শিক্ষা কর্মকর্তার মেরুদন্ডে জোর আছে বললেন নায়িকা জ্যোতিকা জ্যোতি

অনলাইন ডেস্ক :

দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো একজন শিক্ষা কর্মকর্তার নাম মনিকা পারভীন। তিনি দুর্নীতিতে ডুবে যাওয়া অফিসকে দুর্নীতিমুক্ত করার প্রয়াস নিয়ে বিগত ৪মাস যাবত গৌরীপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসে অভিযান চালিয়ে আসছেন। তিনি যোগদানের পর থেকেই বদলে গেছে, এ উপজেলা শিক্ষা ব্যবস্থা। স্কুলগুলোতে শুরু হয়েছে নতুনভাবে শিক্ষা কার্যক্রমও। এ কর্মকর্তা বদলি বাণিজ্যের তদবির না রাখায় বদলি বাণিজ্য সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য কায়েস আল কায়কোবাদ লাজুক-এ শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার ও ফেসবুকে অশালীন পোস্ট দিতে থাকে। এরপরেও তিনি ওই শিক্ষক ও সহযোগীর বিরুদ্ধে সোমবার রাতে গৌরীপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ ধুরুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কায়েস আল কায়কোবাদ লাজুক (৪০), তার দুই সহযোগী তৌহিদা আক্তার রুমা (৩২) ও মোঃ শামসুজ্জামান শামস বাপ্পী (২৫) গ্রেফতার করে মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি/২০২০) বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেন।

এ ঘটনাকে… সাহসী আখ্যায়িত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভূয়সী প্রশংসা করে স্ট্যাটাস দেন জনপ্রিয় নায়িকা জ্যোতিকা জ্যোতি। পাঠকদের উদ্দেশ্যে তা-হুবহু তুলে ধরা হলো :

যাক এই প্রথম দেখলাম, আমার উপজেলা গৌরীপুরে কোন ব্যাক্তিত্ববান মানুষ এলো যার মেরুদন্ডে জোর আছে। তিনি গৌরীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মনিকা পারভীন।অবশেষে তিনিই পারলেন গৌরীপুরের মাদক, সাইবার ক্রাইম এবং বিভিন্ন সামাজিক অপরাধে যুক্ত একটা চক্রকে আইনের আওতায় আনতে। অভিনন্দন মনিকা পারভীন এবং গৌরীপুর থানা পুলিশ কর্তৃপক্ষকে।

গৌরীপুরের মাদকাসক্ত একটা চক্র যারা বিভিন্নভাবে মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায় করতো এবং এলাকায় তাদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য সমাজের যে কোন সম্মানিত মানুষকেও নোংরাভাবে অনলাইনে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করতো। এলাকায় একটা ত্রাস সৃষ্টি করে রেখেছিল এই গ্রুপটা। কিন্তু গৌরীপুরের কোন নেতা, কর্মী, সংগঠন তাদের বিরুদ্ধে মুখ না খোলে উল্টো তাদেরকে নিজেদের প্রয়োজন মতো ব্যবহার করে আসছিল যার প্রেক্ষিতে ওরা আরো লাগামহীন হয়ে গিয়েছিল।

আমার পিছনেও ওরা লেগেছিলো, কারন: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি গৌরীপুরে “নৌকা”র জনসংযোগে প্রায় একটানা ১৫দিন সময় দিয়েছিলাম, সে সময় তাদেরকে ডাকিনি বা ব্যাস্ততার জন্য যোগাযোগ করা হয়ে ওঠেনি। আমি তাদের চিনিনা।এটাই তাদের একমাত্র ক্ষোভ, পরে জনগনের কথায় যা বুঝলাম! আমি জানি রাজনৈতিকভাবে আমাকে জায়গা না দিতে চাইলেও আমার সাথে একটা সেলফি তুলে অনলাইনে পোস্ট করা, ক্রেডিট নেওয়া বা বন্ধুদের সাথে রগরগে আলোচনা করার খায়েস অনেকেরই আছে, সেটা আমি বুঝি। তো, কোনভাবেই আমাকে কাবু না করতে পেরে তারা আমাকে ইসলাম বিদ্বেষী বানানোর চেষ্টা করলো। অনলাইনে যা তা পোষ্ট দিতে থাকলো।তখন আমার আগের ফেসবুক আইডিটিও হ্যাক হলো, আমি অনুমান করি এটি এই চক্রেরই কাজ।তারা মানববন্ধন করবে আমার বিচার চেয়ে এরকম উদ্যোগও নিচ্ছে। অথচ আমার মানবিক, ধর্মীয় ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি কেমন, আমার সম্পর্কে যারা জানেন তারা বুঝবেন বিষয়টা কতটা হাস্যকর! তখন এলাকার গণমান্য ২/১জন ফোন করলো তারা বিষয়টা দেখতে চায়, মিটমাট করতে চায়। আমি যেহেতু অনেক ঘাড়তেরা, অন্যায়ের সাথে জীবনে কোনদিনই আপোষ করিনা, আমার কোন দুর্বলতাও নেই তাদের কাছে তাই আমি এসব পাত্তা না দিয়ে গুলশান থানায় একটি জিডি করলাম।জিডি করার পর ঢাকার সাইবার ক্রাইম ইউনিট আমাকে হেল্প করেছে।তাছাড়া আমার জিডি করা থানা কর্তৃপক্ষ আরো জোরালো স্টেপ নিতে চাইলেও এলাকার ছেলে হিসেবে তাদের প্রতি এতটা কঠোর হতে মন টানলো না আমার। এই গ্রুপটাতে আওয়ামীলীগ করা শিবিরকর্মীও রয়েছে। আসলে ওরা পলিটিক্যালি কোন আদর্শই ধারন করেনা, ওরা হলো বিকাউজ পার্টি। তারপর তারা অনেককে দিয়ে আমাকে ফোন করালো তাদের সাথে যেন যোগাযোগ করি। আমি এইসব অসুস্থ্য, অসভ্য অপরাধীদের সাথে যোগাযোগ করার প্রয়োজন মনে করিনি।কারণ আমি তাদেরকে ব্যাবহার করে কোন সামাজিক বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সফল করার পরিকল্পনা করিনি, কোনদিন করবোও না।

শুনে আশ্বস্ত হলাম যে এই চক্রের কয়েকজন গ্রেফতার হয়েছে। অথচ ২/১জন ছাড়া নিউজটাও শেয়ার করছেনা কেউ! দেখা যাবে এদেরই বাঁচানোর জন্য সুবিধাবাদী নেতারা তদবির শুরু করবে নিজের দল ভারী রাখার জন্য, এবং এভাবেই দিনের পর দিন ঘুরতে থাকে আপরাধ চক্র! আমি জানি এই লেখার শতশত স্ক্রিনশট ছড়িয়ে যাবে, আমার পিছনে ওরা লাগবে বাট কি আর করা, আমিতো এরকমই!
আরে ভাইয়েরা, আর কত! একটু মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়ান।ভবিষ্যতে আপনারই ভালো হবে।