ময়মনসিংহের গৌরীপুরের ধান ব্যবসায়ী আব্দুল মজিদের (৫০) নিখোঁজের ৪ দিন পর বস্তাবন্দি মরদেহ নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুড়ি থানার লিপসিয়া হাওড় থেকে বৃহস্পতিবার (৫ আগষ্ট) খালিয়াজুড়ির লিপসিয়া ফাঁড়ির পুলিশ বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে। তিনি গৌরীপুর উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের দারিয়াপুর গ্রামের মৃত আব্দুল হেকিমের পুত্র। তিনি গত সোমবার (২ আগস্ট/২০২১) ৩লাখ ৬০হাজার টাকা নিয়ে খালিয়াজুড়ির লেপসিয়া বালুরচর এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়।
গৌরীপুর উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের মৃত সিরাজুল ইসলাম মাস্টারের পুত্র মো. এমদাদ উল্লাহ জানান, আব্দুল মজিদ হাওড় অঞ্চল থেকে ধান কিনে তার নিকট বিক্রি করতো। ঘটনার দিন ২২৫টি বস্তা ও ৩লাখ ৬০হাজার টাকা নিয়ে হ্যান্ডট্রলিযোগে খালিয়াজুড়ি থানার আড়ারকান্দি গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
এ বিষয়ে লিপসা পুলিশ ফাঁড়ির তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. হানিফ উদ্দিন জানান, নিখোঁজের পর থেকেই উল্লেখিত ব্যক্তির সন্ধানের জন্য পুলিশ তৎপর ছিলো। বৃহস্পতিবার সকালে লিপসিয়া হাওড়ে বস্তাবন্দি লাশ পাওয়া যায়। ধান ব্যবসায়ী মৃত্যুর খবর এলাকায় ক্ষোভে ফুসছেন বিক্ষুব্দ ধান ব্যবসায়ী, হ্যান্ডট্রলি চালক ও এলাকাবাসী। তারা বৃহস্পতিবার বিকালে তাৎক্ষনিক গৌরীপুর-শাহগঞ্জ সড়কে আব্দুল মজিদ হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।
নিহতের বড় ভাই মো. আব্দুস সালাম মিয়া জানান, তার ছোট ভাই আব্দুল মজিদ গত সোমবার (২আগস্ট/২০২১) দুপুর ২টার দিকে ধান ক্রয়ের জন্য ২২৫টি খালি বস্তা ও সঙ্গে ৩লাখ ৬০হাজার টাকা নিয়ে বের হয়। এরপর আর বাড়ি ফিরেনি। ওইদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে তার মুঠোফোনও বন্ধ ছিলো। এ ঘটনায় খালিয়াজুড়ি থানায় ৪ আগস্ট সাধারণ ডায়রী করা হয়। যার জিডি নং ১১০। তিনি আরো জানান, মাওহা ইউনিয়নের মৃত সিরাজুল ইসলামের পুত্র মো. এমদাদ উল্লাহ এর নিকট থেকে এ টাকা ও বস্তা নিয়ে যায়। নিখোঁজের দিন সন্ধ্যা ৭টা ২০মিনিটে তাকে জানায় সে খালিয়াজুড়ির লেপসিয়া বালুরচর মুচার বাড়ির সামনে নৌকা থেকে নেমেছে। আরেকটি নৌকা নিয়ে হারারকান্দি গ্রামের বাদল মিয়ার নিকট যাবে। এরপর থেকেই তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা যায়নি। নিহতের পুত্র শাহিন রানা জানান, তার বাবা আব্দুল মজিদ প্রায় একমাস যাবত খালিয়াজুরির হারারকান্দি গ্রামের আবুল মিয়ার সহযোগিতায় ধান ক্রয় করিয়া ব্যবসা করে আসছিলো। ঘটনারদিনও হ্যান্ডট্রলি (লরি) নিয়ে ধান আনতে যায়। হ্যান্ডট্রলিটি উচিতপুর এলাকায় রেখে নৌকাযোগে রওনা হয়।
খালিয়াজুড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মজিবুর রহমান জানান, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নেত্রকোণা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ রিপোর্ট পাঠানো পর্যন্ত (সন্ধ্যা ৭টা) মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।