর রুরাল এ্যাডভান্সমেন্ট (কারা) নামের একটি এনজিও’র ‘স্বাস্থ্য সেবার নামে প্রতারণা’, কর্মীদের নিকট থেকে নানাখাতে অর্থ আদায়, জোরপূর্বক উচ্চমূল্যে ওষুধ বিক্রি, জুলাই মাসের বেতনভাতা প্রদানসহ বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিক্ষুব্দ কর্মীরা বিক্ষোভ-সমাবেশ করে অফিসে তালা ঝুলিয়ে প্রতিবাদ জানায়। বেতনভাতা, স্বাস্থ্যসেবা কার্ডের অর্থ ফেরত, বিভিন্নখাতে নেয়া অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়ে ইউএনও হাসান মারুফের নিকট লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন।
ইউএনও হাসান মারুফ জানান, কর্মীদের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জানা যায়, কমিউনিটি এ্যাকটিভিটিস ফর রুরাল এ্যাডভান্সমেন্ট (কারা) নামের একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর, ফুলপুর, ঈশ^রগঞ্জ, নান্দাইল ও ময়মনসিংহে কাজ করার অনুমতি প্রদান করেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
কমিউনিটি এ্যাকটিভিটিস ফর রুরাল এ্যাডভান্সমেন্ট (কারা)’র মাঠকর্মী লিমা আক্তার জানান, ৩পাতার একটি প্রশিক্ষণ সিট দিয়ে প্রশিক্ষণের নামে ১হাজার টাকা নেয়া হয়েছে, এফ্রোন (নির্ধারিত পোষাক) খাতে ১হাজার টাকা নিয়েছে। আমাদেরকে দিয়ে নিম্নমানের ওষুধ উচ্চমূল্যে গ্রাহকদের নিকট বিক্রি করতে বাধ্য করা হচ্ছে। আরেক কর্মী রুমা আক্তার জানান, তাকে প্যারামেটিক কোর্সের নামে ৭হাজার টাকা নেয়া হয়েছে। জোবেদা খাতুন ও সুবর্ণা রাণী জানান, তাদের প্রত্যেকের নিকট থেকে ২হাজার ৪শ টাকা করে নিয়েছে। আনোয়ারা আক্তার জানান, নানাখাতে তার নিকট থেকে ৪হাজার টাকা নেয়া হয়েছে। বিক্ষুব্দ কর্মীরা জানান, প্রতিমাসে সাড়ে ৭হাজার টাকা বেতনের ঘোষণা আমরা চাকুরী নিয়েছি। জুলাই মাসের বেতন আগস্টের ১৪তারিখেরও পাচ্ছি না। লিমা আক্তার আরো জানান, এটা কোন চাকুরী নয় ‘স্বাস্থ্যসেবার নামে প্রতারণা’। প্রথমে স্বাস্থ্য কার্ড ২শ টাকা, এরপরে প্রত্যেক কর্মী ১৫০জনের নিকট থেকে স্বাস্থ্যসেবার নামে প্রতিমাসে ১শ টাকা করে এনে দিতে হবে। তাদেরকে আমরা কোন সেবাই দিতে পারছি না। বাজারে যে ওমিপ্রাজল ৩০টাকা আমাদের সেটা বিক্রি করতে হচ্ছে ৫০টাকায়। প্রেসার মাপা, জ¦র মাপা, ডায়াবেটিকস্ মাপা এসব যন্ত্রও আমাদের কিনতে হয়েছে। কমিউনিটি এ্যাকটিভিটিস ফর রুরাল এ্যাডভান্সমেন্ট (কারা)’র সমন্বয়কারী মুশফিকুর রহমান রেজা কর্মীদের এসব অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, উনারা কার্ড (স্বাস্থ্যসেবাগ্রাহক) বিক্রি করে টার্গেট পূরণ করতে হবে। প্রতিজন ১৫০জনকে সদস্য করবেন ১০০টাকা করে তুলে অফিসে ১৫হাজার টাকা জমা দিবেন, সাড়ে ৭হাজার টাকা বেতন পাবেন। না হলে, আমরা খাবো কী! এই অফিস চলবে কিভাবে, হেড অফিসেই কী পাঠাবো!
কর্মীরা জানান, শনিবার তাদের সকল পাওনা ফেরতের দাবিতে কার্যালয় ঘেরা ও অফিস কক্ষে সমন্বয়কারীকে তালাবদ্ধ রেখে আন্দোলন করছিলেন। এ সময় ভবন মালিক শফিকুল ইসলাম রিপন তাকে ছেড়ে দেন। তিনি জানান, উদ্ধুদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সমন্বয়কারী মুশফিকুর রহমান রেজাকে ছেড়ে দিয়ে কর্মীদের দাবির প্রেক্ষিতে অফিস তালাবদ্ধ করা হয়েছে। তাদের টাকা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত কার্যালয় বন্ধ থাকবে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, সংস্থাটি জিডি হেলথ থেকে অনুমতি নিয়ে এসেছে। গণসচেতনামূলক কার্যক্রম করবে। কোনরূপ টাকা গ্রহণের সুযোগ নেই। তাদের দেয়া কর্মপরিকল্পনায়ও গ্রাহক বা কর্মীদের নিকট থেকে অর্থগ্রহণের বিষয়টি উল্লেখ নেই। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সিভিল সার্জনের ৬জুন দেয়া অনুমতি পত্রে দেখা যায়, জেলার ৬টি উপজেলায় কারা’র উদ্যোগে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে/গ্রামীণ ও শহরে অনভিজ্ঞ জনসাধারণকে স্বাস্থ্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য সচেতনমূলক কার্যক্রম, পুষ্টি, ভিটামিন, মাতৃস্বাস্থ্য, শিশু স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ সম্পর্কে অবহিতকরণ ও এ বিষয়ে সচেতনমূলক প্রশিক্ষণ এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা, ভ্যাকসিন ও টিকাদান কর্মসূচী সম্পর্কে সচেতন ও কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন রয়েছে।
আরেক মাঠকর্মী আনোয়ারা খাতুন জানান, অফিসে স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ দেশের বিশিষ্টজনদের সঙ্গে নানা কার্যক্রমের ছবি টাঙানো হয়েছে। এসব দেখিয়ে ও সিভিল সার্জনের অনুমতি পত্র দেখিয়ে আমাদেরকে চাকুরীর প্রলোভন দেয়া হয়।