ময়মনসিংহে এসপির নির্দেশে রাতে বাড়ি বাড়ি খাদ্য বিতরণ করছে ডিবি।

এম.এ আজিজ, ময়মনসিংহ :

থাকবে অব্যাহত করোনা ভাইরাস বিশ্বব্যাপী একটি প্রকোপ। একটি মহামারি। ভাইরাস জনিত এই রোগে বিশ্ব দুনিয়া কাপছে। শত কোটি মানুষ চরম দুর্যোগের মধ্যে পড়েছে। এক অপরকে দূরে ঠেলে দিয়ে মানুষ মানুষের কাছ থেকে এড়িয়ে চলার চেস্টা করছে। যেন নিজ গৃহে পরবাসী। মানবতা হয়ে দাড়িয়েছে ক্রমান্বয়ে প্রখর। করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় প্রতিরোধ যুদ্ধে নেমেছে পুরো বিশ্ব। বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে দৈনন্দিন জীবন যাপন। এ যুদ্ধে ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়ছে কর্মজীবী মানুষ। বাংলাদেশও এই যুদ্ধ থেকে পিছিয়ে নেই। এই সমস্ত পিছিয়ে পড়া কর্মহীন মানুষদের রায় এবং তাদের পেটের আহার যোগাড় করতে সরকারী ও বেসরকারীভাবে পর্যাপ্ত ত্রাণ দেয়া হচ্ছে। সরকার প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যেই ঘোষনা দিয়েছেন, আপনারা ঘরে অবস্থান করুন। নিজে, পরিবার, সমাজ ও দেশকে বাচান। কেউ খাবারের জন্য অনাহারে থাকবেনা। অর্ধাহারে অনাহারে থাকা প্রতিটি মানুষের ঘরে খাবার পৌছে যাবে। জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিককর্মী, ও প্রশাসন আপনাদের ঘরে খাবার পৌছে দিবে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় ময়মনসিংহে অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাড়িয়েছে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন। পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামানের নির্দেশে পুলিশ রাতের বেলা খোঁজে খোঁজে অসহায়দের বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দিচ্ছে। মঙ্গলবার রাতে ডিবির ওসি শাহ কামাল আকন্দের নেতৃত্বে একটি টিম এই খাবার পৌঁছে দেয়। মঙ্গলবার রাতে ডিবি পুলিশ নগরীর ডিবি রোড, মুন্সি বাড়ি, চামড়া গুদাম এলাকায় এই খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেন। এর আগে ডিবি পুলিশ পুলিশ মঙ্গলবার ৮০ জন মাঝি ও জেলেসহ ,রংমিস্ত্রি, রিক্সা মিস্ত্রি,চা দোকানদার, প্রতিবন্ধি, বিধবা ও হকার সহ দুই শতাধিক অসহায়, বেকার,কাজহীন,নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করেন। এদিকে মঙ্গলবার বিকালে জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান ময়মনসিংহকে লকডাউন ঘোষণা করেছেন। এই লকডাউনে মানুষজনকে ঘরে থাকার অনুরোধ জানিয়ে ডিবি পুলিশ আহবান করছেন আপনারা ঘরে থাকুন, আমরা আপনাদের পাশে আছি। কারো কোন সমস্যা কিংবা খাবার সমস্যা হলে খবর পাওয়া মাত্র পুলিশ ও প্রশাসন ঘরেই খাবার পৌঁছে দিবে। ডিবির ওসি শাহ কামাল আকন্দ জানান, পুলিশ সুপার সহ উচ্চ পদস্থদের মোবাইল ফোন, ম্যাসেঞ্জারে এবং স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে তালিকা করে এই খাবার বিতরন করেন। তিনি আরো জানান, এর আগে থেকেই পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আহমার উজ্জামানের নিদেশে ডিবি পুলিশ সমাজের নিম্নবিত্ত, শ্রমজীবি কর্মহীন, বেকার হয়ে পড়া, দিন এনে দিন খাওয়া মানুষদের খুজে খুজে বের করে তাদেরকে পর্যায়ক্রমে সহায়তা করে আসছে। এ পযন্ত ৮ শতাধিক অসহায়দের মাঝে জেলা পুলিশের নিজস্ব তহবিলে খাবার বিতরন করা হয়েছে। এর মধ্যে দেড় শতাধিক শীল (নাপিত) বা সেলুনকর্মী রয়েছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকারি ছুটির কারণে সেলুন বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়ে। এতে তারা নিজেদের পরিবার পরিজন নিয়ে চরম সংকট সময় পাড় করছিলো। জেলা পুলিশ নিজেদের অর্থায়নে সমাজের নিম্নবিত্ত, শ্রমজীবি কর্মহীন, বেকার হয়ে পড়া, দিন এনে দিন খাওয়া মানুষদের সহায়তা করে আসছে। এই মানবিক পুলিশ সুপার বস্তিবাসী, অসহায়, অস্বচ্ছল, দিন এনে দিন খাওয়া, কর্মহীন, শ্রমিক, বেদে পরিবারদের খুঁজে খুঁজে তালিকা করে তাদের ঘরে ঘরে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করে আসছে। বিভাগীয় নগরীতে লকডাউন থাকায় না খেয়ে ফুটপাতে থাকা ভাসমানদের টানা সাতদিনে হাজারেরও বেশি অসহায়কে রান্না করা খাবারের প্যাকেট তুলে দেন। এ সব ঘটনায় পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামানের মানবাধিকতার খবর ব্যাপকভাবে চাউর হয়েছে। এছাড়াও ফেইসবুকে জানতে পেয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গু ৬ সদস্যের মানবেতর পরিবার ও স্বামীহারা এক নারীকে ওসি ডিবি শাহ কামাল আকন্দের মাধ্যমে অসহায় পরিবারদের খুঁজে খুঁজে ১০ দিনের খাবার তুলে দেন। এছাড়া এতিমখানার ৪৮ শিক্ষার্থীকে রাতব্যাপী ঘুরে ডিবির ওসি শাহ কামাল আকন্দের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশ ১০ দিনের খাদ্য সহায়তা এতিমদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেন। ময়মনসিংহের পুলিশ বাহিনী জনগণকে নিরাপত্তা দেয়ার সাথে সাথে মানবিক দায়িত্বটাও পালন করছে নিজেদের অনুসন্ধানী চোখ রেখে। পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামানের উদ্যোগে প্রতিদিন সহায়তার নানা কার্যক্রম চলাচ্ছে জেলা গোয়েন্দা সংস্থা। এছাড়াও এই পুলিশ সুপার বিভাগীয় নগরীর বলাশপুরের এক অসহায় পরিবারের ফোন রাতেই মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে (ডিবি) পুলিশের মাধ্যমে ১৫ দিনের খাবার পৌছে দেন। এভাবেই তিনি মধ্যবিত্ত লোকদেরকে গোপনে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। ডিবির ওসি আরো বলেন, লকডাউনে আপনারা ঘরে থাকুন। অসহায়দের পাশে রয়েছে জেলা পুলিশ। এছারা জেলা পুলিশের এই খাবার বিতরন অব্যাহত থাকবে। লকডাউন সফল করতে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।