লেখাপড়া না করে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে দুই ছাত্র!

প্রধান প্রতিবেদক :

বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত কোন কাসে লেখাপড়া করেনি মো. সাগর আহমেদ ও সাইদুল ইসলাম নামের দুই ছাত্র। তারপরেও ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের দেয়া প্রবেশপত্র নিয়ে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে তারা। এ ঘটনা ঘটে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার চরজিথর উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে! এছাড়াও বিদ্যালয়ের অকৃতকার্য দুই শিক্ষার্থী ফরম পূরণ না করে এসএসসি পরীক্ষার টেবিলে বসেছে। এ ঘটনা ঘটে গৌরীপুর আর.কে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে! এসব ঘটনা তদন্তে শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর কিরিত কুমার দত্তকে প্রধান করে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি ঘটন করা হয়েছে।
এ দিকে শিক্ষা বোর্ডের শেষ মুর্হূতের সিদ্ধান্তের কারণে ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার ১২৪জন ছাত্রছাত্রীকে এবারও পরীক্ষা দিতে হচ্ছে নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার বেখৈরহাটী নরেন্দ্র কান্ত উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে!
জানা যায়, ঈশ্বরগঞ্জের চরজিথর উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে গত রোববার রাতে মানবিক শাখার এসএসসি পরীক্ষার্থী মো. সাগর আহমেদ (৪১৯৩৪৯) ও সাইদুল ইসলামের (৪৭১০৫০) প্রবেশপত্র পাঠায় ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড। বোর্ডের মহসিন আলম রনি নামে এক কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠান অধ্যক্ষ মো. মিসবাহ উদ্দিনকে ফোন করে ওই দুই শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিতে নির্দেশ দেন। সোমবার ও মঙ্গলবার দুই শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসলেও অধ্যক্ষ দুই শিক্ষার্থীকে যাচাই শুরু করেন। এতে বেরিয়ে আসে ভয়াবহ তথ্য। দু’জন শিক্ষার্থী চরজিথর বিদ্যালয়ে কখনও পড়ালেখা করেনি। তারা গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। ওই বিদ্যালয়ের নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে ফরম পূরণ করতে না পারায় বোর্ডের কর্মচারিদের মাধ্যমে পরীক্ষায় বসার সুযোগ তৈরি করেছে তারা।
এদিকে ডৌহাখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ফরম পূরণ না করা শিক্ষার্থী মনোয়ারা আক্তার ও হ্যাপি আক্তার পরীক্ষা দিচ্ছে এমন সংবাদের পর বেরিয়ে আসে এসব অনিয়মের তথ্য। এ অনিয়মের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নরোত্তম রায় বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবরে গত রোববার লিখিত অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দুই শিক্ষার্থী প্রধান শিক্ষককে দেয়া লিখিত বক্তব্যে জানান, শিক্ষা বোর্ডের কর্মচারী মহসিন আলম রনি তাদের পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের সচিবকে প্রধান করে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে গঠন করা হয়েছে। তবে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ডক্টর গাজী হাসান কামাল সাংবাদিকদের জানান, মহসিন আলম রনি নামে তাদের কোনো কর্মচারী নেই।
এ বিষয়ে চরজিথর স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. মিসবাহ উদ্দিন দুই শিক্ষার্থীর প্রবেশ ও ডিআর রাতের বেলায় তার কাছে এসে পৌঁছে। সেই সাথে রনি নামে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তাকে পরীক্ষা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি পরীক্ষা শেষে তদন্ত করে জানতে পারেন ওই দুই শিক্ষার্থী তার বিদ্যালয়ে কখনও লেখাপড়া করেনি।
অপরদিকে ডৌহাখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির মোট শিক্ষার্থী ছিলো ২৫৯জন। তাদের মধ্যে চুড়ান্ত পরীক্ষায় কৃতকার্য হয় ২৪৫জন। অকৃর্তকার্য ১৪জনের মধ্যে দুইজন গৌরীপুর আর দুইজন ঈশ^রগঞ্জে পরীক্ষা দিচ্ছে! সবার সংশয় ফেল করা ১০জনসহ ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের অধিনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফেল এমন শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ সংক্রান্ত ভয়ঙ্কর জালিয়াতি অনুসন্ধান দাবী জানান ডৌহাখলা উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রতন সরকার।
এ দিকে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড গৌরীপুর উপজেলার ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে ভূটিয়ারকোনা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের অনুমোদন দেয়। পরীক্ষার পূর্বমূর্হুতে দেয়াপত্রে দেখা যায় নহাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম নেই! ভূটিয়ারকোনা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোহাম্মদ ও নহাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শহীদ উল্লাহ বারবার যোগাযোগ করেও ব্যর্থ হন। ফলে নহাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১২৪জন পরীক্ষার্থীকে এবারও পরীক্ষা দিতে হচ্ছে উপজেলা ছাড়িয়ে ভিন্ন জেলার পরীক্ষা কেন্দ্রে। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন প্রধান শিক্ষক মোঃ শহীদ উল্লাহ। তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের ভূটিয়ারকোনা কেন্দ্রে দেয়ার জন্য অনুমতিপত্র দিয়ে ছিলাম। কেন্দ্র ঘোষণার সময় নামও এসেছিলো।