রাজধানীর লালবাগ থানার পেছনে শহীদনগর এলাকায় অবস্থিত বালুঘাট মাঠটি ২০২০ সালে শিশু-কিশোরদের জন্য আধুনিক খেলার মাঠ ও বিনোদন কেন্দ্র হিসাবে উদ্বোধন করা হয়। এ সময় বলা হয়েছিল, মাঠজুড়ে আলোকসজ্জা, ফুটবল গোলপোস্ট, বসার বেঞ্চ, শিশুদের জন্য পার্ক ও খেলার রাইড বসানো হবে। এলাকাবাসী পাবেন মানসম্মত খেলার মাঠ। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উলটো। মাঠটি এখন পরিণত হয়েছে অন্ধকার, অপরিচ্ছন্ন ও ঝুঁকিপূর্ণ এক পরিত্যক্ত স্থানে। সন্ধ্যার পর মাঠটি দখলে নেয় মাদকসেবীরা। ২৬টি লাইটের একটিও জ্বলে না। গেট ভাঙা। বাউন্ডারির জাল ছিঁড়ে গেছে। ভেতরে নেই কোনো খেলার উপযোগী পরিবেশ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাঠ উন্নয়নের নামে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠের চারপাশের বাউন্ডারির লোহার জাল ছিঁড়ে গেছে। অনেক অ্যাঙ্গেলের গোড়া নড়বড়ে হয়ে যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। চারটি গেটের মধ্যে দুটি ভাঙা ও দুটি তালাবদ্ধ থাকায় শিশুরা ফাঁক দিয়ে ঢুকতে গিয়ে আহত হচ্ছে। সব বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়ে যাওয়ায় মাঠটি সন্ধ্যার পর অন্ধকারে ডুবে থাকে। ফুটবলের গোলপোস্ট একে একে চুরি হয়ে গেছে। এমনকি এলাকাবাসীর বসানো বাঁশের পোস্টও চুরি হয়েছে। দর্শনার্থীদের বসার বেঞ্চ বা শিশুদের জন্য প্রতিশ্রুত পার্ক রাইড কিছুই বাস্তবায়িত হয়নি। বরং জায়গাটি এখন ময়লার স্তূপ। মাঠজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে ইটের খোয়া, ভাঙা কাচ, লোহার টুকরা, যা একে ‘আঘাতের ফাঁদ’-এ পরিণত করেছে। আলো না থাকায় সন্ধ্যার পর মাঠ দখল করে মাদকসেবীরা। এলাকাবাসী আতঙ্কে মাঠে প্রবেশ এড়িয়ে চলেন। এক সময়ের শিশু-কিশোরদের খেলার জায়গা আজ এলাকাবাসীর ভয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে রূপ নিয়েছে।
শহীদনগরের কিশোর আরিফ ও সাইফুল যুগান্তরকে বলেন, ২০২০-২১ সালে মাঠটি উদ্বোধনের সময় বলা হয়েছিল এখানে খেলার সব সুবিধা থাকবে। কিন্তু বাস্তবে কিছুই নেই। মাঠে এলাকার ছেলেরা আর খেলতে আসে না।
কামরাঙ্গীরচরের বাসিন্দা মো. সানি বলেন, এই মাঠে এখন কোনো খেলার পরিবেশ নেই। সন্ধ্যার পর পুরো মাঠ অন্ধকার থাকে। শিশুদের জন্য পার্ক করার কথা ছিল। কিন্তু সেটি এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। যারা মাঠ সংস্কারের নাম করে কোটি টাকা ব্যয় করেছে, তারা আসলে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. শাকিল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উদ্বোধনের সময় আমাদের অনেক স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল। বলা হয়েছিল আধুনিক খেলার মাঠ হবে। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যে সব ভেঙে নষ্ট হয়ে গেছে। মাঠ উন্নয়নের নামে যে অর্থ ব্যয় করা হয়েছে, তার সুফল পায়নি এলাকাবাসী।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল ৩-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সুজাউদ্দৌলা যুগান্তরকে বলেন, আমি সম্প্রতি এই অঞ্চলে যোগদান করেছি। যদি এ ধরনের সমস্যা থাকে, আমরা দ্রুত একজন মাঠপর্যবেক্ষক পাঠিয়ে সরেজমিনে নিরীক্ষা করব এবং সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেব।