ময়মনসিংহে দুই শতাধিক বস্তিবাসির মাঝে খাদ্য বিতরণ করলেন ডিআইজি হারুন অর রশিদ

এম এ আজিজ, স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ : 

করোনা পরিস্থিতিতে আতংক না হয়ে সতর্কতার সাথে মোকাবেলা করার আহ্বান জানিয়েছেন, ময়মনসিংহ রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ। পুলিশকে আরো মানবিক আচরণের মাধ্যমে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা আহবান জানিয়ে দিনি বলেন, জনগণকে বোঝাতে হবে করোনা সারা বিশ্বে মহামারি আকার ধারণ করেছে। এই পরিস্থিতে সরকারের উদ্দেশ্য মানুষকে ঘরে রাখা। প্রয়োজন ছাড়া কেউ যেনো ঘর থেকে বের না হন। করোনা ভাইরাস যাতে সংক্রমণ করতে না পারে সব্বোর্চ্য সতর্কতার সাথে তার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। এছাড়া কেউ যাতে সমস্যায় না পড়ে তার দিকেও মানবিকতার সাথে পুলিশকে খেয়াল রাখেতে হবে। বুধবার ময়মনসিংহ নগরীর জুবিলীঘাট, বিপিন পার্ক, হাজি কামেম আলী কলেজের পিছনে, ব্রীজের নীচের আবাসন বস্তিবাসির মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণকালে ডিআইজি হারুন অর রশিদ এ সব কথা বলেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, যারা বিদেশ থেকে দেশে এসেছেন তাঁদেরকে অবশ্যই নিজের, পরিবারের এবং দেশের মানুষের স্বার্থে ১৪দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। বিদেশফেরতদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা মনে রাখবেন, নিজ ঘরে অল্প কয়েকদিন আটকে থাকাই আপনার এবং আপনার পরিবারের সকলের জন্য মঙ্গলময়। পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, একটা সময় সাধারণ মানুষ থানায় বা পুলিশের কাছে যেতে ভয় পেতো। এখন সেই পরিবেশ নেই। সেবার মানসিকতা ও মানবিক পুলিশ তৈরিতে কাজ করছি আমরা। করোনা পরিস্থিতিতে খেটে খাওয়া দরিদ্র দিন এনে দিন খাওয়া মানুষদের পাশে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে জেলা পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামানের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশ ওসি শাহ কামাল আকন্দের সহায়তায় ডিবির সেকেন্ড অফিসার আনোয়ার হোসেন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে ডিএসবি সদস্য দুই শতাধিক অসহায় বস্তিবাসির তালিকা করে তাদের হাতে সহায়তা স্লিপ পৌছে দেন।
পরে ডিআইজি করোনা ভাইরাস সংক্রমনরোধ জনিত সরকারী ছুটির কারণে সৃষ্ট ভুতরে পরিস্থিতির সুযোগে কেউ যাতে কারো উপর অন্যায়, অত্যাচার, চাঁদাবাজি করতে না পারে তার দিকে কঠোরভারে খেয়াল রাখতে পুলিশ সুপারসহ উপস্থিত পুলিশ সদস্যদেরকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখার আহবান জানান। মনে রাখতে হবে এক শ্রেণীর দুষ্টচক্র বিশেষ পরিস্থিতি বা যে কোন দুর্যোগকালীন সময়কে পুজি করে অসহায় মানুষকে আরো কঠিনতর অবস্থায় ফেলে দিতে লুটতরাজ করতে পারে। এ জন্য সকলকে সজাগ থাকতে হবে।
এ সময় পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির, মোঃ শাহজাহান, আল আমিন, কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মাহমুদুল ইসলাম, ডিবির ওসি শাহ কামাল আকন্দ, পুলিশ পরিদর্শক ফারুক আহম্মেদ সহ কোতোয়ালী ও ডিবি পুলিশের বিভিন্নস্তরের কর্মকর্তাগণ সাথে ছিলেন।

বেদে পরিবারদের মাঝে জেলা পুলিশের খাদ্য সহায়তা সম্পর্কে ডিবির ওসি বলেন, করোনা সংক্রমণরোধে টানা ১০দিনের সরকারী ছুটি ছিন্নমূল অসহায় বস্তিবাসিকে জেলা পুলিশের নিজস্ব তহবিল থেকে এই খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়। এ সব খাদ্য সামগ্রীর মাঝে ছিল ৫ কেজি চাল, দুই কেজি আলু, এক কেজি ডাল ও তেল লবণ এক কেজি।

টি.কে ওয়েভ-ইন