রেললাইনের পাশে পড়ে থাকা শিশুর লাশের পরিচয় মিলেছে : পালিয়েছে মা ও সৎবাবা

মোখলেছুর রহমান :
রেললাইনের পাশে পড়ে থাকা শিশুটির লাশের পরিচয় মিলেছে। শিশুটির নাম জান্নাতুল আক্তার জান্নাত। বয়স প্রায় ২বছর ৬মাস। গৌরীপুর-চট্টগ্রাম রেলপথের ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌর শহরের ২নং রেলক্রসিংয়ের সন্নিকটে বাড়িওয়ালাপাড়া থেকে এ শিশুর লাশ উদ্ধার করে গৌরীপুর থানার পুলিশ। ঘটনার ১০দিন পর রোববার (২৯মার্চ/২০২০) শিশুর পরিচয় খুঁজে পেলেন দৈনিক বাহাদুরের স্টাফ রির্পোটার।

গত বৃহস্পতিবার (১৯মার্চ/২০২০) সকালে এ শিশুর লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয় এলাকাবাসী। ময়না তদন্ত শেষে শিশুর লাশ গৌরীপুর পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন মামলা তদন্তকারী অফিসার সাবই-ইন্সপেক্টর মোঃ উজ্জ্বল মিয়া। তিনি জানান, এ ঘটনায় গৌরীপুর থানার একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

কোনাপাড়া গ্রামের জামাল উদ্দিনের স্ত্রী ফিরুজা খাতুন জানান, তার ভাই মোঃ বাবুল মিয়ার স্ত্রী রেজিয়া খাতুনের সন্তান হলো জান্নাতুল আক্তার জান্নাত। শিশুটির ছবি দেখে তিনি নিশ্চিত করেন এটি জান্নাতের লাশের ছবি। তার ভাই কতোগুলো বিয়ে করেছে তার হিসাব তিনি নিজেও জানেন না। রেজিয়া খাতুনকেও বিয়ে করেছে ৬/৭মাস হয়। পরকিয়া প্রেমের টানেই এ সন্তানকে নিয়ে বাবুলের ঘরে এসেছে। শিশুটিকে মেরে ফেলেছে কি? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনিও পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়েন; না মারলে পলায়ছে ক্যান; ওর লাশ প্রায় ৪কিলোমিটার দূরে রেললাইনে গেলো কিভাবে! ওরারে ধরলেই সব বলতে পারবো। তিনি আরো বলেন, তার ভাই বাবুল মিয়া অত্যন্ত খারাপ প্রকৃতির, তাই তাদের সঙ্গে কোন সম্পর্ক নেই। তার বাবা-মাকেও নির্যাতন করেছে একাধিকবার। অপর বোন রোকসানা খাতুন ভাই বাবুল মিয়া প্রসঙ্গে কিছু বলতেই নারাজ; কতো বিয়ে করেছে তার হিসাব তিনিও জানেন না।

এ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ হযরত আলী জানান, বাবুল মিয়া কোনাপাড়া গ্রামের মোঃ আলী বকস্রে একমাত্র পুত্র । তার নারীর প্রতি লোভ রয়েছে ; একাধিকবার সামাজিকভাবে সালিশও হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী জানান, মাত্র ৩/৪মাস পূর্বে ফুটফুটে এ শিশুটিকে নিয়ে কোনাপাড়া গ্রামে আসে তার জান্নাতের মা রেজিয়া খাতুন। উপজেলার ২নং গৌরীপুর ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রামের বাবুল মিয়ার তিনি সপ্তম স্ত্রী। এ বিয়ে অনুষ্ঠিত হয় প্রায় ৬/৭মাস পূর্বে। মেয়েটির বাড়ি ময়মনসিংহের হলেও থাকতো ঢাকায়। তবে তিনিও সুনির্দিষ্ট ঠিকানা বলতে পারেননি। প্রতিবেশীরা জানান, বুধবার দিনেও রেজিয়া খাতুন ও বাবুল মিয়াকে তারা দেখেছেন। বাবুলের মা জরিনা খাতুনও বাড়িতে ছিলেন। শিশুর লাশ পাওয়ার পর থেকে দু’জন পালিয়েছে।

বিড়ম্বনার ভয়ে এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে জরিনা খাতুনও। বাবুলের ভগ্নিপতি জামাল উদ্দিন জানান, কিছু দিন পরপর বিয়ে করে। বিয়ের হিসাব কতো রাখবো, আমার শ^শুড় বাড়িও নাই, শালাও নাই। তাই স্ত্রীকেও ওই বাড়িতে যেতে নিষেধ করেছি। তবে কোনাপাড়া গ্রামের আক্তার হোসেনের পুত্র লাল মিয়ার ভাষ্যমতে, বাবুল মিয়া মোবাইল প্রেমিক, কন্যারাশি; একটা বউ ছাড়ে, আরেকটা বউ ঘরে আসে।

এ দিকে কোনাপাড়ায় বাবুল মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সবগুলো ঘরে তালা ঝুলছে। বৃহস্পতিবার থেকেই তারা নিখোঁজ। এলাকাবাসীর ধারণা, রেজিয়া খাতুনের আগের স্বামীর সন্তান জান্নাত, এ পরিবারের জন্য সমস্যা (ঝামেলা), সেই ঝামেলাকে সরিয়ে দিয়ে দু’জন পালিয়েছে। এ প্রসঙ্গে গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ বোরহান উদ্দিন জানান, ময়না তদন্তের রির্পোট আসলে বিস্তারিত বলা যাবে। আসামীদের গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা অব্যাহত আছে। এই মুর্হূতে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড কী; না, তা নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তিনি আরো জানান, রেললাইন থেকে প্রায় ১৪ফুট দুরত্বে পৌর শহরের বাড়িওয়ালাপাড়া থেকে এ শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত শিশুর শরীরে আঘাতের কোন চিহ্ন ছিলো না। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন গৌরীপুর সার্কেলের এএসপি সাখের হোসেন সিদ্দিকী।

টি.কে ওয়েভ-ইন