বৃহত্তর ময়মনসিংহ এখন ভূমিকম্পের সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল। অগণিত বহুতল ভবনের তালিকায় থাকা ময়মনসিংহে সম্প্রতি ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দৃশ্যমান না হলেও বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, ময়মনসিংহ অঞ্চল সর্বোচ্চ ভূমিকম্প ঝুঁকিতে। ভূমিকম্প বা অগ্নিকাণ্ডের দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস বা সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুতি নেই। ময়মনসিংহ জেলা ভূমিকম্পের সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হলেও কোনো অফিসে জেলার কোনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা পাওয়া
ঝুঁকিপূর্ণ সরকারি ভবনের তালিকা জানার জন্য ময়মনসিংহের গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অর্নব বিশ্বাসকে বার বার ফোন দেওয়ার পরও তিনি ফোন ধরেনি। ভূমিকম্পের প্রস্তুতি নিয়ে কোন কথা বলতে রাজি হয়নি ময়মনসিংহ ফায়ার ও সিভিল ডিফেন্স। এ বিষয়ে ময়মনসিংহে সহকারী পরিচালক পূর্ণচন্দ্র মুৎসুদ্দি জানান, আমাদের কর্তৃপক্ষ চিঠি দিয়ে এ বিষয়ে কথা বলতে নিষেধ করেছেন। তাই ভূমিকম্পসহ অন্যান্য বিষয়ের কথা বলতে আমরা পারব না। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. মুরাদ আহমেদ ফারুক বলেন, ময়মনসিংহ এখন দেশের শীর্ষ ঝুঁকির অঞ্চলে (জোন-১) এ অবস্থান করছে। ময়মনসিংহ শহরে বিল্ডিং কোড মেনে বেশিরভাগ ভবনই নির্মাণ হয়নি। যদি কখনো উচ্চমাত্রার ভূমিকম্প হয়, তাহলে নগরীর অধিকাংশ বহুতল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ভয়াবহ প্রাণহানি ঘটবে। তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চল একটি সক্রিয় ফল্ট জোনে অবস্থান করছে। এর যে কোনো স্থানে সৃষ্ট ভূমিকম্প পুরো অঞ্চলে প্রভাব ফেলতে পারে।’
সূত্রমতে, বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে ময়মনসিংহের ভূতাত্ত্বিক মানচিত্র সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ব্রহ্মপুত্র নদ ফিরে পেতে পারে তার হারানো গতিপথ। এতে নদীর তীরবর্তী অঞ্চল-ময়মনসিংহ সদর, জামালপুর, শেরপুর ও কিশোরগঞ্জ বন্যায় তলিয়ে যেতে পারে। ইতিহাস বলছে, ১৭০০ শতকের শেষ দিকে এক ভয়াবহ ভূমিকম্পেই ব্রহ্মপুত্র তার গতি বদলে আজকের যমুনা নদে পরিণত হয়। ১৮৯৭ সালের ১২ জুন সংঘটিত ৮.৭ মাত্রার আসাম ভূমিকম্পে এই অঞ্চল ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। নগরবাসী জানান, ময়মনসিংহ শহরে বর্তমানে অসংখ্য বহুতল ভবন, মার্কেট ও আবাসন প্রকল্প গড়ে উঠেছে এবং অসংখ্য বহুতল ভবন ও মার্কেট নির্মাণাধীন। কিন্তু এসব বহুতল ভবন ও মার্কেট নির্মাণে বিল্ডিং কোড মানা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ মানুষ বিশ্বাস জানান, খুব শিগগিরই এলজিডি, গণপূর্ত ও সিটি করপোরেশনসহ একটি কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটির মাধ্যমে সিটি করপোরেশন এলাকায় বেসরকারি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করার পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান জানান, ইতিমধ্যে আমরা ভূমিকম্পে করণীয় সম্পর্কে সচেতন করতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের যে নির্দেশনা রয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা এবং উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। জেলায় সরকারি ভবনের যেগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে সেগুলো অপসারণ এবং নতুন করে কোনো ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রয়েছে কিনা তা চিহ্নিত করতে ইতোমধ্যে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে