প্রধান প্রতিবেদক :
‘চরাঞ্চলের কর্দমাক্ত, খানা-খন্দকের কারণে যানবাহন চলাচল বন্ধ। সেই অচল সড়ককে এবার ব্যক্তিগত উদ্যোগে সচল করে দিচ্ছেন কৃষিবিদ ডক্টর সামীউল আলম লিটন। প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের জন্য ১৫হাজার মানুষ দুর্ভোগের শিকার হন। এ থেকে এবার এলাকাবাসীকে মুক্তি দিতে চলছে ইটের সলিং কার্যক্রম।
বারুয়ামারী গ্রামের সামছ উদ্দিন মিয়ার পুত্র লাল মিয়া জানান, কর্দমাক্ত, রাস্তার ভাঙনে খান্দা-খন্দকে সড়কটি ব্যবহারের অনুপযোগী। রাতে মানুষ মারা গেলেও কেউ বাহিরে যেতে পারে না। চিকিৎসা করার কোন সুযোগ নেই। জেলখানার চেয়েও বড় এক বন্দিশালায় আমাদের জীবন আটকে আছে। কৃষক আবুল হাসিম বলেন, ধান-চাল নিয়ে বাজারে যাওয়া যাচ্ছে না। চরাঞ্চলের মানুষের প্রধান পেশা হলো ‘সবজি চাষ’। আগে সকালে ভ্যান এসে সবজি নিয়ে যেতো, রাস্তা খারাপের জন্য ভ্যান আসে না। আমরাও নিয়ে যেতে পারছি না। এদিকে বারুয়ামারী উচ্চ বিদ্যালয়ের দেয়া ঘেঁষে ২৫/৩০ফুট স্থানে দেড়/দু’ফুট গভীরের খানা খন্দক। যা শিক্ষার্থীদের চলাচল প্রধান প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দুর্ভোগে থাকা এসব মানুষকে মুক্তি দেয়ার জন্য এগিয়ে এসেছেন ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ ডক্টর সামীউল আলম লিটন। তিনি জানান, রাস্তাটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকাবাসী চরম কষ্টে আছেন। তাদের এ কষ্ট দূরীভুত করার উদ্যোগ নিয়েছি। রাস্তা মেরামতে প্রায় ১০লাখ টাকা ব্যয় হবে। তিনি আরো জানান, সামনে ঈদ ঈদুল আযহা এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকীর নানা কর্মসূচী চলছে। এ কাজটিও মুজিবভক্তদের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে, অন্যদের মাঝেও অনুপ্রেরাণা জোগাবে।
বারুয়ামারী গ্রামের আব্দুল জব্বার জানান, নির্মাণ কাজ শেষ হলে স্বস্তি ফিরে পাবে সাত গ্রামের প্রায় ২০হাজার মানুষ। তিনি আরো জানান, এ ইউনিয়নের সর্ববৎ ঈদের জামাত হয় ভাংনামারী ঈদগাহে। সেখানে বারুয়ামারী, খানপাড়া, দুর্বারচর, লক্ষীপুর, ভাংনামারী, সুতিয়ারপাড় ও চরঘোড়ামারা লোকজন আসেন। একমাত্র সড়ক এটি। জেলা বা উপজেলা সদরে যাওয়ার বিকল্প কোন সড়ক নেই। সড়কটি মেরামত হলে এলাকাবাসীর নিকট ’ঈদের উপহার হবে ‘এ সড়ক’ যোগ হবে নুতন আনন্দ।’
এ মহতী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন খানপাড়ার আবুল হাসিম (৬৫)। তিনি জানান, বর্ষাকালে এ রাস্তার কারণে পায়ে ঘাঁ হয়েছে, জুতা পড়তে পারি নাই এবার জুতা পা দিয়ে ঘরে যাবো। বারুয়ামারী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসী জানান, কতোজনের বই-খাতা এ গর্তে পড়ছে তার হিসাব নাই। আর কষ্ট হইবো না, আমি খুব খুশি কাজ হচ্ছে দেখে, মেরামত হলে জোরে একটা দৌড় দিবাম।
রাস্তাটি অত্যন্ত জনগুরুত্ত্বপূণ দ্রুত সময়ের মধ্যে পাকাকরণের দাবি জানান বারুয়ামারী গ্রামের কলেজ পড়ুয়া নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, লিটন ভাই মহৎ কাজ করেছেন আমাদের জন্য। তবে রাস্তাটি পাকাকরণ প্রয়োজন। এ গ্রামের বাসিন্দা ছাত্রনেতা জিয়ারুল ইসলাম ছোটন জানান, চরাঞ্চলের মানুষের এ দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধানও প্রয়োজন। এই মুর্হূতে মেরামত না হলে এবারের ঈদে আত্মীয়-স্বজন বাড়িতে আসার উপায় ছিলো না।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকৌশলী আবু সালেহ মোহাম্মদ ওয়াহেদুল হক জানান, এ সড়কটি নতুন প্রকল্পের অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। চলতি অর্থবৎসরে বরাদ্দ পাওয়া গেলে এক বছরের মধ্যে রাস্তাটি পাকাকরণ করা হবে।
টি.কে ওয়েভ-ইন