প্রধান প্রতিবেদক :
ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলাম গতকাল সোমবার (১৪ ডিসেম্বর/২০২০) সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৪নং আমলী আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মাহবুব আক্তার এর বিচারিক আদালতে আত্মসমর্থন করেন।
বিজ্ঞ বিচারক শুনানী শেষে জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের আদেশ দেন। সৈয়দ রফিকুল ইসলাম ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান শুভ্র হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামী। এ তথ্য নিশ্চিত করেন গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ বোরহান উদ্দিন।
জানা যায়, শুভ্র হত্যা মামলঅর অন্যতম আসামী গৌরীপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলামকে হাইকোটের্র দ্বৈত বেঞ্চ অন্তবর্তীকালীন ৬সপ্তাহের আগাম জামিন দেন। গত ৫ নভেম্বর হাইকোটের বিজ্ঞ বিচারপতি শেখ মোঃ জাহির হোসেন ও বিজ্ঞ বিচারপতি কে.এম জাহিদ সরোয়ার এ জামিনাদেশ প্রদান করেন। জামিন মেয়াদের শেষপ্রান্তে সোমবার (১৪ ডিসেম্বর/২০২০) সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৪নং আমলী আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। বিজ্ঞ বিচার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের আদেশ দেন। এছাড়াও গত ২০অক্টোবর গৌরীপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি ও দল থেকে পৌর মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলামকে বহিষ্কার করে উপজেলা আওয়ামী লীগ।
অপরদিকে এ মামলার প্রধান আসামী উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ও মইলাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ রিয়াদুজ্জামান রিয়াদকে সাময়িক বরখাস্ত ও চুড়ান্ত অপসারণের জন্য জবাব চেয়ে কারণ দর্শানোর পত্র দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। রোববার (১৩ ডিসেম্বর/২০২০) এ তথ্য নিশ্চিত করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মোফাজ্জল হোসেন খান।
এ দিকে গত ১৭ অক্টোবর মেয়র প্রার্থী শুভ্রকে পৌর শহরের মধ্যবাজার বাজার পান মহালে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই আবিদুর রহমান প্রান্ত বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামী করা হয় উপজেলা বিএনপির (একাংশের) যুগ্ম আহ্বায়ক ও মইলাকান্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রিয়াদুজ্জামান রিয়াদ (৩৮)কে। এছাড়াও অন্য আসামীরা হলেন গৌরীপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলাম (৫০) ও তার দু’ভাই সৈয়দ তৌফিকুল ইসলাম (৪৫), সৈয়দ মাজহারুল ইসলাম জুয়েল (৪২), রিয়াদুজ্জামান রিয়াদ চেয়ারম্যানের ভাই কার্জন, উত্তর বাজার মহল্লার সাকিব আহম্মেদ রেজা (৩৩), পশ্চিম ভালুকার রিফাত (৩২), মইলাকান্দা ইউনিয়নৈর লামাপাড়ার মোজাম্মেল (৩০), নন্দুরা গ্রামের সুমন (৩০), পশ্চিম কাউরাট গ্রামের খাইরুল (৩০) ও হানিফ (৩০), চান মিয়ার পুত্র রাসেল মিয়া (৩২), ইউনুছ আলীর পুত্র জাহাঙ্গীর আলম (৩২) ও আব্দুল খালেকের পুত্র মজিবুর রহমান (৩০) ও অজ্ঞাতনামা ৭/৮জন।
এ মামলার প্রেক্ষিতে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগে সুপারিশপত্র প্রেরণ করেন। এ সুপারিশের প্রেক্ষিতে ইউপি চেয়ারম্যান জেল হাজতে থাকায় জনস্বার্থে তার দ্বারা ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষমতা প্রয়োগ প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণে সমীচীন নয় ও সংঘটিত অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিষদসহ জনস্বার্থের পরিপন্থী বিবেচনায় সাময়িক বরখাস্ত করেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত ১০ ডিসেম্বরের ১৩৬৩নং স্মারকের প্রজ্ঞাপন এ আদেশ জারি করা হয়। এ ছাড়াও চুড়ান্তভাবে অপসারণ বিষয়ে ১০ কার্যদিবসের সময়বেঁধে দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন।
এ দিকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহ কামাল আকন্দ আরো জানান, মামলার অন্যতম আসামী সাকিব আহমেদ রেজাকে গত শুক্রবার রাতে সিলেট বিভাগের দক্ষিণ সুরমা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালতে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে, ঘটনায় জড়িত আরো একজনের নাম এসেছে। তদন্তের স্বার্থে তা প্রকাশ করা যাচ্ছে না। এ মামলায় মোট ৮জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামী উপজেলা বিএনপির (একাংশের) যুগ্ম আহ্বায়ক ও মইলাকান্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রিয়াদুজ্জামান রিয়াদ (৪০), মইলাকান্দা ইউনিয়নের পশ্চিম কাউরাট গ্রামের চান মিয়ার পুত্র রাসেল মিয়া (৩২), ইউনুছ আলীর পুত্র জাহাঙ্গীর আলম (৩২) ও আব্দুল খালেকের পুত্র মজিবুর রহমান (৩০), মইলাকান্দা ইউনিয়নের পশ্চিম কাউরাটের মৃত লাল মিয়ার পুত্র মোঃ খায়রুল (৩৫), কামাল হোসেন (৪০) ও শরিয়ত উল্লাহ সুমন (৩০)
টি.কে ওয়েভ-ইন