লকডাউনে বাঁশ!

মো: রইছ উদ্দিন :

লকডাউন! সত্যিই কী; লকডাউন হচ্ছে! লকডাউনের বাঁশ এলাকাবাসীর বাঁশে পরিণত হয়েছে। কখনও কখনও লকডাউন বা সেল্ফ লকডাউন এলাকাবাসীর জন্য আরো ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ালো। এসব লকডাউনের স্থানে নিয়মিত লোক থাকা প্রয়োজন, অথচ বাঁশ দিয়ে ব্যারিকড তৈরি করে দিয়েই অনেকে দায়সারা হয়ে চলে যাচ্ছেন। ওই এলাকার একজন অসুস্থ্য রোগী বা নিত্যপন্য বা জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু নিতে এখন বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। লকডাউন দিয়ে আবার চায়ের দোকান খুলতেও দেখা গেছে। রাস্তার দু’প্রান্তে বাঁশ, মাঝখানে চায়ের দোকান, সত্যিই ‘লকডাউনে বাঁশ’। লকডাউন দিয়ে যেখানে বাসায় থাকার কথা সেখানে লকডাউনে বাঁশদিয়ে আটকিয়ে মাঝখানে আড্ডা, লোকজনের আনাগোনা। তাদেরই একজন সুমন খুব চমৎকার করে বললেন, এখন সমস্যা নেই দু’প্রান্তে বাঁশ দিয়ে লকডাউন, তাই তিনি মাস্ক ছাড়াই রাস্তায় বের হয়েছেন।

প্রশাসনিকভাবে বলা হয়েছে :

রাস্তা বন্ধ করা মানেই লকডাউন নয়।

যারা নিজ উদ্যোগে লকডাউন করছেন তাদেরকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ করছি:

১। রাস্তায় সম্পূর্ণ ব্যারিকেড না দিয়ে জিগজ্যাগ ব্যারিকেড দিন। এটি গাড়ির চলাচল বন্ধ করবে না। কিন্তু গাড়ীর গতি কমাতে বাধ্য করবে। তখন যাচাই-বাছাই করে এলাকায় গাড়ি প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

২। রাস্তার উপর কাঠের গুড়ি ফেলে টোট্যাল বন্ধ রাখা যাবে না। তবে কাঠের গুড়ি দিয়ে জিগজ্যাগ ট্র‍্যাক বানানো যেতে পারে।

৩। গ্রামের ছোট রাস্তাগুলো বাঁশ দিয়ে বন্ধ করা যেতে পারে, তবে প্রয়োজনে খুলে দেয়ার জন্য সার্বক্ষণিক লোক রাখতে হবে।

৪। ব্যারিকেডের কারণে প্রশাসন/পুলিশের কার্যক্রম বা ত্রাণ কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

৫। যে কোন প্রকার মালবাহী গাড়ি, কৃষিপণ্য, খাদ্যদ্রব্য, ফিসারিজ এর গাড়ি, এম্বুলেন্সকে অবাধে চলাচলের সুযোগ দিতে হবে।

৬। যারা রাস্তা লকডাউন নিশ্চিত করবেন, তাদেরকে এটাও নিশ্চিত করতে হবে জেলা প্রশাসনের বেঁধে দেয়া সময়সীমার বাইরে কোন দোকান কোন ভাবেই খোলা যাবে না। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে শুধু মুদি দোকান, কাঁচাবাজার, ঔষধ, ফ্লেক্সিলোড কৃষি উপকরণ, সার-বীজের দোকান খোলা রাখা যাবে।

৭। কারো বাড়িতে চায়ের দোকান যাতে বসতে না পারে, কেউ যেন বাড়িতে সেলুনের কাজ করতে পারে সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

৮। লকডাউনের কারণে কেউ যেন জরুরি কাজে বের হলে হয়রানির স্বীকার না হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

৯। যে কোন প্রকার বহিরাগত প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

১০। জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত কেউ যেন ঘরের বাইরে বের না হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

১১। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ সবজির বাজার নিয়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি যেতে হবে।

১২। রাস্তা লকডাউনের নামে কোন প্রকার চাঁদাবাজি/অহেতুক হয়রানি করা হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপরোক্ত বিষয়গুলো না জেনে যারা লকডাউন করেছি, আমরা এ বাঁশ তুলে দেই। যে বাঁশ বিড়ম্বনা তৈরি করবে তা লকডাউন নয়। বরং লকডাউনের প্রকৃত ঘটনা জেনেই লকডাউন করা হোক।

শহরের কালিখলা হাতেম আলী সড়কেও এমন লকডাউন করা হয়েছিলো। যার দু’প্রান্তে কেউ নেই। বাঁশ দিয়েই দায়সারা এ লকডাউন উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। (চলবে)