বাংলাদেশ স্কাউটস্ ময়মনসিংহ অঞ্চলের উদ্যোগে শনিবার (৬ ডিসেম্বর/২৫) ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের শাপলা কাব ও রাষ্ট্রপতি অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত ময়মনসিংহের গৌরীপুরের ৭১জন এ সম্মাননা পেয়েছে। এছাড়াও ময়মনসিংহ বিভাগে কাবের শাপলা অ্যাওয়ার্ড ৪২৩জন ও রাষ্ট্রপতি অ্যাওয়ার্ড ১৪০জনের মাঝে বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির ময়মনসিংহের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার জন কেনেডি জাম্বিল স্কাউট কাবদের রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ এ সম্মানা প্রদান করেন।
স্কাউটের মূলমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে নিজেকে আত্মপ্রত্যয়ী, পরোপকারী, আত্মনির্ভরশীল ও দেশপ্রেমিক হওয়ার অঙ্গিকারে স্কাউট কাবদের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের লড়াইয়ে স্কাউটের সর্বোচ্চ পদক ‘শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করে। গৌরীপুরে এ সম্মাননা পান ২০২৩সনে রিফাহ তাসনিয়া তরী, আমিনা সাদাফ তাশমি, কাশফিয়া জাহান তৃপ্তি, তায়িবাহ তাবাসুসম মৌ, মো. রেজুয়ান, ইয়ামিন আরাফাত জেসান, তরিকুল ইসলাম সাইফ, মোছা. নিলিমা, মো. ইয়াছীন আরাফাত লামীম, মো. ইয়াসিন আরাফাত সাঈম, মোছা. সুমাইয়া আক্তার, ইভা আক্তার মানহা, গাউছিয়া নুসরাত আদিবা, পূর্ণিমা চৌধুরী পড়শী, ফাতিমা আক্তার ইজমা, স্নিগ্ধা ভৌমিক, তফসিকুল হাসান মাহিম, নুশরাত জাহান বুশরা, আসমাউল হুসনা আনিকা, স্বর্গদীপ সরকার, ফারিজা জান্নাত তমা। ২০২৪ সনে তাহমিন ইসলাম আদিব, প্রিয়া দাস, ইয়াকিন আরাফাত জেমান, জুনাইদ হাসান সিয়াম, তাসমিরাহ আমরিন।
চন্দপাড়া মুক্ত স্কাউটের স্বপ্নদ্রষ্টা বিদ্যুৎ কুমার নন্দী জানান, গত ৫বছরে গৌরীপুরে ‘শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছে ৬০জন ও প্রেসিডেন্ট’র অ্যাওয়ার্ড ১১জন। এরমধ্য শুধুমাত্র চন্দপাড়া মুক্তস্কাউট গ্রুপে পায় ‘শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড’ ৩৮জন ও প্রেসিডেন্ট’র অ্যাওয়াড ৮জন।
অ্যাডভোকেট মাহমুদ আল নূর তারেক অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ স্কাউটস ময়মনসিংহ অঞ্চলের সভাপতি ও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. শহীদুল্লাহ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা ময়মনসিংহ অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর এ কে এম আলিফ উল্লাহ আহসান, উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, ময়মনসিংহ প্রাথমিক শিক্ষার বিভাগীয় উপ-পরিচালক মো. জালাল উদ্দিন, স্কাউটস্ ময়মনসিংহের আঞ্চলিক কমিশনার মো. নজরুল ইসলাম, সম্পাদক মো. হাসান মাসুদ, কোষাধ্যক্ষ মো. আশরাফুল ইসলাম, উপ-পরিচালক অলক চক্রবর্ত্তী, নাসিরাবাদ কলেজিয়েট স্কুল স্কাউট গ্রুপের সহকারী ইউনিট লিডার মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।
২০২০-২০২৪ সনে শাপলা অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে ময়মনসিংহে ২০১জন, নেত্রকোণায় ১৯জন, জামালপুরে ১৫৩জন, শেরপুরে ৫০জন আর রাষ্ট্রপতি অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত হন ময়মনসিংহে ৭৪জন, নেত্রকোণায় ২৭জন, জামালপুরে ৩৬জন, শেরপুরে ৩জন। ২০২৩ সনে গৌরীপুর পৌর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে রিফাহ তাসনিয়া তরী। তিনি দৈনিক যুগান্তরের গৌরীপুর প্রতিনিধি ও স্বজন উপদেষ্টা মো. রইছ উদ্দিনের কন্যা। রিফাহ তাসনিয়া তরী একজন আলোকিত মানুষ হতে চায়। তার মা প্রতিভা মডেল স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান হোমায়রা শাহরিন তুলি।
তরী জানায়, লেখাপড়ার পাশাপাশি কাব স্কাউটের মাধ্যমে বাগান পরিচর্যা, বৃক্ষরোপণ, মানুষের সেবা করা, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, বাল্যবিয়েবিরোধী প্রচারণাসহ সমাজসেবামূলক কার্যক্রমে অনুপ্রাণিত হয়েছে সে। এছাড়াও একই বিদ্যালয়ের এ সম্মাননা অর্জন করে কাশফিয়া জাহান তৃপ্তি। সে গোবিন্দনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. কামাল হোসেন ও গৃহিনী ফারিয়া শারমিন তানিয়ার কন্যা। ওরা দুজনেই গৌরীপুর পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। ভবিষ্যতে ডাক্তার হয়ে মানবকল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করতে চায় তরী ও তৃপ্তি। ‘যথাসাধ্য চেষ্টা করিব’ এই মূলমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে কাবিং কার্যক্রম, মানবিক, সামাজিক ও পরিবেশ রক্ষায় অবদানের জন্য শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে তাহমিন ইসলাম আদিব।
সে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা হতে চায়। আদিব এর আগে প্রাথমিক শিক্ষা পদকে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করে। সে গজন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র। আদিব গৌরীপুর যুগান্তর স্বজন সমাবেশে ক্ষুদে সক্রিয় স্বজন ও তার মা ইসরাত জাহান লাকী গজন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। আদিব কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কনসহ একাধিক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ান হয়। ডাক্তার হতে চায় তফসিরুল হাসান মাহিম। সে ভাংনামারীর বারুয়ামারী গ্রামের মোবারক হোসেন ও আছিয়া খাতুনের ছেলে। সে বর্তমানে বারুয়ামারী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে অধ্যয়নরত।
একই এলাকার মো. শফিকুল ইসলাম ও সাদিয়া পারভীন রানুর মেয়ে নুসরাত জাহান বুশরাও ডাক্তার হতে চায়। ইঞ্জিনিয়ার হতে চায় মো. আল আমিন ও লিমা আক্তারের ছেলে ইয়াছিন আরাফাত লামীম। ডৌহাখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী পূর্ণিমা চৌধুরী পড়শি। তার জীবনের লক্ষ্য ডাক্তার হওয়া। সে অনুপম চৌধুরী ও বিউটি রাণী করের মেয়ে। বারুয়ামারী স্কুরের ইয়াছিন আরাফাত সাঈম হতে চায় ব্যাংক কর্মকর্তা। সে হাসানুল্লাহ সবুজ ও রিনা বেগমের ছেলে। ডাক্তার হতে চায় ইভা আক্তার মানহা। সে বারুয়ামারী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭ম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত। সে ইসমাঈল হোসেন ও মোসা. শিউলী বেগমের মেয়ে।
একজন কৃষি কর্মকর্তা হতে চায় মোছা. ফাতিহা আক্তার ইজমা। সে ডৌহাখলা উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। সে মোহাম্মদ শাহজালাল ও মোছা. জেসমিন আক্তারের মেয়ে। গজন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাব সদস্য হিসাবে তরিকুল ইসলাম সাইফ শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে। সে হতে চায় একজন সেনা অফিসার। সে গজন্দর এলাকার মো. শফিকুল ইসলাম ও মোছা. তাছলিমা বেগমের ছেলে।
গৌরীপুর আরকে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭ম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত। একই এলাকার মো. জাহাঙ্গীর আলম ও মোছা. রওশন আক্তারের ছেলে মো. রেজুয়ান স্বপ্ন দেখতে একজন সেনা অফিসার হওয়ার। নুরুল আমি খান উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে অধ্যয়নরত নিরব হাসান একজন সেনা কর্মকর্তা হতে চায়। সে মো. সুমন মিয়া ও মোছা. সেতারা বেগমের ছেলে। একই বিদ্যালয়ের এয়ামিন আরাফাত জেসানও সেনা কর্মকর্তা হতে চায়। সে মো. নুরুল আমিন ও রোকসানা পারভীনের ছেলে।