ময়মনসিংহে ৪ঘন্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ॥ ৫দিনে চার ট্রেন দুর্ঘটনা!

প্রধান প্রতিবেদক :

ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জে দুর্ঘটনা কবলিত ইঞ্জিন রাত ৮টায় উদ্ধার শেষে ৪ঘন্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। জারিয়া থেকে ছেড়ে আসা ময়মনসিংহগামী যাত্রীবাহী জারিয়া লোকাল ট্রেনের ইঞ্জিন সোমবার (২০জানুয়ারি/২০২০) বিকাল ৩টা ৫০মিনিটে শম্ভুগঞ্জ রেলস্টেশনে লাইনচ্যুত হয়। রাত ৮টা ৫মিনিটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে ৫দিনে চার ট্রেন দুর্ঘটনার কারণে রেলওয়ে যাত্রীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ইঞ্জিন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় গৌরীপুর রেলওয়ে জংশনে আটকে থাকা আন্তঃনগর বিজয় এক্সপ্রেস ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে ৮টা ১৭মিনিটে, ঢাকাগামী মহুয়া কমিউটার এক্সপ্রেস ৮টা ৩২মিনিটে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ময়মনসিংহগামী ঈশাখাঁ এক্সপ্রেস রাত ৯টায় ছেড়ে যায়। গৌরীপুর রেলওয়ে জংশনের কেবিন মাস্টার মহিদুর রহমান জানান, রাত ৮টা ৫মিনিটে শম্ভুগঞ্জে রেলপথ স্বাভাবিক হওয়ার পর ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, নেত্রকোনা জেলার জারিয়া থেকে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা লোকাল ট্রেনটি ময়মনসিংহ যাচ্ছিল। সোমবার বিকাল ৩টা ৫০মিনিটের দিকে ট্রেনটি শম্ভুগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রাবিরতি দিয়ে স্টেশন ছাড়ার পরপরই ট্রেনের ইঞ্জিন লাইনচ্যুত হয়। ময়মনসিংহ রেলওয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী সুকুমার বিশ্বাস জানান, ময়মনসিংহ থেকে উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন এসে দুর্ঘটনা কবলিত ট্রেনের ইঞ্জিন রাত ৮টার দিকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখন ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক।
এ দিকে গৌরীপুর রেলওয়ে জংশনে চট্টগ্রামগামী যাত্রীবাহী আন্ত:নগর বিজয় এক্সপ্রেস বুধবার রাত ৯টা ৫০মিনিটে, জামালপুরের তারাকান্দিগামী সার বোঝাই মালবাহী ট্রেনের বগি শুক্রবার সন্ধ্যা ৫টা ২০মিনিটে লাইনচ্যূত হয়। মালবাহী ট্রেনের বগি উদ্ধার করতে এসে উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেনের টুলস ইঞ্জিনও ওইদিন রাত ১০টা ৩০মিনিটে লাইনচ্যূত হওয়ার ঘটনা ঘটে। বারবার ট্রেনের চাকা লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা জনমনে আতঙ্কও বিরাজ করছে।
অপরদিকে এ বিষয়ে গৌরীপুর জংশনে কথা হয় ময়মনসিংহগামী বিজয় এক্সপ্রেসের যাত্রী হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে। তিনি পেশায় একজন মাছ ব্যবসায়ী। তিনি জানান, ট্রেনকে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী যানবাহন হিসাবে জানতাম, পরপর লাইনচ্যুত হওয়ায় বিড়ম্বনা শিকার হচ্ছি এবং ভয়ও কাজ করছে। তার সঙ্গে সুর মিলিয়ে কথা বলেন মোহনগঞ্জ কমিউটার ট্রেনের যাত্রী সোহেল রানা। তিনি বলেন, গৌরীপুর থেকে মোহনগঞ্জ রেলপথের কাজ হয়েছে, কিন্তু গৌরীপুর জংশন ও গৌরীপুর-ময়মনসিংহ রেলপথের কাজ হয়নি। তাই দুর্ঘটনা এখানে বাড়চ্ছে। কখন ট্রেন ছাড়বে জানি না! স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে এই শীতে প্রচন্ড কষ্টে আছি। ট্রেনকে অনিরাপদ করা হচ্ছে। এ সময় হুমায়ুনের স্ত্রী স্কুল শিক্ষক আয়েশা আক্তার বলেন, নিরাপদ ট্রেনের যাত্রা এখন অনিরাপদ, ভ্রমণ করতে এসেছিলাম আনন্দে, এখন আছি মহাবিপদে, কখন বাসায় ফিরবো, তা কেউ বলতে পারছে না।
অপরদিকে যাত্রীবাহী আন্তঃনগর বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ার কারণ অনুসন্ধানে বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিবহন কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিমকে প্রধান করে গঠিত চার সদস্যের তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন সিগন্যাল বিভাগের কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেন, সহকারী প্রকৌশলী সুকুমার রায় ও এএমাই কর্মকর্তা সাজিদ হাসান নির্জন। এ কমিটি শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। শনিবার ঢাকায় তলব করেন গৌরীপুর রেলওয়ের সিএসএম আব্দুল কাদির, পয়েসম্যান মোঃ ইসমাইল হোসেন ও সিগন্যাল কালাসী জেসমুন আরিফ তৌফিককে। তবে দুর্ঘটনার কারণ খোঁজে পায়নি। এবার মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি/২০২০) অনুসন্ধানে আসবে বিভাগীয় উধ্বর্তন টিম। রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আব্দুর রশিদ জানান, ঢাকা থেকে টিম রওনা দিয়েছে। মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন।