ময়মনসিংহে ৫দিনে চার ট্রেন দুর্ঘটনা! ছয় তদন্তের বিভাগীয় প্রতিনিধি দল গৌরীপুরে

মোস্তাফিজুর রহমান বুরহান :

ময়মনসিংহের গৌরীপুর আন্তঃনগর বিজয় এক্সপ্রেস, মালবাহী ট্রেন ও উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেনের টুলস্ ইঞ্জিন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় ৬ তদন্তের বিভাগীয় প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি/২০২০) দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। প্রতিনিধি দলের প্রধান বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক বীরেন্দ্র নাথ মজুমদার বলেন, দীর্ঘদিনের পুরাতন সিস্টেমের সিগন্যাল ব্যবস্থার জন্য এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে সকল বিভাগীয় কর্মকর্তা ও এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খোঁজে বের করা হবে। যদি কোন সমস্যা পরীলক্ষিত হয়, তা সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী তানভিরুল ইসলাম, বিভাগীয় প্রকৌশলী (ওয়ান) মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, বিভাগীয় পরিবহন প্রকৌশলী ময়েনুল ইসলাম, বিভাগীয় সংকেত প্রকৌশলী আবুহেনা মোস্তফা আলম, বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী মোঃ রেজাউল করিম।
জানা যায়, ময়মনসিংহে ৫দিনে চার ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটলে নড়েচড়ে উঠেন রেলওয়ে কর্মকর্তারা। সোমবার জারিয়া থেকে ময়মনসিংহগামী জারিয়া লোকাল ট্রেনের ইঞ্জিন ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জে বিকাল ৩টা ৫০মিনিটে, গৌরীপুর রেলওয়ে জংশনে চট্টগ্রামগামী যাত্রীবাহী আন্ত:নগর বিজয় এক্সপ্রেস বুধবার রাত ৯টা ৫০মিনিটে, জামালপুরের তারাকান্দিগামী সার বোঝাই মালবাহী ট্রেনের বগি শুক্রবার সন্ধ্যা ৫টা ২০মিনিটে লাইনচ্যূত হয়। মালবাহী ট্রেনের বগি উদ্ধার করতে এসে উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেনের টুলস ইঞ্জিনও ওইদিন রাত ১০টা ৩০মিনিটে লাইনচ্যূত হওয়ার ঘটনা ঘটে।
অপরদিকে যাত্রীবাহী আন্তঃনগর বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ার কারণ অনুসন্ধানে বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিবহন কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিমকে প্রধান করে গঠিত চার সদস্যের তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন সিগন্যাল বিভাগের কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেন, সহকারী প্রকৌশলী সুকুমার রায় ও এএমাই কর্মকর্তা সাজিদ হাসান নির্জন। এ কমিটি শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। শনিবার ঢাকায় তলব করেন গৌরীপুর রেলওয়ের সিএসএম আব্দুল কাদির, পয়েসম্যান মোঃ ইসমাইল হোসেন ও সিগন্যাল কালাসী জেসমুন আরিফ তৌফিককে। তবে দুর্ঘটনার কারণ খোঁজে পায়নি। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, তদন্তে আসা কর্মকর্তাগন-দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের চেয়ে স্ব স্ব বিভাগ ও তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বাঁচাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। প্রকাশ্যেই জরিয়ে যান বাক-বিতণ্ডাও। যে কারণেই দুর্ঘটনার কারণ খোঁজে বের করা ও সমাধানের জন্য প্রেরিত তদন্ত কমিটি বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। বাড়ছে দুর্ঘটনা, বাড়ছে যাত্রীদের মাঝে আতঙ্কও।
এ দিকে এ বিষয়ে গৌরীপুর জংশনে কথা হয় ময়মনসিংহগামী বিজয় এক্সপ্রেসের যাত্রী হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে। তিনি পেশায় একজন মাছ ব্যবসায়ী। তিনি জানান, ট্রেনকে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী যানবাহন হিসাবে জানতাম, পরপর লাইনচ্যুত হওয়ায় বিড়ম্বনা শিকার হচ্ছি এবং ভয়ও কাজ করছে। তার সঙ্গে সুর মিলিয়ে কথা বলেন মোহনগঞ্জ কমিউটার ট্রেনের যাত্রী সোহেল রানা। তিনি বলেন, গৌরীপুর থেকে মোহনগঞ্জ রেলপথের কাজ হয়েছে, কিন্তু গৌরীপুর জংশন ও গৌরীপুর-ময়মনসিংহ রেলপথের কাজ হয়নি। তাই দুর্ঘটনা এখানে বাড়চ্ছে। কখন ট্রেন ছাড়বে জানি না! স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে এই শীতে প্রচন্ড কষ্টে আছি। ট্রেনকে অনিরাপদ করা হচ্ছে। এ সময় হুমায়ুনের স্ত্রী স্কুল শিক্ষক আয়েশা আক্তার বলেন, নিরাপদ ট্রেনের যাত্রা এখন অনিরাপদ, ভ্রমণ করতে এসেছিলাম আনন্দে, এখন আছি মহাবিপদে, কখন বাসায় ফিরবো, তা কেউ বলতে পারছে না।