গৌরীপুর প্রতিনিধি ঃ
করোনা ভাইরাস; পজেটিভ-নেগেটিভ! পজেটিভ হয়ে গৌরীপুরে ঢুকে, আবারও ঢুকার পরেই নেগেটিভ; এ দু’ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মাঝে নানা প্রশ্নেরও জন্ম নিচ্ছে। এসব মানুষের ভাবনা, ‘মানুষ বাঁচে, করোনা ভাইরাস গৌরীপুরে আসার পর এ ভাইরাস বাঁচে না, মরে যায়!’
গত ১৭ মে ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন অফিস থেকে নিশ্চিত করা হয় গৌরীপুরে একজন করোনা পজেটিভ। গৌরীপুরে আক্রান্ত ব্যক্তি ময়মনসিংহ হাসপাতালের আউট সোর্সিংয়ের ওয়ার্ডবয় হিসাবে কর্মরত আছেন। তার বাড়ি রামগোপালপুর ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর গ্রামে। এ ঘটনার পরপর প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি আর সাংবাদিকদের শুরু হয় দৌড়-ঝাঁপ। এলাকা থেকে মুঠোফোনে আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাজারো পরামর্শও চলতে থাকে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে ওইদিন থেকে বাড়িতে আইসোলেশানে রাখা হয়। পরদিন ওই বাড়ির ২২জন ও আক্রান্ত ব্যক্তির আবারও নমুনা সংগ্রহ করেন গৌরীপুর হাসপাতালের মেডিকেল টিম। বুধবার (২০ মে/২০২০) রির্পোট আসে সবাই নেগেটিভ।
অপরদিকে কিনারম্যানের ২৪ঘন্টা পর করোনা ভাইরাস কিয়ার হয়ে গেছে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বৃহস্পতিবার (১৪ মে/২০২০) রাতে দেয়া রির্পোটে তার নমুনা পরীক্ষায় নেগেটিভ এসেছে। তিনি ঈশ^রগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কিনারম্যান, বয়স-৩২। তার বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরীপুরে। এ উপজেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগী হিসাবে তিনি সনাক্ত হয়েছিলেন।
এ দিকে বৃহস্পতিবার আক্রান্ত পরিবারের আরো ৫জনসহ ১০জনের নমুনা সংগ্রহ করেছে গৌরীপুর হাসপাতালের করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ সেল।
গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম জানান, ঈশ^রগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গত ৫ মে কিনারম্যানের নমুনা সংগ্রহ করেন। বুধবার রাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল করোনা ইউনিটের দেয়া ফলাফলে তার করোনা ভাইরাস পজেটিভ আসে। এরপর তাকে ঈশ^রগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশানে নেয়া হয়েছে। তার শরীরে বর্তমানে কোন উপসর্গ নেই।
সংক্রমন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ইউএনও সেঁজুতি ধর জানান, বৃহস্পতিবার তার নমুনা পরীক্ষায় ফলাফলে করোনা পজেটিভ নয়, নেগেটিভ এসেছে। সংক্রমন প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ডাঃ মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম জানান, শুধু আক্রান্ত ব্যক্তি নয়, তার পরিবারের সকলের করোনা ভাইরাস পরীক্ষা নেগেটিভ এসেছে।
প্রথমজন ঈশ^রগঞ্জ থেকে করোনা পজেটিভ হয়ে গৌরীপুরে আসেন, দ্বিতীয় জন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে করেনা পজেটিভ হন। ১৪দিনের চিকিৎসা, ডাক্তারী পরামর্শ ও নানাবিধি নিয়মনীতি ছাড়াই তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে নেগেটিভে পরিণত হন।
বৃহস্পতিবার (২১ মে/২০২০) পর্যন্ত গৌরীপুর উপজেলা করোনা ভাইরাস মুক্ত উপজেলা।