ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ অসহায়দের মাঝে ৩৫ লাখ টাকা বিতরণ

এম.এ আজিজ, ময়মনসিংহ :
করোনা ভাইরাস বিশ্বব্যাপী একটি প্রকোপ। একটি মহামারি। ভাইরাস জনিত এই রোগে সারা পৃথিবী কাপছে। শত কোটি মানুষ চরম দুর্যোগের মধ্যে পড়েছে। এক অপরকে দূরে ঠেলে দিয়ে মানুষ মানুষের কাছ থেকে এড়িয়ে চলার চেস্টা করছে। যেন নিজ গৃহে পরবাসী। মানবতা হয়ে দাড়িয়েছে ক্রমান্বয়ে প্রখর। করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় প্রতিরোধ যুদ্ধে নেমেছে পুরো বিশ্ব। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দৈনন্দিন জীবন যাপন। এ যুদ্ধে ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়ছে কর্মজীবী মানুষ। বাংলাদেশও এই যুদ্ধ থেকে পিছিয়ে নেই। এই সমস্ত পিছিয়ে পড়া কর্মহীন মানুষদের রায় এবং তাদের পেটের আহার যোগাড় করতে সরকারী ও বেসরকারীভাবে পর্যাপ্ত ত্রাণ দেয়া হচ্ছে। সরকার প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষনা দিয়েছেন, আপনারা ঘরে অবস্থান করুন। নিজে, পরিবার, সমাজ ও দেশকে বাচান। খাবারের জন্য একজন মানুষও অনাহারে থাকবেনা। অর্ধাহারে অনাহারে থাকা প্রতিটি মানুষের ঘরে খাবার পৌছে যাবে। জনপ্রতিটি, রাজনৈতিককর্মী, ও প্রশাসন আপনাদের ঘরে খাবার পৌছে দিবে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় ময়মনসিংহে অসহায় মানুষগুলোর জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি ময়মনসিংহ জেলা পরিষদও পিছিয়ে নেই।
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠানের নেতৃত্বে পরিষদের নির্বাচিত সদস্যগণের মাধ্যমে নিজস্ব তহবিল থেকে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় আর্থিক তিগ্রস্থদের মাঝে ৩৫ লাখ টাকা নগদ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে। রবিবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান। জেলা পরিষদ হলরুমে চেয়ারম্যান এ সময় বলেন, যে কোন দুর্যোগকালীন সময়ে অসহায় মানুষজন জনপ্রতিনিধিদের কাছে সহায়তা আসা করেন। পরিষদের নির্বাচিত সদস্যদের চাহিদার প্রেেিত ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমানের সাথে আলোচনাক্রমে এই আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, লকডাউন চলতে থাকায় এক সাথে ৩৫ লাখ টাকার খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করা এবং যানবাহন প্রাপ্তিসহ নানা সমস্যা সৃষ্টির সমহুহ সম্ভাবনা মাথায় রেখে নগদ টাকা বিতরণের উদ্দোগ নেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, সমাজের নিম্নবিত্ত, শ্রমজীবি কর্মহীন, বেকার হয়ে পড়া, দিন এনে দিন খাওয়া মানুষজনসহ মধ্যবিত্ত পর্যায়ে যারা চাইতে না পেরে অভাবের যন্ত্রণা বুকে নিয়ে দিন পার করছে তাদের মাঝে এই আর্থিক সহায়তা প্রতিটি এলাকার সদস্যগণ মাস্টার রোলের মাধ্যমে বিতরণ করবেন। তিনি আরো বলেন, তিগ্রস্থ মানুষজন শুধু খাবার নয়, প্রয়োজনী হাট বাজার ও ওষুধ সামগ্রী ক্রয় করতে পারেন সেই বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। পরে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান, পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সদর উপজেলা এলাকার সদস্য মমতাজ উদ্দিন মন্তার হাতে সদর এলাকার অসহায় মানুষদের মাঝে নগদ বিতরণের জন্য দেড় লাখ টাকা তুলে দেন। পরিষদের ২০জন সদস্যের প্রত্যেকের জন্য দেড় লাখ টাকা করে বিতরণ করা হবে। এছাড়া সদরের জন্য (সিটি এলাকা) কিছু বেশি এবং চেয়ারম্যান নিজেও অসহায়দের মাঝে এই টাকা মাস্টার রোলের মাধ্যমে বিতরণ করবেন বলে জেলা পরিষদ সুত্র জানান। এর আগে চেয়ারম্যান আরো বলেন, টাকা অংকে এই অর্থ বিতরণ প্রয়োজনের তুলনায় কম হলেও সরকারি বিধিবিধান মতেই এই টাকা বিতরণ করা হচ্ছে। আগামীতে বিশেষ করে ঈদের আগে মন্ত্রণালয়ের অনুমতিক্রমে অধিক পরিমাণের টাকা বিতরণের চেষ্ঠা অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে করোনা ভাইরাস সংক্রমণরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লে মাস্ক, সাবান, জালি ও লিফলেট বিতরণসহ প্রতিটি এলাকায় ব্যানার স্থাপন ও মাইকিং করা হয়। এ প্রসঙ্গে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন, জেলা পরিষদের অর্থায়সহ প্রতিটি সদস্যের ব্যক্তিগত উদ্দোগে ৩৫ হাজার মাস্ক, ১২ হাজার সাবান ও এক লাখ লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।
এ সময় জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী শারমিনা নাসরিন, প্যানেল মেয়ারম্যান মমতাজ উদ্দিন মন্তা, ময়মনসিংহ প্রেসকাবের সাধারণ সম্পাদক অমিত রায় সহ অন্যান্য সদস্য ও পরিষদের কর্মকর্তা কর্মাচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।