ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সহনাটী ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক হুমায়ুন কবীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুত্র হত্যার বিচার চাওয়ায় হুমায়ুনের বাবা আব্দুল কাইয়ুম (৪৫), নিহতের চাচা রাশিদ (৪৭), রহমান (৫২) ও হত্যা মামলার স্বাক্ষীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়েরের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ প্রসঙ্গে নিহতের বাবা আব্দুল কাইয়ুম শুক্রবার (২২ আগস্ট/২৫) সাংবাদিকদের জানান, ছেলে হত্যার বিচার চাওয়া আমার জন্য অভিশাপ। এ কারণে আমার পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃবৃন্দকে আসামী করে একের পর এক মামলা দায়ের করা হচ্ছে। স্বাক্ষীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করায় আমরা আতঙ্কগ্রস্থ, ভীত ও চরম হয়রানির শিকার হয়েছি।
হত্যাকাণ্ডের পরে আসামীদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া ও লুটপাটের অভিযোগ এনে ৪টি মামলা দায়ের করা হয়। সোনাকান্দি গ্রামের মজিবর রহমানের স্ত্রী জড়িনা খাতুন বাদী হয়ে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করেন। এছাড়াও হত্যা মামলার আসামী আব্দুল কদ্দুস। তার স্ত্রী মোছা. কল্পনা বাদী হয়ে হত্যা মামলার বাদী মো. আব্দুল কাইয়ুমকে প্রধান আসামী করে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৪নং আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন। একই আদালতে মাসুদ রানার স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার বাদী ১টি ও কামরুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. জোসনা আক্তার বাদী হয়ে আরও একটি মামলা দায়ের করেন।
এসব মামলা প্রত্যাহার ও হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল-মানববন্ধন করে উপজেলার সহনাটী ইউনিয়নের পাছার বাজারে। মানববন্ধন কর্মসূচীতে সভাপতিত্ব করেন সহনাটী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ডা. এবি সিদ্দিক। সঞ্চালনা করেন সহনাটী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আল মাসুদ রতন। বক্তব্য রাখেন নিহত হুমায়ুনের বাবা আব্দুল কাইয়ুম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফ হোসেন আহাদ, বিএনপির সদস্য আবুল খায়ের, সহনাটী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির সাইদুর রহমান এমদাদ, ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম, ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর, সহনাটী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রুহুল আমিন, সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম, পাছার বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাপ মিয়া, ব্যবসায়ী সমিতির উপদেষ্টা শামীম চিশতী, সহনাটী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. চান মিয়া, বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম, ডা. উসমান আলী, সুলতান মিয়া প্রমুখ।
গত ১৩ জুন সহনাটী ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির (২২) হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তার বাবা আব্দুল কাইয়ুম (কাইয়ুম) বাদী হয়ে গত ১৬ জুন গৌরীপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় মো. বাদল মিয়া (তোতা মিয়া), মো. রাশিদুল ইসলা রানা (রাসু), মো. সজিব মিয়া, রবিন, মো. মেহেদী হাসান টুটুল, মো. মাসুদ রানা, মো. আব্দুল কদ্দুছ, মো. মজিবুর রহমান, মো. সোহাগ মিয়া, মো. শামছুল হক, কামরুল ইসলামের নাম উল্লেখ ছাড়াও অজ্ঞাতনামা ৫/৬জনকে আসামী করা হয়েছে। গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ দিদারুল ইসলাম জানান, মামলার অন্যতম আসামী মো. রাশিদুল ইসলা রানা (রাসু) কে গাজীপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ দিকে হত্যাকাণ্ডের পর বিক্ষুব্দ জনতা আসামীদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সোনাকান্দি গ্রামের মজিবর রহমানের স্ত্রী জড়িনা খাতুন বাদী হয়ে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করেন। এ মামলায় প্রধান আসামী করা হয়েছে সহনাটী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. এবি সিদ্দিককে। তার ছোট ভাই আব্দুল লতিফসহ ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. এমদাদুল হক, নিহতের বাবা আব্দুল কাইয়ুমকেও আসামী করা হয়েছে। এছাড়াও নিহত হুমায়ুনের চাচা সম্পর্কিয় সুলতান উদ্দিন, হাকিম উদ্দিন, আব্দুল কাইয়ুমের ফুফাতো ভাই জুয়েল, চাচাতো ভাই কায়েছ, হত্যা মামলার স্বাক্ষী মিজানুর রহমান খোকন, সোহাগ মিয়া, আব্দুর রাশিদ, এমদাদুল হক, আলী আকবর, আঞ্জু মিয়া, সহনাটী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাসুদ রতন, ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্কুল এন্ড কলেজের প্রভাষক বিএনপি নেতার ছেলে উমর ফারুক সোহাগ, ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর (৪০), তার ছেলে রিফাত (২০), তার ছোট ভাই মেইল শ্রমিক আলী আরশাদ (৩৮), আলী ওছমান, গার্মেন্টকর্মী সোহাগ মিয়া (৩৪), মঞ্জু মিয়া, আঞ্জু মিয়া, সাদেক মিয়া, সহনাটী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির এমদাদুল হকের ছোট ভাই রতনকে আসামীসহ ২৪জনের নামসহ অজ্ঞাত ৫জনকে আসামী করা হয়েছে।
এছাড়াও হত্যা মামলার আসামী আব্দুল কদ্দুসের স্ত্রী মোছা. কল্পনা বাদী হয়ে হত্যা মামলার বাদী মো. আব্দুল কাইয়ুমকে প্রধান আসামী করে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৪নং আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন। এ মামলাতেও বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃবৃন্দসহ ২৩জনের নাম ছাড়াও অজ্ঞাত ৪০জনকে আসামী করা হয়েছে। একই আদালতে মাসুদ রানার স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার বাদী ১৪জন নাম উল্লেখ ছাড়াও ২০জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে। কামরুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. জোসনা আক্তার বাদী হয়ে ১০জনের নাম উল্লেখ ছাড়াও ৭জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে।
এসব মামলা প্রসঙ্গে সহনাটী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এবি সিদ্দিক বলেন, আমাদের ছাত্রদলের নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করেছি। এ জন্য আমাকে ও আমার পরিবার লোকজনকেও আসামী করা হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও যার ছেলে মারা গেছে তার বিরুদ্ধেও ৪টি মামলা করা হয়েছে। যা অত্যন্ত লজ্জাজনক ঘটনা। সহনাটী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাসুদ রতন বলেন, ছেলের খুনের বিচার চাওয়ায় বাবাকে আসামী করা হয়েছে, যা দু:খজনক ঘটনা। এদিকে পুত্রশোক ও অন্যদিকে মামলার জন্য এখন পুরো পরিবারের দুর্ভোগ। তিনি আরও বলেন, এসব মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।