ময়মনসিংহে ভ্রাম্যমাণ আদালতে এক হাজার ৪২৮ মামলায় জরিমাণা ১০ লাখ টাকা ॥ ২৭ জনের জেল

এম.এ আজিজ, ময়মনসিংহ :

করোনা প্রতিরোধে আইন অমান্য করায় ময়মনসিংহ বিভাগীয় নগরী ও জেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এক হাজার ৪২৮টি মামলা হয়েছে। এ অভিযানে ৯ লাখ ৯৯ হাজার ১৫৯ টাকা জরিমাণা আদায় করা হয়। এ সময় ২৭ ব্যক্তিতে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে আদালত। তিন হাজার ৯ শত ৭০টি অভিযানে এক হাজার ৩৪১টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছ থেকে এই জরিমানা আদায় করে আদালত। গত ২১ মার্চ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত বিভাগীয় নগরীসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এ সব অভিযান পরিচালনা করা হয়। জেলা ম্যাজিস্ট্রে ও জেলা প্রশাসক মোঃ মিজানুর রহমানের নির্দেশে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রে আয়শা হকের নেতৃত্বে নির্বাহী ম্যাজিস্টেটগণ এই অভিযান পরিচালনা করে।
করোনা ভাইরাস বিশ্বব্যাপী একটি একটি মহামারি। ভাইরাস জনিত এই রোগে বিশ্ব দুনিয়া কাপছে। সৃষ্টি হয়েছে মহাদুর্যোগ। শত কোটি মানুষ চরম দুর্যোগের মধ্যে পড়েছে। এক অপরকে দূরে ঠেলে দিয়ে মানুষ মানুষের কাছ থেকে এড়িয়ে চলার চেস্টা করছে। যেন নিজ গৃহে পরবাসী। মানবতা হয়ে দাড়িয়েছে ক্রমান্বয়ে প্রখর। করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় প্রতিরোধ যুদ্ধে নেমেছে পুরো বিশ্ব। দৈনন্দিন জীবন যাপন বন্ধ হয়ে গেছে। বাংলাদেশও এই যুদ্ধ থেকে পিছিয়ে নেই। সরকার প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষনা দিয়েছেন, আপনারা ঘরে অবস্থান করুন। নিজে, পরিবার, সমাজ ও দেশকে বাচান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর ঘোষনায় ময়মনসিংহের মানুষজনকে ঘরে অবস্থান নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে ময়মনসিংহ বিভাগীয় নগরী সহ জেলা, উপজেলায় সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, র‌্যাব ও সেনাবাহিনী ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালিয়ে আসছে। লিফলেট বিতরণ, মাইকিং, শহরের মোড়ে মোড়ে এবং গ্রামগঞ্জে ক্যাম্পিং করা হয়। ইতিমধ্যেই সাধারণ ছুটিতে দোকানপাঠ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সড়ক, মহাসড়কে যানবাহন বন্ধ রাখতে সরকারের উচ্চ পর্যায় নির্দেশনা জারি করা। এছাড়া ১৪ এপ্রিল ময়মনসিংহ জেলা লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে ১৬ এপ্রিল বিকালে সারা দেশকে ঝুকিপর্ণ ঘোষণা করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।
ময়মনসিংহে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং লকডাউন বজায় রাখতে জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ, ডিবি, র‌্যাব ও সেনাবাহিনী দিনরাত টহল দিচ্ছে। এর পরও কতক লোকজন সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বিনা প্রয়োজনে অকারণে এবং লকডাউন দেখতে রাস্তাঘাটে ঘুরাফেরা, চায়ের দোকান খুলে আড্ডাবাজি, বিকাশ ও ফেক্সিলোডের দোকানে এবং মোড়ে মাড়ে অযথা ঝটলা সৃষ্টিসহ হাট বাজারে ভীড় করেই আসছে। এ সমস্ত চক্র প্রশাসন ও সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে করোনাকে বৃদ্ধাঙ্গুগুলী দেখিয়ে করোনা ভাইরাসকে নিজ ঘরে ডেকে আনতে হুমড়ি খেয়ে মাঠে নেমেছে।
এ অবস্থায় জেলা প্রশাসন ও আইন শৃংখলা বাহিনী দেশের মানুষকে করোনার করা গ্রাস থেকে রায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দোকানপাঠ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সড়ক, মহাসড়কে যানবাহন বন্ধ থাকার পরও যারা দোকান খুলে আড্ডাবাজি, জনসমাগম ঘটানোসহ, সামাজিক দুরত্ব বজায় না রেখে মোটরবাইকে একের অধিক চলাচলকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যজিস্ট্রেট আয়শা হক জানান, গত ২১ মার্চ/২০২০ থেকে ১৬ এপ্রিল তারিখ পর্যন্ত বিভাগীয় নগরী ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় জেলা প্রশাসনের একাধিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এক হাজার ৪২৮টি মামলা হয়েছে। এ সময় ৯ লাখ ৯৯ হাজার ১৫৯ টাকা জরিমাণা আদায় করা হয়। এ সময় ২৭ ব্যক্তিকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়। ৩ হাজার ৯৭৯টি অভিযানে এক হাজার ৩৪১টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছ থেকে এই জরিমাণা আদায় করা হয়। সময়ের আগে বিকাশের দোকান খোলা, সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত না করা, অযথা রাস্তায় ঘোরাফেরা এবং রাস্তায় থাকা লোকজন কোন কারণ জানাতে না পারায় উল্লেখিতদের বিরুদ্ধে এ সব মামলা ও জরিমাণা করা হয়।
অতিরিক্ত জেলা ম্যজিস্টেট আরো বলেন, নিত্যপণ্যের বাজার মুল্য স্থিতিশীল, সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত ও মানুষকে ঘরে রাখার সরকারি নির্দেশনায় এই অভিযান চলছে। আইন অমান্যকারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি জনগণকে অহেতুক ঘোরাঘুরি না করে সরকারি নির্দেশনা মেনে ঘরে অবস্থান নিশ্চিত করে প্রশাসন ও আইন শৃংখলা বাহিনীকে সহযোগীতা সকলের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
Comments
Write a comment…