রতের বিজেপি শাসিত বেশ কয়েকটি রাজ্যে বাঙালি হেনস্তা শুরু হয়েছে। বাংলা ভাষায় কথা বললেই ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে অপমান-অপদস্ত, নির্যাতন করা হচ্ছে দেশটির বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের। অনেক ক্ষেত্রে হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। মহারাষ্ট্র, ওড়িশা, উত্তর প্রদেশসহ একাধিক রাজ্যে এ ধরনের ঘটনা বেড়েছে। বাংলাভাষীদের হেনস্তার প্রতিবাদে এবার সোচ্চার হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।
বুধবার দুপুরে বৃষ্টির মধ্যেই রাজধানী কলকাতায় বিশাল পদযাত্রার আয়োজন করে তৃণমূল। কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত বিরাট এই প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। পদযাত্রা শেষে ডোরনার মঞ্চ থেকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার দল বিজেপিকে চরম হুঁশিয়ারি দেন মমতা। টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি।
মঞ্চে উঠেই মমতা বলেন, ‘যে বাংলা স্বাধীনতার জন্ম দেয়, যে বাংলা নবজাগরণের জন্ম দেয়, যে বাংলা রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিমচন্দ্র, নজরুলের জন্ম দেয়, আজ সেই বাঙালির উপর অত্যাচার? এনআরসির নামে তাদের বাদ দেওয়া? ভোটের এক বছর আগে নোটিফিকেশন দিয়ে বলছে, যাকে সন্দেহ হবে বাংলা ভাষায় কথা বলে, জেলে এক মাস রেখে দিতে পার। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে এই নোটিশ পাঠিয়েছে। এরা ইন্দিরা গান্ধীকে গালাগালি দিয়ে সুপার ইমার্জেন্সি ডে পালন করে। যা হচ্ছে, এটা তো মোর দ্যান ইমার্জেন্সি। বেআইনি আটক।’
পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমার কাছে যদি একটি রুটি থাকে, সেটার অর্ধেক আপনাদের দেব। বাইরে গিয়ে অসম্মানিত হয়ে থাকার প্রয়োজন নেই। বিজেপিকে বিশ্বাস করবেন না। ওরা ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। ভিন রাজ্যে বাংলাভাষীদের উপর নিপীড়ন চললে তৃণমূল আর চুপ থাকবে না। বরং দেশজুড়ে প্রতিবাদ আন্দোলন সংগঠিত করবে তৃণমূল।’ আরও জানান, তাদের কাছে যা খবর, হাজারখানেক বাংলাভাষী মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কেউ লকআপে, কারও ঠাঁই হয়েছে ডিটেনশন ক্যাম্পে। বাংলাদেশেও বহু মানুষকে ‘পুশব্যাক’ করা হয়েছে। বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘আরও বেশি করে বাংলায় কথা বলব। প্রয়োজনে আমাকে ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখো।’
এই মঞ্চ থেকেই জাতীয় রাজনীতিতে বড় বার্তা দিয়ে বললেন, ‘২৬ এ বাংলা তারপরের ইলেকশনে দিল্লি দখল করব। এবারে ইন্ডিয়ার সরকার হবে।’ আরও বললেছেন, ‘বাংলায় যদি সমস্যা তৈরি করেন, আমি সারা দেশ ঘুরে ঘুরে আপনাদের জবাব দেব। আমি দেখব কতটা আটকে রাখতে পারেন।’ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, বাংলার মানুষকে বাংলায় কথা বলার কারণে অপমান করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। সম্প্রতি নবান্ন থেকে ওড়িশা সরকারের কাছেও এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। মিছিল ঘিরে শহরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে।