ময়মনসিংহে দুর্গাপুজা উদযাপনে আইনশৃংখলা বিষয়ক সভা

এম এ আজিজ, স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ ॥

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব সার্বজনীন শারদীয় দুর্গা পুজা ময়মনসিংহে এ বছর মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে সরকারী নির্দেশনানুযায়ী এবং স্বাস্থ্য বিধি মেনে উদযাপনের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার দুপুরে আইনশৃংখলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা পুলিশের উদ্যোগে পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে আসন্ন শারদীয় দূর্গপূজা উপলক্ষ্যে আইনশৃংখলা বিষয়ক এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় পুলিশ সুপার আহমারউজ্জামান বলেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা পুজা পালনের জন্য পূজামন্ডপ গুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে এ বছর পূজামন্ডপ গুলোতে আনসার ভিডিপি মোতায়েন থাকবে না, তবে পুলিশের মোবাইল টিম পূজা মন্ডপ গুলোতে টহল দিবে। শারদীয় দুর্গোৎসব ও দুটি ঈদসহ বাঙ্গালীদের তিনটি উৎসব। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও দুটি ঈদ উদযাপিত হয়েছে। সেইসব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে উৎসব করতে গিয়ে কেউ যেন আক্রান্ত না হয় তার দিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে। প্রতিটি পুজা মন্ডপ ও মন্দিরে জীবানুনাশক, সেনিটাইজার, হাতধোয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত এবং অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা রাখতে হবে। সন্ধ্যার আগেই সরকারি নির্দেশনা মেনে বিসর্জন দিতে হবে। নিরাপত্তা নিয়ে তিনি বলেন, এবার কোন মন্ডপে আনসার সদস্য ও পুলিশ থাকবেনা। তবে পুলিশের ভ্রাম্যমাণ দল ব্যাপকহারে থাকবে। নিজেদের মন্ডপ ও মন্দির নিজেদের পাহারার উদ্দোগ নিয়ে হবে। বাধ্যযন্ত্র সম্পর্কে তিনি বলেন, উৎসব নয় ধর্মীয় রীতি অনুসারে সতর্কতার সাথে পুজা উদযাপিত হবে। মনে রাখতে হবে উৎসবের উছিলায় চক্র যাতে কোন অঘটনা ঘটাতে না পারে তার জন্য পূজা সংশ্লিষ্ট ঢাক ঢোলের বাইরে ইলেক্ট্রনিক বাধ্যযন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। পুলিশ সুপার আরো বলেন, পূজা বিসর্জনের আগে র‌্যালী বা সারা শহর ঘুরে পরিবেশ বিনষ্ট না করে মন্ডপ থেকে সরাসরি বিসর্জন ঘাটে সন্ধ্যার আগেই বিসর্জন দিতে সকলের প্রতি আহবান জানান।

ধর্মীয় নেতারা বলেন করোনা ভাইরাসের কারণে সরকারী নির্দেশানুযায়ী ও স্বাস্থ্য বিধি মেনে দূর্গাপূজা উদযাপন করা হবে। মহানগরসহ জেলার ১৩টি উপজেলার ৭৫৬টি পুজা মন্ডপে দূর্গপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

আসন্ন শারদীয় দূর্গপূজা উপলক্ষ্যে আইনশৃংখলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী, মোহাম্মদ শাহজাহান, হাফিজুল ইসলাম ও ফজলে রাব্বী, প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক অমিত সাহা রায়, হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের জেলা শাখার সভাপতি এডভোকেট বিকাশ সাহা রায়, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এডভোকেট রাখাল চন্দ্র সরকার, দূর্গাবাড়ি মন্দিরের সাধারন সম্পাদক শংকর সাহা, মহানগর পূর্জা উদযাপন কমিটির সভাপতি এডভোকেট তপন দে, সাধারন সম্পাদক উত্তম চক্তবর্তী রকেট, রবীন্দু নাথ পাল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
করোনা ভাইরাসের কারণে সরকারী দির্নেশনা অনুযায়ী প্রতিমা বিসর্জন দেয়ার জন্য পুলিশ সুপার পূজা উদযাপন ও মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্ধের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। শারদীয় দুর্গা পুজা উপলক্ষ্যে আইনশৃংখলা বিষয়ক মত বিনিময় সভায় জেলার ১৩টি উপজেলার পূজা-উদযাপন কমিটির সভাপতি, সাধারন সম্পাদক, জেলা শাখার সভাপতি, সাধারন সম্পাদক ও বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জগন উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ সুপার আহমারউজ্জামান জানিয়েছেন গত বছরের চেয়ে এ বছর জেলার ১৩টি উপজেলার ১৫টি বেশী পূজা মন্ডপে সার্বজনীন শারদীয় দূর্গা উৎসব পালিত হবে।

টি.কে ওয়েভ-ইন