সাংস্কৃতিক উৎসবে ‘কুশান পালা’

বিনোদন ডেস্ক :

রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে ২১ দিনব্যাপী শুরু হওয়া সাংস্কৃতিক উৎসবের তৃতীয় দিন দেবদেবীর উপাখ্যান কুশান পালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ জবানীর মাধ্যমে দেবদেবীর উপাখ্যান গীতের মাধ্যমে পরিবেশনা করা হয়। মূল পালার বিষয়কে দর্শক-শ্রোতার সামনে সহজভাবে উপস্থাপন করা হয়। গতকাল রবিবার বিকেল ৪টা থেকে একাডেমির নন্দনমঞ্চে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা শুরু হয়। প্রথমেই জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। শিল্পকলা একাডেমি ঢাকার পরিবেশনায় অ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনী, কারিশমা আবৃত্তি সংগঠনের পরিবেশনায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিল্পী শুপ্ত, হিসাম, সাফিন, সাফান, জাবের ও লিথি পরিবেশন করে বৃন্দ আবৃত্তি। ফারহানা চৌধুরী বেবীর পরিচালনায় একাডেমি অব ফাইন আর্টস পরিবেশ করে দুটি সমবেত নৃত্য।

শিল্পী আশরাফুল আলমের পরিবেশনায় একক আবৃত্তি, বহ্নিশিখার পরিবেশনায় ‘সোনা সোনা সোনা এবং বাংলার হিন্দু বাংলার বৌদ্ধ’ দুটি সমবেত সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। মেহেরপুর জেলার পরিবেশনায় ‘মেহেরপুর আমাদের মেহেরপুর’ সমবেত সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী সুলতানা টনি, রোকসানা, রাসেল, আমজাদ হোসেন, আসাদুল ইসলাম, মিনারুল ইসলাম ও জিনারুল ইসলাম। ‘ও আমার দেশের মাটি’ গানের কথায় সমবেত নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পী অনামিকা, প্রিয়া, অনুভা, প্রজ্ঞা, আরিফা, মায়াবী, বনান্তী, হৃদিতা ও ফারিয়া। যন্ত্রসঙ্গীত বাঁশিতে সুর তোলেন আশিকুর রহমান লাল্টু। ‘সোনা সোনা সোনা’, একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন জাতীয় পর্যায়ের শিল্পী তানিম মাহমুদ ও উপজেলা পর্যায়ের ফৌজিয়া আফরোজ তুলি। কুড়িগ্রাম জেলার পরিবেশনায় জেলা ব্রান্ডিংয়ের ওপর ভিডিও পরিবেশনা, ‘শোন একটি মুজিবরের থেকে এবং ও সোনাবন্ধু ধন’ গানের কথায় দুটি সমবেত সঙ্গীত, বিজয় নিশান উড়ছে ঐ এবং তোমরা নাচো সুন্দরী কইন্যা গানের কথায় দুটি সমবেত নৃত্য, একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন জাতীয় পর্যায়ের তারকা শিল্পী সাজু ও উপজেলা পর্যায়ের শিল্পী মুনতাহিনা মামুন মুমু। কুষ্টিয়া জেলার পরিবেশনায় প্রথমেই তথ্যচিত্র প্রদর্শনী জেলা ব্রান্ডিং কুষ্টিয়া জেলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। এরপর লালনের গানে সমবেত নৃত্য, সমবেত সঙ্গীত ‘প কবির গান’ একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী সরকার আমিরুল ইসলাম। যন্ত্রসঙ্গীত পরিবেশন করেন সুজন, জাহিদ, বাসুদেব চক্রবর্তী ও আশিক। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পর্যায়ের শিল্পী নাট্যকার মাসুম রেজা ও অভিনেত্রী সামরোজ আজমী আলভী।

শেষে বিভিন্ন অঞ্চলের স্থানীয় রূপকথা, উপকথা, কিংবদন্তি, লোককথা, লোকগল্পকে আশ্রয় করে আখ্যানগীতের মাধ্যমে কুশান পালা পরিবেশনা করা হয়। কুশান পালায় মূল ও দোহার চরিত্র দুটি মূল দায়িত্ব পালন করে। মূল পালার বিষয়কে দর্শক- শ্রোতার সামনে দোহার সহজভাবে উপস্থাপন করে। দীর্ঘ জবানীর মাধ্যমে কুশান পালা। পালায় মূল ও দোহার চরিত্র দুটি মূল দায়িত্ব পালন করে। মূল পালার বিষয়কে দর্শক- শ্রোতার সামনে দোহার সহজভাবে উপস্থাপন করে। একাডেমির নন্দনমঞ্চে গত ৩ থেকে ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিনব্যাপী বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক উৎসবের নানা আয়োজন থাকছে প্রতিদিন। দেশের ৬৪টি জেলা, ৬৪টি উপজেলা এবং জাতীয় পর্যায়ের পাঁচ হাজারের অধিক শিল্পী ও শতাধিক সংগঠন উৎসবে অংশগ্রহণ করছে।