শেরপুরে কৃষকের ধান কেটে দিলো জেলা পুলিশ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ করোনার এই সময়ে শ্রমিক ও অর্থ সংকটে ভোগা কৃষকের ধান কেটে মাড়াই করে ঘরে তুলে দিলো শেরপুর জেলা পুলিশ। ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলা বাজিতখিলার বালিয়া গ্রামের কৃষক ছামেদুল হকের ৪০ শতক জমির ধান কাটা হয়। জেলা পুলিশের এ উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে এগিয়ে এসেছে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নিয়ে গড়ে তোলা স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশিং ফোরাম। ওই ধান কাটা উৎসবের সূচনা করেন শেরপুরের পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম পিপিএম। ওইসময় তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রকোপে সারা দেশ এখন স্থবির। এই পরিস্থিতিতে শেরপুর জেলায় বোরো ধান পাকতে শুরু করেছে। কিন্তু লকডাউনের কারণে শ্রমিক সংকটে অনেক কৃষকই ধান কাটতে পারছেন না। তাই জেলা পুলিশের উদ্যোগে পুলিশ সদস্যসহ স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কৃষকের বোরো ধান কেটে দিচ্ছেন। যখনই যে কৃষক ধান কাটা সমস্যায় পড়বেন, তাৎক্ষণিক জেলা পুলিশকে জানালে তার ধান কেটে দেওয়া হবে।


ধান কাটায় সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আমির আলী সরকার, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন, ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমানসহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধি, জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শোয়েব হাসান শাকিল, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজাসহ অর্ধশতাধিক স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেন।
পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরা ধান কেটে দেওয়ায় খুশি কৃষক ছামেদুল হক। তিনি বলেন, বোরো ধান আবাদে জমানো সব টাকা খরচ হয়ে গিয়েছিল। হাতে তেমন টাকা ছিল না। তার উপর শ্রমিকের অভাব। এর ফলে ধান কাটা সম্ভব হচ্ছিল না। এমন সময় পুলিশসহ অন্য ছাত্র ভাইয়েরা পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। এজন্য তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তারা ধান কেটে দেওয়ায় তার অন্তত: ১২ হাজার টাকা সাশ্রয় হয়েছে বলেও তিনি জানান। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শোয়েব হাসান শাকিল ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা বলেন, দেশের এই দুর্যোগকালীন সময়ে ছাত্রলীগ অতীতের ধারাবাহিকতায় এবারও জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা শেরপুর জেলা ছাত্রলীগ শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠন করে পুলিশের সাথে করোনা প্রতিরোধে বিভিন্ন কার্যক্রম করে যাচ্ছি। কৃষকের ধান কাটতে পেরে আমরাও খুশী।
একইদিন বিকেলে নকলা উপজেলার উরফা ইউনিয়নের বারমাইসা গ্রামের কৃষক আবু রায়হানের ৬৫ শতক জমির পাকা ধান কাটা হয়। এতে অংশ নেন পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম পিপিএম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ, নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন শাহ, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম হীরাসহ পুলিশ ও স্টুডেন্টস কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের নেতা-কর্মীরা