এসো জ্ঞানের জন্যে, বেড়িয়ে যাও সেবার প্রত্যয়ে। আলোকবর্তিকা হিসেবে উত্তর ময়মনসিংহের এই দিনে জমিদার সুরেন্দ্র প্রসাদ লাহিড়ীর বাড়িতে জন্ম নেয় ঐতিহ্যবাহী গৌরীপুর কলেজ। এক আগস্ট, ১৯৬৪সাল। প্রায় ২২একর জমিতে দুলর্ভ দৃষ্টিনন্দন ভবনে উদ্যোক্তদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও মেধার বুননে আদর্শ বিদ্যাপীঠে পরিণত হয়। শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাজনীতি অনুশীলন, যোগ্য নেতৃত্ব তৈরী, খেলাধূলা, সাহিত্য, সংস্কৃতির বিকাশ ও ন্যায়ের প্রতীকে পরিণত হয় এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিবছর হাজারো শিক্ষার্থীর কলতানে মুখরিত হয় কৃষ্ণচূড়া চত্বর, কাঁঠালতলা, বটতলার নির্ভেজাল আড্ডা। জ্ঞানের অন্বেষণে আসা এক ঝাঁক তরুণ-তরুণী সেবার ব্রত নিয়ে বেড়িয়ে গেছেন।
বীরত্ব, সাহসিকতা, সংগ্রামে অকুতোভয়। তারুণ্যের জয়ের উল্লাসে অসম সাহসী শিক্ষার্থীরা ৬৬’র ৬দফা, ৬৯’র গণঅভূত্থানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। সারাদেশের ন্যায় এ কলেজের শিক্ষার্থীরা গণঅভ্যূত্থানের মিছিল বের করে। তৎকালীন পাকিস্তান পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান এ কলেজের তরুণ শিক্ষার্থী নান্দাইলের আজিজুল হক হারুন। যার নাম অনুসারে হারুণ পার্ক নামকরণ করা হয়। ১৯৭০সনে কলেজটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত ও পূর্ণাঙ্গ ডিগ্রী কলেজ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। ১৯৬৬সনে ঢাকা শিক্ষাবোর্ড এইচ.এস.সি পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করে।
১৯৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন মদনের আব্দুল আজিজ। কলেজ ক্যাম্পাসটি পাকহানাদারের অত্যাচার রুখতে প্রশিক্ষণ শিবির হিসাবে ব্যবহৃত হয়। এ কলেজের ছাত্র ফজলুল হক ভিপি ফজলু, মোঃ মজিবুর রহমান, অ্যাডভোকেট আবুল কালাম মোহাম্মদ আজাদ, সিরাজুল ইসলাম, কাউরাটের আঃ কদ্দুছ সহ অনেকেই। কলেজ ছাত্র সংসদের প্রথম নির্বাচনে কটিয়াদীর চাঁদপুরের উকিলবাড়ীর কামরুল ইসলাম ভিপি ও রামগোপালপুরের সাহেদ আলী ফকির জিএস নির্বাচিত হয়। ২য় ভিপি ছিলেন রামগোপালপুরের নাট্যকার আব্দুল হাই, জিএস ফজলুল হক, ৩য় ভিপি ভাংনামারীর আঃ মোতালেব, জিএস কাজী আশ্রাব আলী আর ৪র্থ ভিপি ছিলেন ফজলুল হক ও জিএস ইকবাল হাসান। গৌরীপুর রাজনৈতিক অঙ্গনে কলেজ সংসদের নির্বাচিত ভিপি, জিএস নানা পদে অধিষ্ঠ। সাবেক ভিপি ফজলুল হক, কাজিম উদ্দিন, আব্দুস সাত্তার, ইউনুস আলী, দেওয়ান কাঞ্চন খান, বেগ ফারুক আহাম্মেদ, সামছুল হক (২য় বার), মাহফুজুল হক, আব্দুল আউয়াল, আবুল কালাম, ফারুক আহাম্মেদ, মাহবুবুর রহমান শাহীন ও সর্বশেষ নির্বাচিত সাবেক ভিপি শহিদুল ইসলাম অন্তর আওয়ামী লীগ-বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। সদ্য প্রয়াত হয়েছে সাবেক ভিপি ও অচিন্তপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম অন্তর।
৬৬’র জিএস ১৯৬৮-৬৯’র ভিপি মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক ৫০বছরপূর্তিতে বলেছিলেন, মধ্যবাজারে আনিসের লন্ড্রী দোকানে কলেজ প্রতিষ্ঠাতার প্রথম বীজ বুনন হয়। কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ছিলেন মেজবাহ উদ্দিন আহমদ। ২৫এপ্রিল/৯১ইং তারিখে সরকারিকরণ সময়ে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন শফিকুল হক খান মিলকী। সরকারিকরণের পর প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন প্রফেসর ড. সাকিনা বেগম। গৌরীপুরের কৃতি সন্তান প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি এ,এফ,এম আহসান উদ্দিন চৌধুরীর অনুরোধে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান রাষ্ট্রপতি বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমদ এর নির্দেশে কলেজটি সরকারিকরণ করা হয়। বর্তমানে অধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন মিল্টন ভট্টাচার্য্য।
কলেজটি পরিদর্শন করেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বিচারপতি এ.এফ.এম আহসান উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমান, শিক্ষামন্ত্রী ড. আব্দুল মজিদ খান, জাতীয় সংসদের স্পীকার শামসুল হুদা চৌধুরী, শিক্ষামন্ত্রী মোমেন উদ্দিন আহমদ, শিক্ষা উপমন্ত্রী গোলাম সারোয়ার মিলন, স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী নূরুল আমিন খান পাঠান, ডাঃ এম. আমান উল্লাহ, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) মজিবুর রহমান ফকির এমপি ও বহু বিশিষ্টজন।
২০১১-১২শিক্ষাবর্ষ থেকে অনার্স কোর্স প্রবর্তনের শুভ উদ্বোধন করেন তৎকালীন স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী ডাঃ ক্যাপ্টেন (অবঃ) মজিবুর রহমান ফকির এম.পি। এ সময় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছিলেন মোঃ হাবিব উল্লাহ।
শিক্ষার পাশাপাশি সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য রয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ও সমাজসেবামূলক কাজের অনুপ্রেরণার জন্যে কাজ করছে রোভার স্কাউট ইউনিট। প্রতিবছর সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া অঙ্গনে নানা কর্মসূচী পালিত হয়।