ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার বৃহত্তম ইউনিয়ন গালাগাঁও ইউনিয়ন।
অন্যান্য ইউনিয়নো যোগাযোগ ব্যবস্হার কিছুটা উন্নতি হলেও দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো উপজেলার সবচেয়ে অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থায় গালাগাঁও ইউনিয়নের কেন্দ্রবিন্দু এই গালাগাঁও গ্রামটিতে। প্রতিদিন আশেপাশের ৮/৯ টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের চলাচলের মাধ্যম এটি। এছাড়া আশেপাশের বিদ্যাপিঠ, মৎসচাষ, বিপনন সহ বিভিন্ন কাজে সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ বিগত ১৫ বছরে বিভিন্ন সময়ে বারবার জনপ্রতিনিধিদের রাস্তা পাকাকরনের আশ্বাসেও ভাগ্য বদলায়নি এলাকাবাসীর।
গত ৫ই আগষ্ট দীর্ঘ ছাত্রআন্দোলনের পর ময়মনসিংহ সারা বাংলাদেশে বিভিন্ন স্হানে শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে নানা উন্নয়নমূলক কাজ শুরু হয়। তেমনি ভাবে তারাকান্দা উপজেলার গালাগাঁও গ্রামের এসব দুর্ভোগের বিষয়টিও শিক্ষার্থীদের আলোচনায় উঠে আসে। টানা বৃষ্টিতে রাস্তাগুলোর এমন অবস্থা হয় যে একেবারে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে উঠে। গত ১০ আগষ্ট এলাকার শিক্ষার্থী ও বর্তমান মেম্বার আবুল খায়ের এর সহযোগিতায় এলাকাবাসী নিজেরাই রাস্তা সংস্কারে নামে। সংস্কার কাজে উপস্হিত ছিলেন ময়মনসিংহ বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক হামিদুল হক, মেম্বার আবুল খায়ের, আনোয়ার হোসেন, ইউসুফ আলী, রইসউদ্দিন কাজী, আদনান মামুন, খাইরুল ইসলাম, হুমায়ুন আহমেদ, সায়েম সরকার, পারভেজ আহমেদ, সাকিব হাসান, সোহাগ আহমেদ, মাঝহারুল ইসলাম, মারুফ হোসেন, আইনুল হক, অনিক সহ অনেকে।
ছোট বড় সবমিলিয়ে ২০ থেকে ২৫জন সকাল ১০টা থেকে শুরু করে বিকাল ৪টা পর্যন্ত দীর্ঘ ৬ঘন্টার অক্লান্ত পরিশ্রমে গাবরগাতী গ্রামের সীমানা থেকে শুরু করে গালাগাঁও গ্রাম হয়ে চরপাড়া গ্রামের ব্রীজ পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার করা হয়। রাস্তার ড্রেন, কাঁদামাঠি সরিয়ে বালি ও ইটের টুকরা দিয়ে গর্তভরাট সহ প্রত্যেকটি স্হানে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা হয়। টানা ৬ঘন্টার কায়িকশ্রম শেষে যখন পথচারীদের মুখে হাসি ও প্রশংসা পঞ্চমুখ হয় শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। প্রত্যেকটি ভালো কাজ এভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার মাধ্যমেই আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন শিক্ষার্থীরা।
বর্তমান গালাগাঁও ইউনিয়ন মাছ চাষ ও ধান উৎপাদনে উপজেলায় অন্যতম সাফল্যের দাবিদার। যেখানে ব্যবসায়ীরা শিং, পাবদা, দেশিমাছ অন্যান্য জেলায় বিক্রিসহ গ্রামের পাশের কালীয়ান নদীর মাছ বিপণন কাজে যোগাযোগ ব্যবস্থা জগণ্যতম। গ্রামের আশেপাশের ৪টি প্রাইমারী স্কুল ৩টি হাইস্কুল, ১টি কলেজ, ৬টি মসজিদ, ২টি মাদ্রাসা এবং ২টি বাজারের মানুষের প্রতিনিয়ত চলাচল। রাস্তা মেরামতের অভাবে বর্ষাকালে মূষলধারে বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা ও রাস্তার পাড়ে ফিশারীর উচুবাধ সহ নানা কারনে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে যায়। যার ফলভোগ করে গ্রামবাসী, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, হাটবাজারের ব্যবসায়ী, ক্রেতা, বিক্রেতা ও স্হানীয় মৎস ব্যবসায়ীরা।